kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

যক্ষ্মার টিকায় শিশু মৃত্যু!

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০২০ ২০:১৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



যক্ষ্মার টিকায় শিশু মৃত্যু!

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে যক্ষ্মা প্রতিরোধে বিসিজি টিকা দেওয়ার পর মোহসিনা আক্তার রুহানা নামে ২২দিন বয়সি এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বাস্থ্যকর্মীকে অবরুদ্ধ করে রাখে এলাকাবাসী। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু ওই বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের জামাল গ্রামের আব্দুর রহিম মিয়ার ছেলে।

পরিবারের অভিযোগ, রুহানাকে টিকা দেওয়ার জন্য স্থানীয় টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে যান তার দাদি। শিশুটির শরীরে টিকা দেওয়ার আগে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করেই যক্ষ্মা প্রতিরোধক এ টিকা পুশ করা হয়। এমনকি মেয়াদোত্তীর্ণ একাধিক বিসিজি টিকা দেওয়া হয় শিশুটিকে। এতে শিশুটি শারীরিক অসুস্থ থাকায় তার শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়ে শিশুটি মৃত্যুবরণ করে।

শিশুর দাদি জানান, টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার পর শিশুটিকে কিছু একটা খাওয়ায় স্বাস্থ্যকর্মী। এরপর তার নাতিকে টিকা পুশ করা হয়। এমনকি এ সময় দুটি সিশি থেকে আলাদা দুটি টিকা একত্রে পুশ করেন ওই নারী স্বাস্থ্যকর্মী। টিকাদান শেষে শিশুটিকে কাপড় দিয়ে ঢেকে বাড়িতে নিয়ে যান তার দাদি। বাড়ি যাওয়ার ১০ মিনিট পরে শিশুটির মা শিরিনা বেগম বুকের দুধ খাওয়াতে গেলে দেখে শিশুটির নাখ ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হচ্ছে। নাক-মুখ দিয়ে রক্তপড়া দেখে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেন শিশুর পরিবার। কিন্তু অ্যাম্বুলেন্স আসার আগেই মায়ের কোলেই শিশুটির মৃত্যু হয়।

শিশুর বাবা রহিমের অভিযোগ, একাধিক টিকা দেওয়ার কারণে তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীর ভুল টিকার কারণে তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। কাজেই আইনি সহায়তা চাইবেন তিনি।

অভিযুক্ত স্বাস্থ্য সহকারি লুচি বেগম সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, শিশুটিকে একাধিক নয়, শুধু বিসিজি টিকা দেওয়া হয়েছে। টিকাদানের আগে শিশুটির শারীরিক অবস্থাও ভালো ছিলো।

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আশরাফুজ্জামান সরকার জানান, বিসিজি টিকাটি শুধুমাত্র যক্ষ্মা প্রতিরোধক। টিকা পুশ করার ফলে এখন পর্যন্ত কোন শিশুর মৃত্যু হয়নি। এমনকি শিকার মেয়াদ ছিলো ২০২১ সাল পর্যন্ত। তবে অন্য কোনো রোগের কারণে এমনটি ঘটতে পারে। তার পরেও বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা