kalerkantho

সোমবার । ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ৩০ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

প্রতিপক্ষকে 'গণধর্ষণ' মামলায় ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ধর্ষণ মামলার আসামি হয়ে কারাগারে

সোনাগাজী (ফেনী) প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০২০ ২১:৩৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্রতিপক্ষকে 'গণধর্ষণ' মামলায় ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ধর্ষণ মামলার আসামি হয়ে কারাগারে

ফেনীর সোনাগাজীতে নবম শ্রেণির (১৫) এক স্কুলছাত্রী প্রেমিকাকে দিয়ে প্রতিপক্ষের লোকদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ মামলা সাজাতে গিয়ে আরিফুল ইসলাম সাকিব (২৪) নামে এক যুবক ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ মামলায় নিজেই ফেঁসে গেলেন। রবিবার রাতে তাকে সোনাগাজী সদর ইউনিয়নের পূর্ব সুজাপুর বজল সারেং বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে তাকে আদালাতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। সোমবার সকালে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ওই ছাত্রীর শারীরিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

পুলিশ জানায়, পূর্ব সুজাপুর গ্রামের বজল সারেং বাড়ির মৃত আবুল কাসেমের ছেলে আরিফুল ইসলাম সাকিব একই গ্রামের এক প্রবাসীর স্কুলপড়ুয়া নবম শ্রেণির ছাত্রীর সাথে দীর্ঘ ৮ মাস পূর্বে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এই সম্পর্কের জেরে গত ২৮ আগস্ট সাকিব ওই ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে তার বসতঘরের শয়নকক্ষে বিয়ের প্রলোভনে তাকে ধর্ষণ করে। ওই দিন ছাত্রীর মা তার নানুর মৃত্যুজনিত কারণে তার নানার বাড়িতে ছিলেন। ছাত্রীর সাথে তার ছোটবোন থাকলেও বিষয়টি কাউকে না জানানোর হুমকি দেন সাকিব। এদিকে সাকিবের সাথে এলাকায় আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সাথে বিরোধ চলে আসছে। এই বিরোধকে কেন্দ্র করে সে ওই ছাত্রীকে 'পালাক্রমে ওই ৭-৮ জন যুবক ধর্ষণ করেছে' মর্মে থানায় অভিযোগ দিতে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে।

সাকিবের কথামত ওই ছাত্রী এক মাস পূর্বে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে মর্মে ৭-৮ জনের নাম উল্লেখ করে গত ১৫ অক্টোবর সোনাগাজী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। একই দিন রাতে ছাত্রীর মা তার মেয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়নি দাবি করে থানা থেকে তার মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে যান। সাকিব ওই ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে মর্মে তার মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিওর জবানবন্দি ফেনীর বিভিন্ন সাংবাদিকদের কাছে প্রেরণ করেন।

বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা তৎপর হয়ে উঠলে পুলিশও তৎপর হয়ে ওঠে। পুলিশ অনুসন্ধান চালিয়ে ছাত্রী ও ছাত্রীর মাকে জিজ্ঞাসাবাদে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসে। এ ছাড়া সাকিবের মুঠোফোনে ভিডিও এবং কথোপোকথনের রেকর্ডিং পর্যালোচনা করলে রহস্য উদ্‌ঘাটন হয়। একপর্যায়ে ওই ছাত্রী তাকে ধর্ষণ ও সাকিবের পাতানো গণধর্ষণ মামলার বিষয়টি স্বীকার করে মামলা দায়ের করে।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা