kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ কার্তিক ১৪২৭। ২৯ অক্টোবর ২০২০। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পার্বতীপুর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

আবদুল কাদির, পার্বতীপুর (দিনাজপুর)    

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১২:৫২ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পার্বতীপুর অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে আইনুলহুদা ফাজিল (স্নাতক) মাদরাসার অধ্যক্ষ মোঃ রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, মোঃ রিয়াজুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি পার্বতীপুর উপজেলার ৬ নম্বর মোমিনপুর ইউনিয়নের  যশাই সৈয়দপুর গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত আব্দুর রশিদ। আইনুলহুদা মাদরাসায় ২০০২ সালের ৮ মে  অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। তার ইনডেক্স নাম্বার ২০১৯১৯৫। তার বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ হচ্ছে তিনি একজন স্বেচ্ছাচারী ব্যক্তি। কাউকে তিনি তোয়াক্কা করেন না। নিজের খেয়াল খুশি মতো সব করেন তিনি। 

মাদরাসায় যোগদানের পর থেকে আয় ব্যায়ের অসঙ্গতি ধরা পড়ে প্রকটভাবে। মাদরাসার একটি অভ্যন্তরীন নিরীক্ষা কমিটি ২০১২-২০১৫ পর্যন্ত অডিট সম্পন্ন করে। জমা দেয়া  প্রতিবেদনে ৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা উদবৃত্ত দেখা যায়। তবে এই টাকা কোথায় আছে তা জানা যায় না। মাদরাসা প্রতিষ্ঠা এলাকার ২০ সম্মানী শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি ৩ দশমিক ৩১ একর জমি দান করেন। এই জমি ২১ ব্যক্তিকে চুকানি দেয়া হয়। বিঘাপ্রতি ১৫ হাজার টাকা চুকানি। সাকল্যে পাওয়ার কথা ৮২ হজার ৫০০ টাকা করে। ক্যাশ বইতে জমা পাওয়া যায় ২৭ হাজার ৮০০ টাকা। পাওনা থাকে ৫৪ হাজার ৭০০ টাকা। ২০০২ সাল থেকে  ২০২০ সাল পর্যন্ত এই ১৮ বছরে ৯ লাখ ৮৪ হাজার ৬০০ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। মাদরাসার  স্নাতক শ্রেণির ১৩জন শিক্ষার্থী উপবৃত্তির টাকা বিতরণকালে খরচের অযুহাতে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১ হাজর টাকা করে কর্তণ করে সে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ মাউশি’র তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। তা সত্বেও অধ্যক্ষ বহাল তবিয়তে আছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

স্থানীয় পর্যায়ে গঠিত ৬ সদস্যের নিরীক্ষা কমিটি গঠন করে ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত অডিট করানো হয়। সেই কমিটির আহবায়ক ছিলেন মোঃ আনিছুর রহমান ( অভিভাবক সদস্য), মোঃ মশিউর রহমান (ঐ), মোঃ ইদ্রিস আলী (দাতা সদস্য), মোঃ মাসুদ রানা ( শিক্ষক প্রতিনিধি) ও মোঃ মিজানুর রহমান ( শিক্ষক প্রতিনিধি)। 

এই অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা কমিটি প্রদত্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১২ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত অধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলাম বিভিন্ন ভাবে টাকা আত্মসাত করেছেন।  প্রতিষ্ঠানের নামে দাতা ব্যক্তিদের ৩ দশমিক ৩১ একর জমি চুকানি দেয়া আছে। এই খাত থেকে তার সময়ে ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৬০০ টাকা আত্মসাত করার কথা বলা হয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১৩জন ছাত্রছাত্রীকে বিতরণকৃত উপবৃত্তি ১৩ হাজার টাকা অধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলাম উৎকোচ হিসেবে গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে উল্লেখিত শিক্ষার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যাপকভাবে তদন্ত অনুষ্ঠিত হয়। তদন্তে অভিযোগটি সত্য বলে প্রমাণিত হয়। অধ্যক্ষকে কেন অপসারণ করা হবেনা তার কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়। তা সত্বেও তিনি এখনও বহালতবিয়তে আছেন। 

অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানের প্রধান হিসেবে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তিকে চাকরি প্রদানের কথা বলে লাখ লাখ টাকা প্রতারণামূলকভাবে গ্রহণ করেন। পার্বতীপুরের পাশের উপজেলা চিরিরবন্দরের মামুদপুর গ্রামের মোঃ ইদ্রিস আলীর কাছে তার ছেলে মোনায়েমকে বিমান বাহিনী, নৌ বাহিনী অথবা সেনা বাহিনীতে চাকরি দেবার কথা বলে ৪ লাখ টাকা গ্রহণ করেন অধ্যক্ষ। গত ২০১৩ সালের ৫ জানুয়ারি তিনি এই টাকা গ্রহণ করেন। দীর্ঘদিনেও চাকরি না হওয়ায় বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হলে ৭০ হাজার টাকা ফেরত দেন তিনি। তবে বাকি টাকা এখনও ফেরত পাননি মোনায়েমের পরিবার। 

এসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মাদরাসার দাতা সদস্য আফসার আলী বলেন, গত ২২ সেপ্টেম্বর আমি অধ্যক্ষ রিয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দিনাজপুর আমলী আদালতে বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করি। মামলা নম্বর ১৭০পি/২০২০। মামলার ধারা ১০৭/ ১১৪। এর আগে গত ৩১ আগষ্ট দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয় দিনাজপুরে অভিযোগ দায়ের করি। তাছাড়া, চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারী দূর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সদর দপ্তরে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগসমূহ জমা দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইনুলহুদা ফাজিল (স্নাতক) মাদরাসার অধ্যক্ষ মোঃ রিয়াজুল ইসলাম বলেন, নিষ্পত্তিকৃত বিরোধটি পূনরায় বিরোধ সৃষ্টির জন্য একটি মহল কাজ করে যাচ্ছে। এ থেকে পরিত্রাণের জন্য আমি উপজেলা চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। ৯ লাখ ৪৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এ অভিযোগ মিথ্যা। আমি আদালতে সমস্ত কাগজপত্র পেশ করতে পারবো। 

অপরদিকে,  অভিযোগকারী আফসার আলী আমার কাছে ২ হাজার টাকার চাঁদা দাবি করলে আমি ১ হাজার টাকা তাকে প্রদান করেছি। চাঁদা দাবি করা ও প্রদান করা উভয় অপরাধ এ বিষয়ে তার ভাষ্য হলো  বিপদে পড়ে টাকা দিতে বাধ্য হয়েছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা