kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

গাইবান্ধায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

২ অক্টোবর, ২০২০ ০৩:২৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গাইবান্ধায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি

ব্রহ্মপুত্র, করতোয়া ও ঘাঘট নদীর পানি অব্যাহত বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। করতোয়া নদীর পানি গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পাউবোর রিপোর্ট অনুযায়ী বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ১১৩ সেমি ওপর দিয়ে এবং ঘাঘট নদীর পানি বিপৎসীমার ২২ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। অপর দিকে ব্রহ্মপুত্রের পানি সন্ধ্যা ৬টার রিপোর্ট অনুযায়ী বিপৎসীমার ১ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ব্রহ্মপুত্রের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি এবং সদর উপজেলার নিম্ন এলাকা এবং বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল তলিয়ে গেছে। ডুবে গেছে ফসল, বসতবাড়ি ও গ্রামীণ সড়ক। 

সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান নজমুল হুদা জানান, দিনাজপুর, রংপুরসহ উজানের বিভিন্ন জেলা হতে অবিরাম বর্ষণের ঢল নেমে আসার কারণে ঘাঘট নদীর পানি হঠাৎ করে বেড়ে যায়। এতে করে উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাতগিরি, রামধন,পাইটকাপাড়া, কুঠিপাড়া, কাঠগড়া, নগরকাঠগড়া সর্বানন্দ ইউনিয়নের দক্ষিণ সাহাবাজ, মাস্টারপাড়া গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, পানিতে বামনডাঙ্গা-শঠিবাড়ি পাকা সড়কসহ ৮টি গ্রামের সকল কাঁচা রাস্তা ডুবে গেছে। এছাড়া গাড়কাটা বাঁধ ভেঙে সর্বানন্দ ইউনিয়নের ২টি গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়ে পড়েছে। বামনডাঙ্গা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে পানি ঢুকে পড়েছে। রাস্তাঘাট ও বাঁধ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডি কাজ করছে।
 
অপর দিকে গোবিন্দগঞ্জে করতোয়া নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ঢাকা-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ৩টি অংশ বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ কারণে বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে গোবিন্দগঞ্জ থানামোড় হয়ে চলাচলকারী সকল ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। 

এদিকে বন্যায় গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে বন্যার পানি ওঠায় স্বাস্থ্য সেবাদান ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলার বগলাগাড়ি এলাকায় স্থানীয় একটি বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে গেছে। 

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রামকৃষ্ণ বর্মন জানান, বন্যার্ত মানুষের সহায়তার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেড় হাজার মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০০ মানুষের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় এরই মধ্যে ছয়টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

পলাশবাড়ী উপজেলার বন্যা পরিস্থিতিরও অবণতি ঘটেছে। চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন বানভাসি মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, পানি দ্রুত বাড়ছে। ফলে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। তবে যাতে বাঁধ না ভাঙে এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, গোবিন্দগঞ্জ, সাদুল্যাপুর, পলাশবাড়ী উপজেলার আট হাজার ৬০০ পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত অসহায় মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য এ পর্যন্ত ৪০ মেট্রিক টন চাল ও দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে বিতরণকাজ শুরু হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা