kalerkantho

রবিবার । ১০ মাঘ ১৪২৭। ২৪ জানুয়ারি ২০২১। ১০ জমাদিউস সানি ১৪৪২

নভেম্বরেই যমুনায় পৃথক রেলসেতুর ভিত্তি স্থাপন : রেলমন্ত্রী

বাংলাবান্ধা হয়ে ভারত, নেপাল ও ভুটানের সাথে রেলযোগাযোগ স্থাপন করা হবে

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১৫ অক্টোবর, ২০২০ ১৫:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নভেম্বরেই যমুনায় পৃথক রেলসেতুর ভিত্তি স্থাপন : রেলমন্ত্রী

আগামী ২৫ নভেম্বরের মধ্যেই যমুনা নদীর ওপর পৃথক রেলসেুতর ভিত্তি স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন রেলমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে পঞ্চগড়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশনে পঞ্চগড় রাজশাহী রেলপথে প্রথমবারের মতো বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই তথ্য জানান মন্ত্রী।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বর চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদিবাড়ি পর্যন্ত রেলযোগাযোগের উদ্বোধন করবেন দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া ভারতের সাথে বাংলাদেশের যে ৮ টি ইন্টারসেকশন পয়েন্ট রয়েছে সেখানে রেলযোগাযোগ চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা হয়ে ক্রমান্বয়ে ভারত নেপাল ও ভুটানের চারদেশীয় রেলযোগাযোগ স্থাপন করা হবে বলে। বাংলাবান্ধা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত রেলযোগাযোগের বিষয়ে আমরা ভারতের সাথে কথা বলেছি। তারা আগ্রহ দেখিয়েছে। শিগগিরই বাংলাবান্ধা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, রেলযোগাযোগ আরও সহজ ও উন্নত করার কাজ করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। ২০২২ সালের মধ্যে খুলনা থেকে মংলা বন্দর পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারিত করা হবে। একই সাথে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেলপথ সম্প্রসারণ করা হবে। ২০২৪ সালের মধ্যে পদ্মা নদীর ওপর রেল সেতুর কাজ শেষ হবে। এই রেলপথ যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার সম্প্রসারণ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় রেল সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্বাধীনতার পর রেলবিভাগে জনবল ছিল ৭০ হাজার এখন তা নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৫ হাজার। জনবল সংকটে বন্ধ থাকা ১০৭টি স্টেশন আমরা চালু করতে পারছি না। পচাত্তরের পরে রেলকে ধ্বংস করার চক্রান্ত করা হয়েছে। অনেক স্টেশন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। রেলের কোনো উন্নয়ন করা হয়নি। বর্তমান সরকার রেলকে আলাদা মন্ত্রণালয় করে রেল যোগাযোগকে উন্নত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এ সময় মন্ত্রী বিনা টিকিটে রেলে পরিবহন না করার অনুরোধ জানান। একই সাথে রেল জনগণের সম্পদ আখ্যায়িত করে সেই সম্পদ রক্ষায় জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করলেও শুক্রবার সকাল থেকে ট্রেনটি পঞ্চগড়-রাজশাহী-পঞ্চগড় রেলপথে নিয়মিত যাতায়াত করবে। বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টায় পঞ্চগড় বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে যাবে এবং বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে রাজশাহী পৌছাবে। আবার রাত ৯টা ১৫ মিনিটে রাজশাহী থেকে ছেড়ে ভোর ৫টা ১০ মিনিটে পঞ্চগড় পৌছাবে। যাত্রাপথে ট্রেনটি পঞ্চগড় ও রাজশাহী ছাড়াও আরও ১৯টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে। নতুন এই ট্রেনটিতে আসন রয়েছে ৭৬৪টি।

পঞ্চগড়সহ রংপুর বিভাগের ৮টি জেলা পূর্বে রাজশাহী বিভাগের অন্তর্ভূক্ত ছিল। তাই পঞ্চগড়সহ এ এলাকার মানুষের সাথে রাজশাহী যোগাযোগ দীর্ঘদিনের। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও রুয়েটসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ এলাকার অনেক শিক্ষার্থী পড়াশুনা করতে যায়। পঞ্চগড়-রাজশাহী রেলপথে প্রথম রেলযোগাযোগ শুরু হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন পঞ্চগড়ের সর্বস্তরের মানুষ।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধান, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব সেলিম রেজা, জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন, রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহ, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত সম্রাট বক্তব্য রাখেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা