kalerkantho

সোমবার । ৩ কার্তিক ১৪২৭। ১৯ অক্টোবর ২০২০। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সুন্দরগঞ্জে পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ, খোঁজ নেয় না কেউ

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি   

১ অক্টোবর, ২০২০ ১৭:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সুন্দরগঞ্জে পানিবন্দি ৫০ হাজার মানুষ, খোঁজ নেয় না কেউ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে তিস্তার পর এবার ফুলেফেঁপে উঠেছে ঘাঘট নদী। গত এক সপ্তাহের ভারি বর্ষণ আর উজানের ঢলে ঘাঘট নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বন্যার কবলে পড়েছে দুটি ইউনিয়নের ছয়টি ওয়ার্ড। ৯ হাজার পরিবারের ৩৬ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নিম্নাঞ্চল তলিয়ে এখন উঁচু এলাকায় প্রবেশ করছে পানি।

অন্যদিকে, উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের দক্ষিণ সাহাবাজ (মতিন বাজার) গুচ্ছ গ্রামে স্থানীয়দের নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ধসে গিয়ে নতুন করে আরো একটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বানের পানি নদীর তীর পেরিয়ে বিভিন্ন খাল-বিল দিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে পানি। ফলে উপজেলার দুই ইউনিয়ন ও তিস্তা পারের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভেসে গেছে সহস্রাধিক পুকুর ও খামারের কোটি টাকার মাছ।

ঘাঘটের অব্যাহত পানি বৃদ্ধির ফলে চারদিন ধরে পানিবন্দি থাকলেও সরকারি কোনো সহায়তা পাননি ভূক্তভোগীরা। এমনকি জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানালেও কেউ তাদের খোঁজ খবরও নেননি বলে দাবি স্থানীয়দের।

বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের সাতগীরি গ্রামের কফিল উদ্দিন বলেন, হামার ঘরবাড়ি এক কোমড় পানি। এখন গরু-ছাগল নিয়ে খুব কষ্টে আছি।

একই গ্রামের পানিবন্দি রহিমা বেওয়া আক্ষেপের সুরে বলেন, হামরা (আমরা) ঘাঘটের পানিত তলিয়ে গেছি। এলাও হামরা (আমরা) কিছুই পাইনো না। হামার খবর কোনো মেম্বার-চেয়ারম্যান ন্যায় (নেয়) না।

সাতগীরি ওয়ার্ড ইউপি সদস্য রানু মিয়া বলেন, গত চারদিন ধরে আমার এলাকার দুই হাজার পরিবার বন্যায় পানিবন্দি। এসব পরিবার চরম খাদ্য সঙ্কটে আছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত মাত্র শতাধিক প্যাকেট জিআর চাল বরাদ্দ পেয়েছি।

বামনডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান নজমুল হুদা বলেন, পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় আমার ইউনিয়নের পাঁচটি ওয়ার্ডে পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। তাদের জন্য জরুরি খাদ্য সহায়তা চেয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে।

সর্বানন্দ ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জানান, ঘাঘটের তীরবর্তী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি ভেঙে গিয়ে শত শত বিঘা জমির ফসল তলিয়ে গেছে। তার এলাকায় পানিবন্দি রয়েছে ৪ হাজার পরিবারের ১৬ হাজার মানুষ।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওয়ালিফ মন্ডল বলেন, বামনডাঙ্গা ও সর্বানন্দ ইউনিয়নের পানিবন্দি পরিবারগুলোর মধ্যে এক হাজার পরিবারের জন্য ১০ মেট্রিক টন জিআরের চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেগুলো বিতরণের কাজ চলছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, ঘাঘটের পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সর্বানন্দ ইউনিয়নে ঘাঘটের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় বেশকিছু মানুষ পানিবন্দি হয়েছে। তবে বাঁধটি পাউবোর না হওয়ায় আমাদের কিছুই করার নেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা