kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ কার্তিক ১৪২৭। ২৯ অক্টোবর ২০২০। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ভূরুঙ্গামারীতে থামছে না নদীভাঙন, হুমকির মুখে সাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি   

১ অক্টোবর, ২০২০ ০৯:২৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভূরুঙ্গামারীতে থামছে না নদীভাঙন, হুমকির মুখে সাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

ভূরুঙ্গামারীতে করোনাভাইরাস, বন্যা আর অতিবৃষ্টিতে নাকাল মানুষ। অপরদিকে থামছে না নদীভাঙন। বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগ যেন জেঁকে বসেছে ভূরুঙ্গামারীতে। 

চার দফা বন্যায় কৃষকের স্বপ্ন শত শত হেক্টর জমির সোনালি ফসল ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। ভেঙেই চলছে দুধকুমার, কালজানী। নদীর ভাঙন যেন থামছেই না। 

এক এলাকায় ভাঙন থামলেও আবার নতুন নতুন এলাকায় শুরু হচ্ছে ভাঙন। বিস্তীর্ন জনপদ ভেঙে ছোট হয়ে যাচ্ছে ভূরুঙ্গামারীর মানচিত্র।

জানা গেছে কালজানী নদীর অব্যাহত ভাঙনে উপজেলার শিলখুড়ী ইউনিয়নের উত্তর তিলাই, উত্তর ধলডাঙ্গা, দক্ষিণ ধলডাঙ্গা, শালঝোড়, অপরদিকে দুধকুমার নদীর ভাঙনে তিলাই ইউনিয়নের খোঁচাবাড়ি, দক্ষিণ ছাট গোপালপুর, শালমারা, ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের নলেয়া, চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর, বলদিয়া ইউনিয়নের হেলডাঙ্গা আন্ধারী ঝাড় ইউনিয়নের চর ধাউরার কূঠি পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা, ও বঙ্গ সোনাহাট ইউনিয়নের গনাইর কুটি গ্রাম বিলীনের পথে। 

হুমকির মধ্যে পড়েছে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু উচ্চ বিদ্যালয়,গনাইরকুটি, দক্ষিণ চর ভূরুঙ্গামারী, পাইকডাঙ্গা, ২ নং পাইকের ছড়া ১ নং চর ধাউরার কুঠি ও আব্দুল করিম (১৫০০) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

নদী দুটির ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদী তীরের মানুষ। ভাঙনে ইসলামপুর গ্রামের দুই শতাধিক বসতবাড়ি, শত শত বিঘা ফসলি জমি ও একটি মসজিদ ও দুটি কবর স্থান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। 

আরো চার শতাধিক পরিবার, একটি আশ্রয় কেন্দ্রসহ বিস্তীর্ণ জনপদ ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকলে ইসলামপুর পাইকডাঙ্গা ও গনাইরকুঠি সহ আরো কয়েকটি গ্রাম পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাবে।

পাইকেরছড়া ইউনিয়নের দুটি গ্রামের দেড় শতাধিক ঘরবাড়ি, কয়েকশো বিঘা ফসলি জমি, গাছ ও বাঁশ বাগান নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় লোকজন তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে। 

নদী ভাঙনের শিকার ইসলামপুর গ্রামের কফিল উদ্দিন, আব্দুল হালিম ও ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ক্ষোভের সাথে জানান, বসত ভিটাসহ সব জমি নদীর পেটে চলে গেছে, এখন তাদের মাথা গোঁজার জায়গা নেই। প্রতিবছর ভাঙনে নদী গর্ভে বিলীন হয়ে সর্বহারা হয় শত শত পরিবার। সরকারের কর্তা ব্যক্তিরা এসে দেখে যান, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেন না। নদী শাসনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানান তারা।

পাইকডাঙ্গা গ্রামের আমির হোসেন, আব্দুস ছালাম, জহির উদ্দিন ও আব্দুস সালাম জানান, ‘নদী ভাঙনে পাইকডাঙ্গার প্রায় তিনশ বিঘা জমি ও পাইকডাঙ্গার প্রায় ৬০টি বাসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।'

অপরদিকে চতুর্থ দফা বন্যার পানির স্রোত ও অতিবর্ষনে বঙ্গ সোনাহাটের বঙ্গবন্ধু হাই স্কুলগামী পাকা সড়কটির বেশির ভাগ অংশই ধসে গেছে ও ব্রীজটির একটি অংশ দেবে গেছে।

২নং পাইকের ছড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সামাদ বলেন, আমার বিদ্যালয়ের মাঠটির প্রায় অর্ধেক অংশ নদীর গর্ভে চলে গেছে। নদী যেভাবে ভাঙছে তাতে বিদ্যালয়ের বাকী অংশটুকু রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। আমি আমার কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে বিষয়টি অবগত করেছি।

উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান ও দুধকুমার নদী ভাঙন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি শাহানারা বেগম মীরা জানান, নদী ভাঙন রোধে একটি প্রকল্প প্রস্তুত করে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখানে আমি খোঁজ নিয়ে জেনেছি দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাবে বলে আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন।

চর ভূরুঙ্গামারী ইউপি চেয়ারম্যান এটিএম ফজলুল হক পাইকের ছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকার ও বঙ্গসোনাহাট ইউপি চেয়ারম্যান ডা. শাহজাহান মোল্লা বলেন, আমরা নদী ভাঙনের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছি। বিষয়টি তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুন্নবী চৌধুরী জানান, আমরা প্রাণপণ চেষ্টা করছি চলমান নদী ভাঙন রোধ করার। এরই মধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে তাগিদ দিয়েছি। তাঁরা আশ্বাস দিয়েছেন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান, নদীভিত্তিক পরিকল্পনা করে প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে জেলাকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। দুধকুমার নদীর ২৫কিলোমিটার সংস্কার ও বাঁধ নির্মাণের একটি প্রকল্প পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা