kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

অবরুদ্ধ ইউএনও

শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২১ অক্টোবর, ২০২০ ১৫:৩৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



অবরুদ্ধ ইউএনও

বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে শারদীয় দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন উপলক্ষে সরকারের অনুদানবঞ্চিত হিন্দু সম্প্রদায়ের শতাধিক নারী-পুরুষ। এ সময় উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হেফাজত আরা মিরা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা পারভীন গাড়ি নিয়ে পাশ কেটে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরা ইউএনওর গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তাঁকে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ এসে পরিবেশ শান্ত করে। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, মানিকদিপা হিন্দুপাড়া শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ পূজামণ্ডপ একটি পুরানো পূজামণ্ডপ। প্রতিবছর তাঁরা উৎসব-আনন্দের মধ্য দিয়ে পূজা উদ্‌যাপন করেন। কিন্তু প্রশাসন তাদের সরকারি অনুদান থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে। গত বছরও তাদেরকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে অনেক কষ্টে অনুদান পেয়েছেন। এবার লিখিত আবেদন দেওয়ার পরও সরকারি অনুদান থেকে তাদের বঞ্চিত করা হয়েছে। অনুদান না পেলে প্রয়োজনে প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে ইউএনও অফিসের সামনে রেখে যাবেন বলে জানান তাঁরা।

মানিকদিপা হিন্দুপাড়া শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ পূজামণ্ডপ কমিটির সভাপতি মনোরঞ্জন চন্দ্র জানান, গত ২২ সেপ্টেম্বর সরকারি অনুদানের জন্য ইউএনও বরাবর লিখিত আবেদন করেন। এরপর অনুদানের জন্য পাঁচবার ইউএনও অফিসে ধরনা দিয়েছেন। প্রতিবারই ইউএনও অসদাচরণ করেছেন। এমনকি বিরক্ত হয়ে ধমক দিয়ে অফিস থেকে বের করে দিয়েছেন। সব শেষে তাদের অনুদান থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে অনুদান থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি জানালে তাঁরা ইউএনওর সুপারিশ চান। কিন্তু ইউএনও কোনো সহযোগিতা না করায় বাধ্য হয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন আজ (বুধবার) ইউএনও অফিসের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকালে ইউএনও তাঁদের দেখার পরও না দেখার ভান করে পাশ কেটে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিক্ষোভকারীরা ইউএনওর গাড়ির সামনে ব্যারিকেড দিয়ে তাঁকে অবরুদ্ধ করে এবং সরকারি অনুদান প্রদানের দাবি জানায়।

বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে পড়ার পর অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে মুক্ত হতে উপজেলা চেয়ারম্যান এবং থানার ওসিকে ফোন করেন ইউএনও মাহমুদা পারভীন। ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন উপজেলা চেয়ারম্যান প্রভাষক সোহরাব হোসেন ছান্নু এবং ওসি আজিম উদ্দীন। তাঁরা অনুদান প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে মর্মে আশ্বস্ত করলে বিক্ষোভকারীরা শান্ত হয়।

বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ শাজাহানপুর উপজেলা শাখার সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নীরেন্দ্র মোহন সাহা জানান, প্রতিবছর শাজাহানপুর উপজেলায় ৫৪টি মণ্ডপে পূজা উদযাপন হয়। অজ্ঞাত কারণে গত বছর থেকে মানিকদিপা রাধা গোবিন্দ পূজামণ্ডপের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। গত বছর অনেক চেষ্টা করে তাদেরকে অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এবারও ইউএনও থেকে শুরু করে ডিসি অফিস পর্যন্ত আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা পারভীন জানান, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ ৫৩টি পূজামণ্ডপের তালিকা দিয়েছে। ওই তালিকায় মানিকদিপা রাধা গোবিন্দ পূজামণ্ডপের নাম না থাকায় তারা অনুদান পায়নি। তা ছাড়া গত মঙ্গলবার মানিকদিপা রাধা গোবিন্দ পূজামণ্ডপের আবেদন পাওয়ার পর সুপারিশসহ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা