kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পুলিশ হেফাজতে যুবকের মৃত্যু

গ্রামে আলোচনার কেন্দ্রে এসআই আকবরের 'আলীশান বাড়ি'

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১৪ অক্টোবর, ২০২০ ২০:৫৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গ্রামে আলোচনার কেন্দ্রে এসআই আকবরের 'আলীশান বাড়ি'

সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়ি থানায় কর্মরত অবস্থায় যুবককে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ ওঠা এসআই আকবরের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার বগইর গ্রামে। সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর এসআই আকবরের 'আলীশান' বাড়ি নিয়েও চলছে আলোচনা।

তবে পরিবারের লোকজন বলছেন, ওই বাড়ি নির্মাণে পুলিশ কর্মকর্তা আকবরের কোনো ধরণের সম্পৃক্ততা নেই। শিক্ষক বাবার অবসর ভাতা ও সিঙ্গাপুর প্রবাসী ভাইয়ের টাকা মাত্র ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে এ বাড়ি নির্মাণ করা হয়।

মাত্র ১০ হাজার টাকার জন্য রায়হান নামে এক যুবককে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠলে আকবরসহ চারজন এখন সাময়িক বরখাস্ত। আশুগঞ্জের বগইর গ্রামের জাফর আলী ভূঁইয়ার তিন ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সবার বড় আকবর। ২০০৫ সালে কনস্টেবল হিসেবে চাকরিতে যোগদান করা আকবর ২০১৪ সালে এসআই পদে পদোন্নতি পান।

বুধবার বিকেলে বগইরের গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ১৫ শতাংশ জায়গার উপর নয়নাভিরাম একটি একতলা ভবন। বাড়ির সামনেই কাজ চলছে সুবিশাল গেইটের। বাড়ির উঠানে বেশ কিছু মানুষের আনাগোনা। তবে ভবনের দরজা-জানালা সব লাগানো।

দূর থেকে ছুটে আসা কয়েকজন আত্মীয় ও এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আকবরের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ উঠায় তারা অনেকটা স্বম্ভিত। আকবর এমন কাজ করতে পারেন সেটা তারা ভাবতেও পারছেন না। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি তুলেছেন তারা।

তবে গ্রামেরই দুই-একজন আত্মীয় এসআইয়ের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সত্য হতে পারে অভিমত দিয়ে বিচারেও দাবি তুলেন। তবে তারা আকবরের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না উঠাতে পারলেও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বাবা জাফর আলীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা হওয়ার কথা উল্লেখ করেন।

তবে হাবিবুল্লাহ ভূঁইয়া নামে এক ব্যক্তি বলেন, এমনিতেই তো কাউকে সাসপেন্ড করার কথা না। নিশ্চয় পিছনে কোনো ঘটনা আছে। তদন্ত করলে সব বের হবে আশা করি।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আকবরের যে ভাই সিঙ্গাপুর থাকে সে প্রায়ই দেশে চলে আসে। তার আয়-রোজগার খুব ভালো না বলে জানি। আকবরদের সঙ্গে খুব একটা যোগাযোগ নেই বলে তিনি জানান।

কথা হয় আকবরের বন্ধু ও আত্মীয় মো. পারভেজুর রহমান ভূঁইয়া সঙ্গে। এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, আকবরের পক্ষে এমন হত্যাকাণ্ড ঘটানো সম্ভব বলে মনে করি না। আমরা চাই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক।

আমেনা বেগম নামে বগইর গ্রামের এক নারী জানান, বেশ কয়েক বছর আগে গ্রামের পূর্বপাড়ার বাড়ি তার ছেলের কাছে বিক্রি করে দক্ষিণ পাড়ায় এসে নতুন বাড়ি করেন আকবরের বাবা। আকবরকে তারা ভালো ছেলে হিসেবেই চেনেন।

পাশের দুর্গাপুর গ্রামের মুজিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তিনি ছুটে আসেন। দুইদিন আগে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তিনি আকবর কেন্দ্রিক সব ঘটনা জানতে পেরেছেন। তবে আকবর এমন করতে পারে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না।

জুনায়েদ ভূঁইয়া নামে এক বৃদ্ধ ও হাসান ভূঁইয়া নামে এক যুবকও আকবর সম্পর্কে ভালো মন্তব্য করেন। আকবরের জীবনে এমন কিছু ঘটবে তা তারা বিশ্বাসও করতে পারছে না। আকবরকে গ্রামের কেউ বলতে পারবে না যে সে খারাপ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ও আকবরের ছোট ভাই আরিফ হোসেন ভূঁইয়া এসব বিষয়ে বলেন, 'আমার ভাই এ ধরণের কাজ করতে পারে বলে বিশ্বাস করি না। রবিবার সর্বশেষ কথা বলে তিনি বিপদে আছেন বলে জানিয়েছেন। এরপর থেকে আর যোগাযোগ নেই।'

তিনি জানান, বাড়ি নির্মাণে বড় ভাই আকবর টাকা দেননি। অবসরপ্রাপ্ত বাবার অবসরভাতা ও সিঙ্গাপুরে থাকা আরেক ভাইয়ের টাকায় কয়েকধাপে এ বাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। বাড়ি নির্মাণে ২০ লাখ টাকার মতো খরচ হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা