kalerkantho

রবিবার । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৯ নভেম্বর ২০২০। ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

চায়ের দোকানি থেকে খামার মালিক... আজাদের ভাগ্য পরিবর্তন

উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

২১ অক্টোবর, ২০২০ ১৫:১৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চায়ের দোকানি থেকে খামার মালিক... আজাদের ভাগ্য পরিবর্তন

হাঁসের খামার গড়ে চমক সৃষ্টি করেছেন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নের মধ্য উমানন্দ জামতলা বাজারের চায়ের দোকানদার আবুল কালাম আজাদ। গত দুই বছরে শুধু নিজে স্বাবলম্বী হননি, প্রেরণা জুগিয়েছেন অন্যদের মধ্যেও। সেই সঙ্গে পাল্টে গেছে তাঁর অভাবের জীবন।

উপজেলার জামতলা বাজারের চায়ের দোকানি আবুল কালাম আজাদ টিভি ও ফেসবুকে হাঁস লালন-পালন করার দৃশ্য দেখে খুবই উদ্বুদ্ধ হন। এরপর অল্প অল্প করে জমাতে থাকেন টাকা। দুই বছর আগে চায়ের দোকানের ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে জমানো প্রায় এক লাখ টাকা নিয়ে শুরু করেন উন্নত জাতের হাঁস পালন। প্রথমে ২৫-৩০টি হাঁস দিয়ে শুরু করেন খামারের স্বপ্ন পূরণের কাজ। সেই শুরু, আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি আবুল কালাম আজাদকে। এরপর গত দুই বছরে ছোট-বড় মিলিয়ে তার খামারে বর্তমানে প্রায় ছয় হাজারের অধিক হাঁস রয়েছে। খামারে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটিয়ে তা বিক্রি করছেন। ডিম পাড়া হাঁস রয়েছে ১০০টি। পাশাপাশি দুই শতাধিক দেশীয় মুরগি পালন করার পাশাপাশি মুরগির বাচ্চাও উৎপাদন করছেন তিনি। দুই দিনে এক লট অর্থাৎ ১২০০ হাঁসের বাচ্চা উৎপাদনে তার খরচ হয় প্রায় ১৫ হাজার টাকা। আর বিক্রি করেন প্রায় ৩৫ হাজার টাকায়। খরচ বাদ দিয়ে সব মিলিয়ে মাসে আয় হচ্ছে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা। প্রথমে ১৫ হাজার টাকায় দুটি পুকুর দুই বছরের জন্য লিজ নেন। সেই পুকুরে হাঁস পালনের পাশাপাশি সেখানে মাছ চাষ করছেন। ফলে মাছও বিক্রি করতে পারছেন। সেই সঙ্গে হাঁসেরও খাবার জুটছে।

অভাবের সংসারে ১০ জনের ভরণপোষণ মেটাতে হিমশিম খেতে হতো আবুল কালাম আজাদকে। হাঁস-মুরগির খামার করে অনায়সে সংসারের অভাব দূর করার পাশাপাশি সচ্ছলতায় ফিরেছেন তিনি। তাঁর খামারে এখন রয়েছে উন্নত জাতের খাকি ক্যাম্বল, জেনডিন, রানাডা ও ব্লাকো জাতের হাঁস।

তবে এই খামারির অভিযোগ, উলিপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা না পাওয়ায় পার্শ্ববর্তী গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলা থেকে চিকিৎসাসেবা নিতে হচ্ছে। এতে করে কিছুটা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে এই খামারিকে। এ ছাড়া করোনায় চার শতাধিক হাঁস-মুরগি মারা গেছে।

খামারি আবুল কালাম আজাদ বলেন, চায়ের দোকান করার সময় টেলিভিশন, মোবাইল ও ফেসবুকে সরকার খামারের ওপর  উৎসাহ প্রদান থেকে আমি খামার শুরুর স্বপ্ন দেখি। সেই থেকে চায়ের দোকান না করে হাঁসের খামার করার সিদ্ধান্ত নিই। স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য জমানো এক লাখ টাকা সংগ্রহ করে চায়ের দোকান বাদ দিয়ে শুরু করি খামার। বাড়তি শ্রমিক কাজ না করলেও পরিবারের স্ত্রী, সন্তান এবং পুত্রবধূরাও সহযোগিতা করছেন। বর্তমানে এই খামার থেকে ছয়-সাত লাখ টাকা পুঁজি  হয়েছে।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ প্রধান বলেন, তি‌নি আমাদের কাছে আসেননি। আমাদের কাছে এলে অবশ্যই তাঁকে সহযোগিতা করা হবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল হাই জানান, স্বল্প পুঁজি নিয়ে আবুল কালাম আজাদ যেভাবে এগিয়ে এসেছেন, তেমনিভাবে বেকার যুবকরাও যদি এগিয়ে আসে, তাহলে আমিষজাতীয় খাদ্যে দেশ পরিপূর্ণ হবে। পাশাপাশি দরিদ্রতা দূর হবে। এ ছাড়া জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে  সহযোগিতাও করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা