kalerkantho

বুধবার । ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৫ নভেম্বর ২০২০। ৯ রবিউস সানি ১৪৪২

চাঁদপুরে নদীতে চলছে চোর পুলিশ খেলা

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০২০ ০০:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চাঁদপুরে নদীতে চলছে চোর পুলিশ খেলা

প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচির ষষ্ঠ দিনেও চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনায় নৌ পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এমন অভিযানের মধ্যেও জেলেরা অভিযানকারীদের সঙ্গে চোর-পুলিশ খেলা খেলছে। এদিকে সুযোগ বুঝে জেলেরা নদীতে জাল ফেলছে। অন্যদিকে অভিযানের পর সেই জাল জব্দ করা হচ্ছে। 

সোমবার ভোর থেকে জেলার পদ্মা ও মেঘনা নদীর ষাটনল থেকে দক্ষিণের চরভৈরবী পর্যন্ত প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বেশ কয়েকটি দল এমন অভিযানে অংশ নিয়েছে। এতে নৌ পুলিশের একাধিক দল তাদের সঙ্গে দেখা গেছে। অভিযানকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টহল দেখে জাল ও নৌকা রেখে পালিয়ে যায় জেলেরা। তবে এর মধ্যেও পৃথক অভিযান চালিয়ে ৫৫ জেলেকে আটক করা হয়েছে। এদের ৪০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অপরিণত বয়সের হওয়ায় ১৫ জনকে আর্থিক জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা। এ সময় প্রায় দুই লাখ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল, ইঞ্জিনচালিত ৬টি মাছ ধরার ট্রলার এবং ২০০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়। 

এদিকে নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পৃথক অভিযান সোমবার ভোর থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ১৫ জন জেলেকে আটক করে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিপুল পরিমাণ জাল ও ইলিশ মাছ জব্দ করা হয়েছে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, পদ্মা ও মেঘনা নদীর বিভিন্ন এলাকায় জাল পেতে রেখেছেন জেলেরা। তবে দূর থেকে অভিযানকারী দল দেখা মাত্র জেলেরা জাল ফেলে নিরাপদ আশ্রয়ে গা ঢাকা দেন।

অন্যদিকে অনেকেই বলেছেন, মা ইলিশ সংরক্ষণের ২২ দিনের যে কর্মসূচি চলছে তাতে প্রশাসন, কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ, জেলা পুলিশ ও মৎস্য বিভাগের সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় নেই। এদের মধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের টহল অব্যাহত রাখলেও প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা কর্মকর্তাদের সরব উপস্থিতি নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে আজ মঙ্গলবার। এ জন্য সেখানে দায়িত্ব পালনে ব্যস্ততার কারণে এই সময় মা ইলিশ সংরক্ষণ কর্মসূচিতে তাদের অংশগ্রহণ কিছুটা সীমিত হয়ে পড়েছে।  

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকী জানান, চাঁদপুরের নদী সীমানার প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকায় এই সময় টহল জোরদার করতে ১০টি দল দিনরাত দায়িত্ব পালন করছে। গত ১৪ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া মা ইলিশ সংরক্ষণে এই অভিযান চলবে আগামী ৪ নভেম্বর পর্যন্ত। এ সময় উপকূলের ইলিশ বিচরণের নদ-নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও মজুদ নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা