kalerkantho

শুক্রবার । ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৭ নভেম্বর ২০২০। ১১ রবিউস সানি ১৪৪২

চার অপমৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক   

১৯ অক্টোবর, ২০২০ ১৮:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



চার অপমৃত্যু

মাছের ঘেরে যুবকের লাশ
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে এক যুবককে তার ঘেরের বাসায় শ্বাস রোধ করে হত্যা করা হয়েছে। আজ সোমবার বিকাল ৩টার দিকে খবর পয়ে থানা পুলিশ নিহতের চিংড়ি মাছের ঘের থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। রবিবার রাতের কোনো একসময় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম চন্দ্রশেখর সরকার (২৪)। সে উপজেলার শোভনালী গ্রামের শঙ্কর সরকারের ছেলে। 

এলাকাবাসী ও থানা পুলিশ জানায়, প্রতিদিনের মতো গত রবিবার রাতেও চন্দ্রশেখর ঘের পাহারার জন্য নিজস্ব চিংড়ি ঘেরে যায়। রাতের কোনো একসময় দুর্বৃত্তরা তার শ্বাস রোধ করে হত্যা করে। পরে তার লাশ ঘেরের মধ্যে থাকা ডালপালার মধ্যে ফেলে রেখে যায়।

মৃতের কাকা চিত্তরঞ্জন সরকার জানান, ভাইপো চন্দ্র শেখর রাতে শোভনালী বিলের মধ্যে তার নিজস্ব মাছের ঘেরের বাসায় যায়। সেখানে প্রতিদিনের মতো রবিবার রাতে ঘের পাহারা দিচ্ছিল। সোমবার সকাল গড়িয়ে দুপুর হতে চললেও সে বাড়ি ফিরে আসেনি। এলাকায় তার খোঁজ না পেয়ে ঘেরের বাসায় খুঁজতে যান তিনিসহ পরিবারের সদস্যরা। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ঘেরে দেওয়া ডালপালার মধ্যে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে থানা পুলিশকে খবর দেন তারা। বিকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে তার মরদেহ উদ্ধার করে।

আশাশুনি থানার ওসি গোলাম কবির জানান, তাকে শ্বাস রোধ করে ও অণ্ডকোষ চেপে ধরে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য তার মরদেহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। নিহতের সাথে কারোর পূর্ব বিরোধ ছিল কি-না তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে।

ধানক্ষেত যুবকের গলাকাটা লাশ
গাজীপুর মহানগরীর পোড়াবাড়ির নান্দুয়াইন এলাকার ধানক্ষেত থেকে সোমবার এক যুবকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আনুমানিক ২৮/৩০ বছর বয়সী যুবকের পরিচয় পাওয়া যায়নি। নিহতের পরনে ছিল ব্লু জিন্স প্যান্ট ও নীল ফুলহাতা শার্ট রয়েছে।  

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর থানার ওসি আলমগীর ভূইয়া জানান, সোমবার দুপুরে স্থানীয়রা ধানক্ষেতে লাশ পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেয়। বেলা আড়াইটার দিকে লাশটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়। তার গলা কাটা ছিল। তা ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

তিনি আরো জানান, ধারণা করা হচ্ছে দুর্বৃত্তরা চার-পাঁচ দিন আগে তাকে গলা কেটে ও পিটিয়ে হত্যা করে লাশ ধানক্ষেতে ফেলে পালিয়ে গেছে। যুবকের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।  

নিখোঁজের ৮ দিন পর অটোরিকশাচালক লাশ উদ্ধার
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় নিখোঁজের আট দিন পর বিলের পানিতে ডুবিয়ে গুম করে রাখা অটোরিকশাচালক আব্দুল মালেকের (২৯) অর্ধগলিত লাশ পাওয়া গেছে। আজ সোমবার সকালে উপজেলার নাংলা ইউনিয়নের নলকুড়ি বিল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে জামালপুর মর্গে পাঠিয়েছে মেলান্দহ থানা পুলিশ। এ ঘটনার সাথে জড়িত দুই দুর্বৃত্তকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত আব্দুল মালেক উপজেলার নয়ানগর ইউনিয়নের বুরুঙ্গা গ্রামের দুলাল মন্ডলের ছেলে। তিনি অটোরিকশা চালাতেন। গত ১২ অক্টোবর বিকেলে নিজের অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। রাতে বাড়িতে ফিরে না আসায় তাকে অনেক খোঁজাখুঁজি করেন স্বজনরা। ওই রাত থেকে তার ফোনসেটটিও বন্ধ পাওয়া যায়। পরের দিন ১৩ অক্টোবর তার স্ত্রী রিতা বেগম অটোরিকশাসহ স্বামী নিখোঁজের ব্যাপারে মেলান্দহ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

ওই সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে নিখোঁজ অটোরিকশাচালক আব্দুল মালেকের সন্ধানে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে উপজেলার নাংলা ইউনিয়নের নলকুড়ি গ্রামের কানু শেখের ছেলে শফিকুল ইসলাম সাধু (৩২) এবং তার সহযোগী আমজাদ হোসেনকে (৩৩) দেওয়ানগঞ্জ থেকে আটক করেছে। আটক শফিকুলের বাড়ি থেকে মালেকের অটোরিকশাটিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজ মালেকের মা বাদী হয়ে আটক শফিকুল ইসলাম ও আমজাদ হোসেনকে আসামি করে গতকাল রবিবার মেলান্দহ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। থানা হেফাজতে গ্রেপ্তার দুই আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার নাংলা ইউনিয়নের নলকুড়ি বিল থেকে মালেকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। একই সাথে উদ্ধার করা অটোরিকশাটিও মালেকের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ।

মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রেজাউল ইসলাম খান কালের কণ্ঠকে জানান, গ্রেপ্তার দুই আসামি শফিকুল ও আমজাদের স্বীকারোক্তি ও তাদের তথ্যমতে নলকুড়ি বিলের পানিতে ডুবিয়ে গুম করে রাখা অটোরিকশাচালক মালেকের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

কলা ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যু
বগুড়ার শাজাহানপুরে নাজমুল হক (৫৫) নামে এক কলা ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার নয়মাইল হাট এলাকায় তার মৃত্যু হয়। নিহত নাজমুল হক বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ভাটরা গ্রামের মৃত সমশের মন্ডলের ছেলে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পোষ্টমর্টেমের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।

জানা গেছে, রবিবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার নয়মাইল হাট এলাকায় খোরশেদ আলমের চালের দোকানে নাজমুল হক চেয়ারে বসা অবস্থায় হঠাৎ করে মাটিতে পড়ে গিয়ে মারা যান। চালের দরদাম নিয়ে দোকানের মালিক খোরশেদ আলমের সাথে নাজমুল হকের কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে খোরশেদ আলমের চড়-থাপ্পরে নাজমুল হক মারা গেছে মুহূর্তের মধ্যে এমন গুজব নয়মাইল এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে থানা পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে দেয়।

চাল দোকানের মালিক খোরশেদ আলম জানান, সকালে দোকান খোলামাত্র নাজমুল হক নামে ওই অপরিচিত লোকটি শারীরিক অসুস্থতার কথা বলে দোকানের ভেতর চেয়ারে বসে পড়েন। কিছুক্ষণ পরে হঠাৎ করে মাটিতে পড়ে অচেতন হয়ে গেলে তার মাথায় পানি ঢালা হয়। এরপরপরই তিনি মারা যান।

নিহত নাজমুল হকের ছেলে মিরাজুল হক জানান, তার বাবা স্ট্রোক করে মারা গেছেন। মারা যাওয়ার আগে মোবাইল ফোনে তার বাবা তাকে শারীরিক অসুস্থতার কথা বলেছিলেন। সেখানে পৌঁছার আগেই তার বাবা মারা যান। কিন্তু পুলিশ কোনো কথা না শুনে তার বাবার লাশ পোস্টমর্টেমের জন্য পাঠিয়ে দেয়।

শাজাহানপুর থানার ওসি আজিম উদ্দীন জানান, হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে পোস্টমর্টেমের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। রিপোর্ট হাতে পেলে মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা