kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আকরাম হোসেন বাদশার উদ্যোগ

বাড়ির আঙিনা হবে পুষ্টির বাগান

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

১৭ অক্টোবর, ২০২০ ২১:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাড়ির আঙিনা হবে পুষ্টির বাগান

মোট আবাদি জমির শতকরা প্রায় পাঁচ ভাগের মতো বসতবাড়ির আওতায়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে বসতবাড়ির আঙিনার সুষ্ঠু ব্যবহার নেই। প্রত্যেক বসতভিটার এক টুকরো জায়গাকে পরিকল্পিত আবাদের মাধ্যমে সারা বছরই সবজি ও ফল উৎপাদন সম্ভব। আর এরই নজির দেখাতে এবার উদ্যোগ নিলেন কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আকরাম হোসেন বাদশা। তিনি গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার দরিদ্র অধ্যুষিত দক্ষিণ ভাংনাহাটির গুচ্ছগ্রামকে বেছে নিয়ে সেখানে আঙিনায় সবজি চাষের জন্য উদ্বুদ্ধকরণ উঠান বৈঠক করেন। উঠান বৈঠকে অংশ নেন গ্রামের অন্তত ৩০০ নারী-পুরুষ। পরে ঘরে ঘরে উন্নত জাতের সবজি বীজ বিতরণ করেন তিনি।

আজ শনিবার সকাল সোয়া ১১টার দিকে ওই গ্রামের সমির উদ্দিনের বাড়ির আঙিনায় উঠান বৈঠক শেষে এ সবজি বীজ বিতরণ করেন আকরাম হোসেন বাদশা। শুধু তাই নয়, বীজ রোপনের পর কে কেমন পরিচর্যা করছেন তা দেখার জন্য কয়েকজন কৃষিবিদ নিয়ে একটি দলও গঠন করেছেন। সবজি চাষের জন্য ঘরে ঘরে জৈব সার পৌঁছে দেবেন বলেও জানান তিনি।

ওই সময় তাঁর সঙ্গে একজন কৃষিবিদও উপস্থিত ছিলেন।

আকরাম হোসেন বাদশা শ্রীপুর উপজেলার প্রহ্লাদপুর ইউনিয়নের দমদমা গ্রামের ইসমাইল বাগমারের ছেলে। তিনি একজন সফল খামারি ও উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, উদ্যোগ নেওয়ার ফলে ওই গ্রামের প্রতিটি বাড়ি হবে পুষ্টির বাগান।

আকরাম হোসেন বাদশা জানান, করোনা মহামারির প্রভাব মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। সবজি এখন দুর্মূল্য। অথচ বসতবাড়ির আঙিনায় সবজি চাষে বারো মাসই খাদ্য, অর্থ ও পুষ্টি মেলে। তিনি নিজেও বাড়ির ছাদে সবজি চাষ করেন। ফলে তাঁকে বাজার থেকে সবজি কিনতে হয় না। এ অভিজ্ঞতা ছড়িয়ে দেওয়ার ভাবনা থেকেই উদ্যোগটি নেন তিনি।

তিনি জানান, শ্রীপুরের দক্ষিণ ভাংনাহাটির গুচ্ছগ্রামে আশির দশক থেকে মানুষের বসবাস। গ্রামের বেশির ভাগ মানুষই দরিদ্র। ফলে ওই গ্রামকেই বেছে নেন তিনি। আজ সকালে ওই গ্রামে গিয়ে অনেক বসতবাড়ি ঘুরে দেখেন তিনি। পরে সকাল সোয়া ১১টার দিকে গ্রামবাসীদের নিয়ে উঠান বৈঠক করেন। সেখানে বাড়ির আঙিনা, ঘরের চালায় সবজি চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করেন তাদের। আকরাম হোসেন বাদশা জানান, এরপর অন্য আরেক গ্রাম বেছে নিয়ে সেখানেও এ উদ্যোগ নেবেন তিনি।

প্রসঙ্গত, স্কলারশিপ নিয়ে ১৯৯১ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন আকরাম হোসেন বাদশা। পড়ালেখা শেষ করে সেখানেই ব্যবসা শুরু করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি ব্যবসায়িক কারণে কানাডারও নাগরিকত্ব পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দেশের টানে সব ছেড়ে চলে আসেন। গ্রামে ফিরে গড়ে তোলেন মাছ, গরু, ও হাঁস-মুরগির খামার। আর এসব খামার থেকে যা লাভ হয় এর পুরোটাই দরিদ্র মানুষ ও প্রতিবন্ধীদের হাতে তুলে দেন তিনি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা