kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সংযোগ সেতুটি বেহাল

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী (বরগুনা)   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৩:৩২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সংযোগ সেতুটি বেহাল

বরগুনা জেলার আমতলী ও পার্শ্ববর্তী তালতলী উপজেলার দুটি ইউনিয়নের (আড়পাঙ্গাশিয়া ও পঁচাকোড়ালিয়া) সংযোগ সেতু আয়রন ব্রিজটি বেহাল। ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতুটি পার হতে প্রতিদিন চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ওই দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষকে।

জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে বরগুনা জেলা পরিষদের অর্থায়নে ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০০ ফুট লম্ভা এ আয়রন ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। মাঝখানে জেলা পরিষদ থেকে দু-একবার সংস্কারও করা হয়েছিল। ২০১৬ সালে ব্রীজটির স্লিপার ভেঙে ও দেবে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অদ্যবধি আর কোনো সংস্কার কাজ না করায় বর্তমানে ব্রিজটি বেহাল।

ব্রিজটির দুই পাড়ে পঁচাকোড়ালিয়া বাজার, ইউনিয়ন ভূমি অফিস, চরকগাছিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরকগাছিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, চরকগাছিয়া রশিদিয়া হাফিজিয়া মাদরাসা, পাহলান বাড়ি নুরানি মাদরাসা, ড. মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম কলেজ, বাবু আলী দাখিল মাদরাসা, পঁচাকোড়ালিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খানকায় হুসাইনিয়া নুরানি ও হাফিজি মাদরাসাসহ অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিদিন এ ব্রিজটি দিয়ে হাজার হাজার পথচারী, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা পারাপার হন। 

শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কিছুদিন পর পর এ ব্রিজ পাড় হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে শিক্ষার্থী ও পথচারীরা।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, দুই মাইল পথ হেঁটে আসতে পারলেও এই ব্রিজটি পার হতে পারি না। ভয়ে দাঁড়িয়ে থাকি, কেউ হাত ধরে পার করে দিলে তবেই পার হই। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ব্রিজটির উপরিভাগের স্লিপারগুলো ভেঙে এমন অবস্থা হয়েছে যে পুরুষেরা কোনোমতে পার হতে পারলেও বৃদ্ধ, নারী ও শিশুরা পার হতে পারছেন না। দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্য বহন সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘদিন সেতুটির সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। 

পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজির হোসেন মুঠোফোনে জানান, জেলা পরিষদ থেকে ওই সেতুটির দু-একবার সংস্কার করা হয়েছিল। তবে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি মানুষ চলাচলের কারণে বর্তমানে ব্রিজটি দেবে ও স্লিপারগুলো ভেঙে গেছে।

আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মোসা. মজিবুন্নেছা বেগম বলেন, ব্রিজটি সংস্কার করা জরুরি হয়ে পড়েছে।  ব্রিজ পার হতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির কোনো শেষ নাই। জরুরি ভিত্তিতে ব্রিজটি সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানান। 

বরগুনা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. দেলোয়ার হোসেন মুঠোফোনে বলেন, শিগগিরই ব্রিজটি মেরামত করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা