kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কৃষকের স্বপ্নে এখন গলা পানি

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৯:৪৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কৃষকের স্বপ্নে এখন গলা পানি

কৃষক ইয়াকুব আলী (৪০) একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়ে পানের বরজ করেছিলেন। তার স্বপ্ন ছিল পান বিক্রি করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন। কিন্তু ঘাঘট নদের পানিতে তার সেই স্বপ্ন ডুবে গেছে। এখন তার পানের বরজে এক বুক পানি।

কৃষক ইয়াকুব আলীর বাড়ি ঘাঘট নদ সংলগ্ন রংপুরের পীরগাছা উপজেলার আটষট্টিপাড়া গ্রামে। শুধু ইয়াকুব আলী নয়, ওই গ্রামের ছাইফুল ও হযরত আলীর পানের বরজ, আশরাফ আলীর মুলা ক্ষেত, ফজলুর রহমান ও নুর মোহাম্মদের সবজি ক্ষেত ও আলম মিয়াসহ অনেকের করল্লা ক্ষেত এখন পানির নিচে তলিয়ে আছে। ভেসে গেছে ছোট বড় পুকুরসহ অসংখ্য মৎস্য খামারের মাছ।

ইয়াকুব আলী বলেন, 'অনেক আশা নিয়ে এনজিও থাকি ঋণ তুলি পানের বরজ দিছনু। কিন্তু পানি উঠি সউগ ভাসি গেল। এমনিতে করোনার কারণে পানের দাম আছিল না। এখন ডুবি গেল।’

গত মঙ্গলবার থেকে শনিবার পর্যন্ত রেকর্ড পরিমান বৃষ্টিপাত হয়। বৃষ্টির পানি অপ্রস্থ ঘাঘট নদ দিয়ে নেমে যেতে না পেরে উপচে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে। এতে অনেকের পানের বরজসহ রোপা আমন ও রবিশস্য পানির নিচে তলিয়ে গেছে। আশেপাশে এলাকার বাড়িঘর ও রাস্তাঘাটে পানি উঠেছে। দেখা দিয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। ঘাঘটের এমন রুদ্ররুপ স্থানীয়রা আগে দেখেননি। ঘাঘটের চারদিকে গ্রামগুলোতে এখন পানি আর পানি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুরের পীরগাছা ও মিঠাপুকুর উপজেলার মাঝ দিয়ে ঘাঘট নদ প্রবাহিত হয়েছে। নদীটির দৈর্ঘ্য ২৩৬ কিলোমিটার। এর পানি প্রবাহমাত্রা অবস্থাভেদে ৫০ থেকে আডাই হাজার কিউসেক। দখল হয়ে যাওয়ায় ৫০ ফুট প্রশস্ত ঘাঘট নদ এখন ১০ ফুটে এসে ঠেকেছে।

আটষট্টিপাড়া গ্রামের মমিন মিয়া বলেন, আমার চোখের সামনে একটি বাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। নদীর ওই পাশের অবস্থা আরো ভয়াবহ। তীব্র নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২০ হাজার ৫৭০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে ইতিমধ্যে দুই হাজার হেক্টর জমির রোপা আমান পানিতে তলিয়ে গেছে। শতাধিক হেক্টর রবিশস্য পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিসার শামীমুর রহমান বলেন, ভারি বর্ষণ ও উজানের ঢলে উপজেলার বিস্তৃর্ণ এলাকায় পানি জমেছে। এতে অনেক ফসলের ক্ষতির শঙ্কা রয়েছে। এখন পর্যন্ত দুই হাজার হেক্টর রোপা আমন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। তবে দ্রুত পানি কমে গেলে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা কম রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা