kalerkantho

রবিবার। ১৬ কার্তিক ১৪২৭ । ১ নভেম্বর ২০২০। ১৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

এমপির উপস্থিতিতে চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিত ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি   

১ অক্টোবর, ২০২০ ০৫:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এমপির উপস্থিতিতে চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিত ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা

ঢাকার ধামরাইয়ে বালিয়া ইউনিয়নের বাস্তা বাজারে স্থানীয়দের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনের আলোচনাসভায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আহমদ হোসেনকে লাঞ্ছিত ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। এতে এমপি চরমভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছেন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সরেজমিনে গিয়ে  জানা গেছে, বালিয়া ইউনিয়নের বাস্তা, নয়াচর ও বনেরচর গ্রামবাসীর উদ্যোগে বাস্তা বাজারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৪তম জন্মদিন পালন উপলক্ষে আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানে এলাকার পাঁচ শতাধিক লোক জমায়েত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় এমপি ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহমদ।

এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আহমদ হোসেনকে দাওয়াত দেয়নি আয়োজকরা। এর পরও তিনি এমপি বেনজীর আহমদের সঙ্গে অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় বাস্তা বাজারের মধ্যস্থলে এমপির সামনে প্রথম পর্যায়ে আহমদ হোসেনকে লাঞ্ছিত করে প্রতিপক্ষের লোকজন। 

এ ছাড়া চেয়ারম্যানের এপিএস হিসেবে পরিচিত বালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল গনিকেও মারধর করা হয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

এ অবস্থায় বালিয়া ইউনিয়নে তাঁর আমলে বিভিন্ন উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরে আহমদ হোসেন বক্তব্য দেওয়ার সময় বালিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আলিমসহ নেতাকর্মীরা চরম বিরোধিতা করেন এবং তাঁকে বালিয়া ইউনিয়নে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন এমপির উপস্থিতিতে। এ ঘটনায় এমপি বেনজীর আহমদ চরমভাবে ক্ষুব্ধ হন। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। 

অনুষ্ঠানটি  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিনের আলোচনাসভা থাকলেও মূলত বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহমদ হোসেনের স্বজনপ্রীতি, সাংগঠনিক একক সিদ্ধান্ত ও নেতৃত্বের বিরোধী সমাবেশে পরিণত হয়। শুধু তাই নয়, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আহমদ হোসেনের ভাতিজা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা ছিল অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য।

এ বিষয়ে বালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমহদ হোসেন বলেন, আমার সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে তা মোটেও ঠিক হয়নি। আমি এমপি সাহেবকে বিস্তারিত বলেছি, ‘আপনি এখন এদের (বিরোধিতাকারীদের ) দমন না করলে ভবিষ্যতে আরো খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।'

এদিকে বালিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আলীম বলেন, আহমদ হোসেনের স্বজনপ্রীতি, একক সিদ্ধান্ত ও একক নেতত্ব দেওয়ার কারণে তাঁকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। এরপর সে বেহায়ার মতো অনুষ্ঠানে আসায় তাঁকে লাঞ্ছিত এবং অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা