kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

'রোপা ধানও তলায়ে গেলো, এহন কি করমু?'

কাজিপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১ অক্টোবর, ২০২০ ১৮:২৭ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



'রোপা ধানও তলায়ে গেলো, এহন কি করমু?'

'তিনবার তলায়ে সবশেষ সরকার থেকে দেয়া রোপা আমন আর গাইনজার চারা লাগালাম। হেইডাও গেলো। এখন কি করমু?' কথাগুলো বলছিলেন নাটুয়ারপাড়া চরের চাষি রহিম মিয়া। এবারের বন্যায় তার তিনবিঘা জমির রোপা আমন ও গাইনজা ধানের খেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বর্ষণের যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জের কাজিপুর পয়েন্টে বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে করে চরাঞ্চলের বিস্তির্ণ এলাকার রোপা আমন ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে কাজিপুর পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৩২ মিটার। যা বিপৎসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

সিরাজগঞ্জ পাউবো সূত্র জানায়, চলতি বছরের জুনের প্রথম থেকেই যমুনা নদীর পানি  কাজিপুর পয়েন্টে বাড়তে শুরু করে। গত ২৮ জুন বিপৎসীমা অতিক্রম করে। এরপর ৪ জুলাই থেকে আবার কমতে শুরু করে এবং ৬ জুলাই বিপৎসীমার নিচে নেমে যায় যমুনার পানি। ৯ জুলাইয়ের পর ফের বাড়তে থাকে এবং ১৩ জুলাই দ্বিতীয় দফায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে কাজিপুর পয়েন্টে। টানা ২৫ দিন দীর্ঘস্থায়ী বন্যা হওয়ার পর ৭ আগস্ট যমুনার পানি উভয় পয়েন্টেই বিপৎসীমার নিচে নেমে যায়। এর মধ্যে কয়েক দফায় যমুনার পানি কমতে ও বাড়তে থাকলেও বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।

১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কাজিপুর পয়েন্টে আবারো বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে যমুনার পানি। এরপর থেকে যমুনার পানি দুইটি পয়েন্টেই হ্রাস-বৃদ্ধি হতে থাকে। আজ (বৃহস্পতিবার) কাজিপুর পয়েন্টে আবারো বিপৎসীমা অতিক্রম করলো। এতে করে সর্বশেষ রোপা আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চরাঞ্চল জুড়ে লাগানো কাইনজা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। 
উপজেলা কৃষি অফিসার রেজাউল করিম জানান, শেষের এই বন্যায় অনেক ক্ষতি হয়ে গেলো। আমরা ক্ষতি নিরূপণে কাজ করছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিরাজগঞ্জের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম বলেন, টানা বর্ষণের কারণে যমুনায় পানি বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কাজিপুর পয়েন্টে ৯ সেন্টিমিটার ও সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার বেড়েছে। তবে এটা নিয়ে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। বৃষ্টিপাতের কারণেই যমুনাসহ অভ্যন্তরীণ নদীগুলোর পানি বাড়ছে। দুই একদিনের মধ্যে পানি স্থিতিশীল হতে পারে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা