kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

২০ শয্যার কভিড-১৯ ইউনিট উদ্বোধন

কক্সবাজারে কভিড-১৯ চিকিৎসায় হাসপাতালে সুবিধা বাড়ল

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার    

১৯ অক্টোবর, ২০২০ ২৩:১৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কক্সবাজারে কভিড-১৯ চিকিৎসায় হাসপাতালে সুবিধা বাড়ল

জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও  সরকারের সঙ্গে মিলে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে কভিড-১৯ এর গুরুতর রোগীদের চিকিৎসার জন্য বর্ধিত স্বাস্থ্যসেবা উদ্বোধন করেছে। আজ সোমবার দুপুরে সদর হাসপাতালে ২০ শয্যায় বর্ধিত অংশে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য এই সুবিধার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও কক্সবাজার-৩ সদর-রামু আসনের সাংসদ সাইমুম সারওয়ার কমল, সদর হাসপাতালের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ও সহকারী পরিচালক ডা. রফিক-উস-সালেহীন, কক্সবাজার মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. অনুপম বড়ুয়া, জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাহীন আব্দুর রহমান, কক্সবাজার পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্টের প্রতিনিধি, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের হেলথ সেক্টর কোঅর্ডিনেটর ডা. আবু মো তোহা, ইউএনএইচসিআর-এর সিনিয়র অপারেশনস কোঅর্ডিনেটর হিনাকো টোকি ও অন্যান্য।

২০২০ সালের জুন মাসে ইউএনএইচসিআর-এর সহযোগিতায় কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রথম নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ)-এর উদ্বোধন করা হয়। গুরুতর রোগীদের জন্য নির্মিত আইসিইউতে বর্তমানে আছে ১০টি বেড, ১১টি ভেন্টিলেটর ও ২টি পোর্টেবল ভেন্টিলেটর; আর এইচডিইউ-তে আছে ৮টি শয্যা। আজ সোমবার  নতুন করে যুক্ত হতে যাওয়া ২০টি শয্যার মাধ্যমে গুরুতর কোভিড-১৯ রোগীদের আরও বেশি চিকিৎসা সেবা দেওয়া যাবে।

অতিরিক্ত এই ২০ শয্যার পাশাপাশি ইউএনএইচসিআর একটি ওয়ার্ড তৈরি করে দিচ্ছে সম্পূর্ণ নতুন করে। এছাড়া ১০ জন মেডিক্যাল ডক্টর, ১৫ জন স্টাফ নার্স, একজন সিনিয়র নার্স, একজন ইনফেকশন প্রিভেনশন এন্ড কন্ট্রোল সুপারভাইজার, ৮ জন ক্লিনার ও ৮ জন ওয়ার্ড স্টাফসহ মোট ৪৩ জন নতুন স্টাফের দায়িত্ব নিচ্ছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা। এছাড়া বেড, দেয়াল থেকে সরবরাহকৃত অক্সিজেন, অক্সিজেন পাম্প, ইনফিউশন এন্ড সিরিঞ্জ পাম্প, এবং স্পেশালাইজড মেডিক্যাল পার্সোনাল প্রোটেক্টিভ ইকুইপমেন্ট (পিপিই)-র মতো বিশেষায়িত বিভিন্ন উপকরণ ও ঔষধও প্রদান করা হয়েছে।

হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও সাংসদ সাইমুম সারওয়ার কমল অনুষ্ঠানে বলেন, 'শরণার্থী ও স্থানীয় জনগণের জন্য ইউএনএইচসিআর ও জাতিসংঘের অন্যান্য সংস্থার সহায়তা আমরা সব সময় মনে রাখবো। পারস্পরিক সহযোগিতা ও একসাথে কাজ করার সদিচ্ছা না থাকলে কেউই সামনে এগোতে পারে না।'

কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ও সহকারী পরিচালক ডা. রফিক-উস-সালেহীন বলেন, 'মহামারির শুরুতে যখন সবাই আতঙ্কে উদ্বিগ্ন হয়ে সমাধান খুঁজছিল, ইউএনএইচসিআর তখন সবার আগে সামনে এগিয়ে আসে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে। কক্সবাজারের মত একটি প্রান্তিক জেলায় এরকম চমৎকার সেবা দেখতে পাওয়া আসলেই দারুণ।'

গত জুন মাসের ২০ তারিখে আইসিইউ ও এইচডিইউ উদ্বোধনের পর থেকে এই বিশেষায়িত বিভাগে ১২৪ জন সংকটাপন্ন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা নিয়েছেন। এই রোগীদের মধ্যে আছেন শরণার্থী ও কক্সবাজারের স্থানীয় বাংলাদেশী উভয় জনগোষ্ঠীর মানুষেরা।

কক্সবাজার জেলায় কভিড-১৯ প্রতিরোধ ও মোকাবেলায় বাংলাদেশ সরকারের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ইউএনএইচসিআর ও অন্যান্য সকল মানবিক সংস্থা। পুরো জেলা জুড়ে ১৪টি সিভিয়ার একিউট রেস্পিরেটরি ইনফেকশন আইসোলেশন এন্ড ট্রিটমেন্ট সেন্টার (সারি আইটিসি) গড়ে তোলা হয়েছে, যেখানে মাঝারি ও তীব্রভাবে আক্রান্ত কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজারে ইউএনএইচসিআর-এর সিনিয়র অপারেশনস কোঅর্ডিনেটর হিনাকো টোকি বলেন, 'করোনাভাইরাস অতিমারী সারা বিশ্বে বিশাল একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে। এই ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধে বাংলাদেশ সরকারের অংশীদারিত্বের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। কভিড-১৯-এ আক্রান্ত শরণার্থী ও কক্সবাজারের স্থানীয় জনগণ, সকলে যেন সম্ভাব্য সর্বোচ্চ সেবা পায়, সেটি নিশ্চিত করার জন্য আমরা একসঙ্গে কাজ করে যাব'।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা