kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ১ ডিসেম্বর ২০২০। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪২

শিবচর উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচন

বাড়ির পাশের কেন্দ্র ছাড়া অন্য কেন্দ্রে এজেন্ট না দিতে পারার অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীর

শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি    

২১ অক্টোবর, ২০২০ ১২:১২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাড়ির পাশের কেন্দ্র ছাড়া অন্য কেন্দ্রে এজেন্ট না দিতে পারার অভিযোগ বিএনপি প্রার্থীর

শিবচর উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচনে বাড়ির পাশের কেন্দ্র ছাড়া বিএনপি প্রার্থী কোনো কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পারেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার ভোটকেন্দ্রগুলো পরিদর্শনে এর সত্যতাও মিলেছে। এমনকি প্রার্থীর বাড়ি সংলগ্ন কেন্দ্রগুলোতেও ভোটের দিন প্রার্থীর না যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। নির্বাচনী ফলাফলে দেখা যায়, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আ. লতিফ মোল্লা নৌকা প্রতীকে এক লাখ ৮৪ হাজার ৬৩৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বিএনপি মনোনীত চৌধুরী নাদিরা আক্তার ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮৭৪ ভোট।

সরেজমিনে জানা যায়, শিবচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপনির্বাচনে প্রতিটি কেন্দ্রে ৫ জন পুলিশ ও ১২ জন আনসার সদস্য নিয়োগ করা হয়। এ ছাড়া র‍্যাবের ৪টি টহল টিম, ৩ প্লাটুন বিজিবি, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ১৩টি টিমসহ বিপুলসংখ্যক আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়োজিত ছিল। জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন ও পুলিশ সুপার মো. মাহবুব হাসানও দিনভর বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। ভোট চলে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত। নির্বাচনে এক লাখ ৩৭ হাজার ৮৯০ জন পুরুষ ও এক লাখ ২৬ হাজার ৬০৫ জন নারী ভোটারসহ মোট দুই লাখ ৬৪ হাজার ৪৯৫ জন ভোটার। উপজেলার ১০১টি ভোটকেন্দ্র ৫১৩টি বুথে ভোট দেন ভোটাররা। নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. লতিফ মোল্লা ও ধানের শীষ প্রতীকে বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নাদিরা আক্তার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সরেজমিনে বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নাদিরা আক্তারের বাড়ির সামনের আর এম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুর আড়াইটার দিকে গেলে বিএনপির চারজন এজেন্ট দেখা যায়। 

বিএনপির এজেন্ট নূর জাহান, আ. লতিফ, নুরুল ইসলামের কাছে ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতির কথা জানতে চাইলে তারা প্রার্থীর বাড়ির পাশের ভোটকেন্দ্রে সুষ্ঠু ভোট হচ্ছে বলে জানান। তবে বিএনপিপ্রার্থীর বাড়ির এক থেকে দেড় কিলোমিটারের মধ্যে তিনটি কেন্দ্রে ৩১ নম্বর খাড়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাড়ে ১১ রশি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে, ৩৩ নম্বর সাড়ে বিশ রশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুপুরে গিয়ে বিএনপির কোনো এজেন্ট দেখা যায়নি। বাড়ির পাশে হওয়া সত্ত্বেও সাড়ে ১১ রশি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ও ৩৩ নম্বর সাড়ে বিশ রশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বিএনপিপ্রার্থী যাননি বলে প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ ছাড়া পৌরসভা, পাচ্চর, সন্ন্যাসীরচর, উমেদপুর, বহেরাতলা, বাঁশকান্দিসহ বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে কেন্দ্রগুলোতে বিএনপির কোনো এজেন্ট দেখা যায়নি। 

বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নাদিরা আক্তার বাড়ির সামনের আর এম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের এজেন্ট নুরুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকেই কেন্দ্রে আছি, কোনো সমস্যা নেই। এখানে সুষ্ঠুভাবে ভোট হচ্ছে। 

ওই এলাকার মিরাজ লপ্তি নামের এক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বলেন, তাঁর বাড়ির কাছাকাছি আমাদের সেন্টার হলেও আমাদের কেন্দ্রে তিনি ভোটের পরিবেশ দেখতে আসেননি। প্রচারণায়ও আসেননি। 

একই কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকেই উভয় প্রার্থীর এজেন্টদের উপস্থিতিতে ভোটাররা ভোট দিয়েছেন।

সাড়ে এগার রশি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা প্রভাষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই কেন্দ্রে বিএনপির কোনো এজেন্ট আসেনি। 

৩১ খাড়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমার কেন্দ্রে চারজনের তালিকা দিলেও একজন বিএনপির এজেন্ট এসেছিল। বিএনপি প্রার্থী এ কেন্দ্রে ভোট দিয়ে তার সঙ্গে কথাও বলেছেন। বিএনপি এজেন্ট দুপুরে খাওয়ার কথা বলে চলে গেছেন, আর আসেননি। 

নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি প্রার্থী চৌধুরী নাদিরা আক্তার অনিয়মের অভিযোগ তুলে বলেন, ভয়ভীতি দেখানোয় এজেন্টরা কেন্দ্রে আসেননি। সারা দিন খোঁজখবর নিয়ে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিকেলে ফলাফল বর্জন করেছি।  

আওয়ামী লীগ প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. লতিফ মোল্লা বলেন, বিএনপির বিগত দিনের কার্যকলাপের কারণে তারা বেশির ভাগ কেন্দ্রে এজেন্ট দেওয়ার মতো লোক খুঁজে পায়নি।  

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন জানান, করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি ও নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে শিবচরে সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন চলাকালে কোনো প্রার্থীর পক্ষে লিখিত বা মৌখিক কোনো প্রকার অভিযোগ পাইনি আমি। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা