kalerkantho

সোমবার । ৩ কার্তিক ১৪২৭। ১৯ অক্টোবর ২০২০। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সেই রীনা রানির সংসারে আলোর ছোঁয়া

বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি   

১ অক্টোবর, ২০২০ ১৬:৪১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



সেই রীনা রানির সংসারে আলোর ছোঁয়া

ঝিনুক পুড়িয়ে চুন তৈরি করে অভাবের সংসার চালাচ্ছেন দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার জোতবানি ইউনিয়নের কেটরাগ্রামের রীনা রানি (৩৫)। বেশি টাকা আয় না হলেও অভাবের সংসারে এটাই অনেক। অনেকটা চুনের চুল্লির সাদাধোঁয়ায় আচ্ছন্ন রীনার অভাবের সংসার। পোড়া ঝিনুকের সাদা চুনের আয় দিয়েই চলে রিনা রানীর সংসার।

এনিয়ে গত ১৯ সেপ্টেম্বর 'ঝিনুক পোড়া চুনেই চলে রীনা রানির সংসার' শিরোনামে কালের কণ্ঠ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসলে পরদিনই উপজেলা সহকারি কমিশনার মোহসিয়া তাবাসসুম রীনা রানির বাড়িতে গিয়ে খোঁজ খবর নেন।

অবশেষে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রীনা রানির পাশে দাঁড়াতে তার জীর্ণকুঠিরে আশার আলো নিয়ে হাজির হন বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পরিমল কুমার সরকার। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাজুল ইসলাম ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা তাকে একটি ভাতার কার্ড উপহার দেন। রীনা রানির সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতেই এমন উদ্যোগ গ্রহণ করেন উপজেলা প্রশাসন।

সমাজসেবা কর্মকর্তা রাজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রাথমিকভাবে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে রীনা রানিকে দলিত হরিজন ও বেদে সম্প্রদায়ের বরাদ্দের জন্য একটি ভাতার কার্ড করে দেওয়া হয়েছে। তিনি ২০১৯ সালের জুলাই মাস থেকে প্রতিমাসে ৫০০ টাকা করে পাবেন।

রীনা রানি বলেন, 'ভগবান হামার দিকে চায়া দেখিছে। তিন ছোয়াল নিয়ে বেশ কষ্টে ছিলাম। সরকার হামার ভাতার কার্ড করে দিছে এতেই হারা অনেক খুশি। ভগবান প্রধানমন্ত্রীক ভালো রাখুক।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউএনও পরিমল কুমার সরকার কালের কণ্ঠকে বলেন, গত ১৯ সেপ্টেম্বর কালের কণ্ঠে রীনা রানিকে নিয়ে সংবাদের মাধ্যমে তার বিষয়ে আমরা বিস্তারিত জেনেছি। এরপর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) পাঠিয়ে তার সংসারের খোঁজ খবর নিয়েছি। প্রাথমিকভাবে উপজেলা সমাজসেবার অধিদপ্তরের আওতায় তাকে একটি ভাতার কার্ড প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়াও 'জমি আছে ঘর নেই' সেই তালিকায় তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে। আগামিতে সরকারি কোনো সুযোগ সুবিধা এলে তাকে সেটিও প্রদান করা হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা