kalerkantho

বৃহস্পতিবার  । ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৯ ডিসেম্বর ২০২১। ৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

এক ক্লিকে ৬৮ হাজার গ্রাম, গিনেজ বুকে নবীনগরের কিবরিয়া পাশা

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) থেকে   

৫ অক্টোবর, ২০২০ ২০:০৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



এক ক্লিকে ৬৮ হাজার গ্রাম, গিনেজ বুকে নবীনগরের কিবরিয়া পাশা

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি সর্বোচ্চ ৫৫৬৬টি ক্যাটাগরির ওয়েবসাইট তৈরি করে গিনেজ বুকে নাম তুলে এবার চারিদিকে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছেন আলম কিবরিয়া পাশা নামের এক তরুণ। গতকাল রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে গিনেজ বুক কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে একটি স্বীকৃতিপত্র কিবরিয়ার হাতে এসে পৌঁছলে কিবরিয়ার চোখে আনন্দঅশ্রু চলে আসে।

তরুণ এই আইটি স্পেশালিস্ট কিবরিয়া পাশার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের গাজিরকান্দি গ্রামে। তার বাবা ইরন মোল্লা (হিরন) একজন কৃষক ও মা খাদিজা বেগম গৃহিণী। সাত ভাই-বোনের মধ্যে কিবরিয়া পাশা ষষ্ঠ। কিবরিয়া পাশা বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে দর্শন বিভাগে অনার্সে অধয়নরত।

কিবরিয়া পাশা আজ কালের কণ্ঠকে বলেন, আমার ওয়েবসাইটটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ক্যাটাগরির। পাঁচ হাজার ৫৬৬টি ক্যাটাগরি যুক্ত করা হয়েছে এই সাইটটিতে। সাইটটিতে ঢুকলেই বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মানচিত্র সহজেই দেখা যাবে। মানচিত্র অনুযায়ী যেকোনো জেলায় ক্লিক করলেই ওই জেলার সকল উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামের নামসহ প্রয়োজনীয় তথ্যাদি চলে আসবে। আপাতত আমি ৬৮ হাজার গ্রামের নাম অন্তর্ভুক্ত করেছি। কিন্তু গ্রামের তথ্যগুলো এখনও হালনাগাদের কাজ চলছে। যে কেউ চাইলে সাইটে গিয়ে তার নিজ গ্রামের তথ্যগুলো হালনাগাদও করতে পারবে। সাইটে এমন ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিগত ২০১৬ সালে নবীনগর উপজেলার বীরগাঁও স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন কিবরিয়া পাশা। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে কোচিং করতে ঢাকায় চলে যান।

কোচিং করার ফাঁকে একটি আইটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কিছুদিন ওয়েব ডেভেলপিংয়ের কাজ শেখেন। তবে করোনাভাইরাসের সময় ঘরে শুয়ে-বসে সময় নষ্ট না করে 'আমার গ্রাম' নামক ওয়েবসাইট তৈরির কাজে মনোনিবেশ করেন কিবরিয়া। সে সময় বাংলাদেশের ৬৮ হাজার গ্রামের নামসহ প্রয়োজনীয় তথ্য ও ফোন নম্বর এক ঠিকানায় নিয়ে আসাই ছিলে কিবরিয়ার মূল পরিকল্পনা। এরপরই কিবরিয়া সর্ববৃহৎ ক্যাটাগরির ওয়েবসাইটটি বানানোর কাজ শুরুর করেন। একটানা কয়েক মাস প্রতিদিন ১০-১২ ঘণ্টা করে ওয়েবসাইট তৈরির কাজে সময় ব্যয় করেন কিবরিয়া।

কিবরিয়া বলেন, ওয়েবসাইটের ডোমেইন কিনে আমি নিজেই ডিজাইন ও ডেভেলপিংয়ের কাজ করেছি। পরিবারের কেউ জানত না আমি সারাদিন ঘরে বসে কি কাজ করছি বা কি তৈরি করছি। কারণ আমার পরিবারের কারো তথ্য-প্রযুক্তি সম্পর্কে তেমন ধারণা ছিল না। করোনাভাইরাসের পুরো সময়টাতে আমি ঘরেই ছিলাম। তবে ঘরে শুয়ে-বসে সময় নষ্ট না করে ওয়েবসাইটের কাজটুকু মনযোগ দিয়ে করেছি। কাজটি করতে গিয়ে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপ, সরকারি ওয়েবসাইট এবং গুগল ও উইকিপিডিয়া থেকে আমাকে নানা তথ্য সংগ্রহ করতে হয়েছে।

কিবরিয়া আরো বলেন, ওয়েবসাইট তৈরির পর পাঁচ মার্কিন ডলার খরচ করে আমি গিনেজ বুক কর্তৃপক্ষের কাছে গত ২০ সেপ্টেম্বর আবেদন করি। ওই আবেদনে এটিকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ক্যাটাগরির ওয়েবসাইটের স্বীকৃতি দিতে লেখা হয়। গিনেজ বুক কর্তৃপক্ষ আমার আবেদন যাচাই-বাছাই করার পর অবশেষে আমার সাইটটিকে স্বীকৃতি দেয়। গতকাল রবিবার (৪ অক্টোবর) তাদের স্বীকৃতিপত্র আমার হাতে পেয়েছি।

কিবরিয়া জানান, এখন ওয়েবসাইটের নিরাপত্তার দিকটিতে আরো গুরুত্ব দেওয়ার কাজ চলছে। তবে সবাই যখন তাদের প্রয়োজনে আমার বানানো ওয়েবসাইট থেকে নানা তথ্য নিয়ে সমৃদ্ধ হতে পারবেন, তখনই নিজেকে আমি সার্থক মনে করব।

গিনেজ বুকে স্থান পাওয়া 'আমার গ্রাম' নামক বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ক্যাটাগরির সাইটটিতে ঢুকতে www.amargram.xyz এ ক্লিক করতে হবে এবং যেকোনো তথ্য জানতে [email protected] এ যোগাযোগ করতে হবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে সেফটি পিন দিয়ে বিশ্বের দীর্ঘতম চেইন বানিয়ে গিনেজ বুকে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার ফান্দাউক গ্রামের প্রয়াত জগদীশ চন্দ্র দেবের ছেলে পার্থ চন্দ্র দেব। দুই হাজার ৪০১ দশমিক ৮৩ মিটার বা সাত হাজার ৮৮০ ফুট শূন্য দশমিক ২ ইঞ্চি আয়তনের চেইনটিকে বিশ্বের সর্ববৃহৎ চেইন হিসেবে স্বীকৃতি দেয় গিনেজ বুক কর্তৃপক্ষ। গত ১৭ সেপ্টেম্বর পার্থর কাছেও গিনেজ বুক কর্তৃপক্ষের দেওয়া স্বীকৃতিপত্রটি এসে পৌঁছায়।



সাতদিনের সেরা