kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ভ্যাপসা গরমে চিতলমারীতে মাছের ঘেরে অক্সিজেন সংকট

‘ঘেরেও প্রাণ আছে, অক্সিজেন লাগে’

• অক্সিজেন সরবরাহের বিশেষ উদ্যোগ

চিতলমারী-কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১১:৫১ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘ঘেরেও প্রাণ আছে, অক্সিজেন লাগে’

ভ্যাপসা গরমে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার ঘেরে অক্সিজেন সংকটে মাছ মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নদী-খালের সাথে সংযোগহীন ঘেরে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে মৎস্য দপ্তর। তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ২০টি মৎস্যজীবি সমিতির মধ্যে ৬০টি পাওয়ার পাম্পসহ উপকরণ বিতরণ করেছে। এ উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার ঘের রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। 
 
চরবানিয়ারী ইউনিয়নের অশোকনগর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সদস্য ভারতী মজুমদার বলেন, মানুষের মতো ঘেরেও প্রাণ আছে, তাই অক্সিজেন লাগে! অক্সিজেনের অভাবে মাছ গাবায়ে (অক্সিজেনের অভাবে খাবি খা হয়ে) মরে যায়। তিনি জানান, বৃষ্টিতে এলাকার সব ঘের এখন জলাবদ্ধ। বৃষ্টির পরে কড়া রোদ হচ্ছে। ভ্যাপসা গরমের ফলে তাদের ঘেরে মাছ মরে যাওয়ার উপক্রম হচ্ছে। এমন মুহূর্তে এই পাম্প বিশেষ কৌশলে ব্যবহার করে তারা ঘেরের অক্সিজেন সংকট দূর করতে পারবে বলে আশাবাদী। তাদের সমিতির সদস্যরা পর্যায়ক্রমে পাম্প ব্যবহার করবেন। 
 
প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা এসএম সোহেল জিল্লুর রহমান রিগান জানান, ঘের প্রধান এলাকা চিতলমারীতে উৎপাদিত মিঠাপানির চিংড়ি ও সাদা মাছের আলাদা চাহিদা রয়েছে। দেশের বিভিন্ন নগরীসহ দেশের বাইরে এখানকার মাছ সরবরাহ হয়। এখানের ঘেরের সাথে নদী-খালের সরাসরি সংযোগ নেই। ঘেরে হয় মাছ, তার পাড়ে হয় সবজি এবং ঘেরের মাঝের জমিতে হয় ধান। ফসল ফলাতে প্রচুর কীটনাশক ও সার ব্যবহৃত হয়। স্থায়ী জলাবদ্ধ পানিতে অক্সিজেন সংকট হয়। তাই পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহের জন্য পাম্প বিতরণ করা হয়েছে। ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল টেকনোলজি প্রোগ্রাম-২ প্রকল্পের আওতায় ওই পাম্প দেয়া হয় বলে তিনি জানান।
 
গতকাল মঙ্গলবার উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে পাম্প বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অশোক কুমার বড়াল, বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মারুফুল আলম, থানার ওসি মীর শরিফুল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. বাবুল হোসেন খান, চরবানিয়ারী ইউপি চেয়ারম্যান অর্চনা দেবী বড়াল ঝর্ণা প্রমুখ। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা