kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

উলিপুরে পোকা নিধনে আলোক ফাঁদের দিকে ঝুঁকছেন চাষিরা

রোকনুজ্জামান মানু, উলিপুর (কুড়িগ্রাম)   

১৯ অক্টোবর, ২০২০ ২২:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উলিপুরে পোকা নিধনে আলোক ফাঁদের দিকে ঝুঁকছেন চাষিরা

কুড়িগ্রামের উলিপুরে রোপা আমন ক্ষেতে পোকা মাকড় চিহ্নিত ও নিধনের জন্য কৃষিবান্ধব পদ্ধতি আলোক ফাঁদের দিকে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছেন কৃষকরা। নদ-নদী বেষ্টিত উত্তরের জেলা কুড়িগ্রাম ধান উৎপাদনে বিখ্যাত। কিন্ত আমন ক্ষেতে বিভিন্ন রোগ-বালাই আর পোকার আক্রমণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয় চাষিদের। প্রতিবছর বিভিন্ন পোকার আক্রমণে কৃষকের ফসল উৎপাদন কমে যায়। কীটনাশক প্রয়োগ করেও তা কোনো কাজে আসে না। ফলে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে পোকা মাকড় নিধনে আলোক ফাঁদের দিকে ঝুঁকছেন চাষিরা।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সন্ধ্যা নামার সাথে সাথেই পাঁচ থেকে ছয় ফুট লম্বা বাঁশের খুঁটির মাথায় বৈদ্যুতিক বাল্ব জ্বালিয়ে নিচে একটি বড় গামলা বা পাত্রে ডিটারজেন্ট পাউডার অথবা কেরোসিন মিশ্রিত পানি রাখা হয়। এরপর ফাঁদের আলোর ঝলকানীতে আকৃষ্ট হয়ে জমির ক্ষতিকর পোকামাকড় পাত্রের পানিতে পড়ে মারা যায়। এ ছাড়াও চার্জিং বাল্ব লাগিয়েও আলোক ফাঁদ তৈরি করা যায়। এভাবে আলোক ফাঁদ ব্যবহারের মাধ্যমে ফসলের ক্ষতিকর ও উপকারী পোকার উপস্থিতি নির্ণয় করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় ২৩ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে আমন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও চাষাবাদ করা হয়েছে ২৪ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু দফায় দফায় বন্যায় এ এলাকায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 

উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আমন ক্ষেতে মাজরা পোকা, সবুজ পাতা ফড়িং, পাতা মোড়ানো পোকার উপস্থিতি দেখা গেছে। আর উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাগণ বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সাথে নিয়ে এসব জমিতে ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি ও পোকামাকড় নিধনে পরিবেশবান্ধব আলোক ফাঁদ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এরকম সহজ ও বিষমুক্ত পদ্ধতিতে আগ্রহি হচ্ছেন কৃষকরা। 

উপজেলার নাওড়া গ্রামের কৃষক মন্টু মিয়া, হাতিয়া ভবেশের আবু বক্কর, হোসেন আলী, আঠারপাইকা গ্রামের মন্জু মিয়া, মুকুল সরকার, মমিনুল ইসলাম, আব্দুর রাজ্জাকসহ একাধিক কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর আমন ক্ষেতে নানা রকম রোগ বালাই হয়। কয়েক দফা কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোনো কাজ হয় না। উৎপাদন খরচও বৃদ্ধি পায়। কিন্ত আলোক ফাঁদের মাধ্যমে পোকার উপস্থিতি সহজেই শনাক্ত করা যায়।

উপজেলা কৃষি বিভাগের উপ-সহকারি রিক্তা পারভীন, আবু সুফিয়ান, আশরাফুল ইসলামসহ কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, আলোক ফাঁদের মাধ্যমে জমিতে ক্ষতিকর ও উপকারী পোকার উপস্থিতি নির্ধারণ করা যায়। ফলে সে অনুযায়ী সঠিক দমন ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে। আলোক ফাঁদ পদ্ধতিটি এ অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, এ উপজেলায় ১৩টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৪০টি ব্লক রয়েছে। প্রতি বুধবার সকল ব্লকে এক সাথে আলোক ফাঁদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। একেকটি ব্লকে ২০টি করে আলোক ফাঁদ তৈরি করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা