kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ফুলপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ : বাদী-বিবাদীর শেষ ভরসা থানা-আদালত

ফুলপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২২:২০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



ফুলপুরে জমিসংক্রান্ত বিরোধ : বাদী-বিবাদীর শেষ ভরসা থানা-আদালত

ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। ক্রয়কৃত জমি ও পৈতৃক সম্পক্তি নিয়ে বাদী-বিবাদীর মাঝে প্রায়ই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এক সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম্য মাতুব্বর দ্ধারা গ্রাম্য শালিসে মীমাংসা হলেও বর্তমানে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠছে অধিকাংশ গ্রাম্য মাতুব্বরের বিরুদ্ধে। গ্রামের প্রবীণ মাতুব্বর অনেকেই শালিস-দরবারে আসেন না।

তাঁদের অভিযোগ, বর্তমানে বয়সে কম অনেক নেতাই গ্রামের মাতুব্বর। ফলে গ্রামের শালিস–বৈঠকের প্রতি আস্থা হারিয়ে কেউ কেউ আদালত ও ফুলপুর থানার বিট পুলিশিংয়ের সহায়তায় প্রকৃত মালিকরা তাদের জমি দখল করতে পারছেন।

বিশেষজ্ঞদের অভিমত, নতুন প্রজন্মের অনেক নেতাই এখন গ্রামের বিচারক। অর্থলোভী কিছু অসাধু নেতার পক্ষপাতিত্বের কারণে গ্রামের সাধারণ মানুষ পুলিশ ও আদালতের দ্ধারে যাচ্ছেন। বর্তমানে করোনা মোকাবেলার পাশাপাশি থানা বৈঠক করে জমিসহ বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করায় পুলিশের প্রতি আস্থা বাড়ছে। তবে পুলিশকে বিষয়টি নিয়ে কঠোর হতে হবে বলে জানান অনেকে। ফুলপুর থানা ও কয়েকজন ভুক্তভোগীর সাথে কথা হয় এ ব্যপারে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পৌরসভার সাহাপাড়ায় প্রফুল্ল কুমার ভেীমিকের ছেলে ব্যবসায়ী স্বপন কুমার ভৌমিক মৃত নূর ভান্ডারির কাছ থেকে ৭৩ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। বর্তমানে কয়েক কোটি টাকার এ জমি দখল নিতে পারছেন না তিনি। নূর ভান্ডারি  প্রতিবেশী আবেদ আলীর কাছ থেকে কেনা জমি বিক্রি করেন স্বপন কুমারের কাছে। এ নিয়ে দির্ঘদিন ধরে বাদী-বিবাদীর মাঝে মামলা ও কলহ চলছে। সম্প্রতি ফুলপুর থানায় ভুক্তভোগী স্বপন কুমার অভিযোগ করলে বাদী-বিবাদীকে থানা কার্যালয়ে পুলিশ বৈঠক ঘরে জমির প্রয়োজনীয় দলিলপত্র নিয়ে আসার জন্য বলা হয়। থানা-পুলিশ নিশ্চিত হয় স্বপন কুমারই জমির সঠিক মালিক।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জানান, এ জমির প্রকৃত মালিক স্বপন কুমার। এ বিষয়ে বিরোধে গেলে তারা আইন-অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন। স্বপন কুমার তাঁর ক্রয় করা জমি ফিরে পাওয়ার পথে।

পারতলা গ্রামের চাচাতো ভাই সুরুজ্জমান ও রাজ্জাকের মাঝে পৈতৃক ৩৮ শতাংশ জমি নিয়ে কয়েক বছর ধরে বিরোধ। গত ১০ সেপ্টেম্বর রাজ্জাক অভিযোগ করলে থানা-বৈঠকে তা সমাধান হয়।

বালিয়া ইউনিয়নের শিমুলিয়া গ্রামের সুফিয়া ও নূরুল মিয়ার সাথে ক্রয়কৃত জমি নিয়ে বিরোধ। বিষয়টি নিয়ে আদালত পর্যন্ত যাওয়া হয়। কয়েকদিন আগে অসহায় সুফিয়া ফুলপুর থানায় অভিযোগ করেন। থানা-পুলিশের সহায়তায় সুফিয়ার কেনা ১৪ শতাংশ জমি ফিরে পান।

উপজেলার রহিমগঞ্জ ইউনিয়নের মৃত রজব আলীর ছেলে আব্দুল হেকীম ও এলাহি বক্সের ছেলে আলী হোসেনের সাথে পৈতৃক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ মেটানো হয় থানা-বৈঠক ঘরে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে কয়েক বছর ধরে অনেক ভুক্তভোগী আদালতে যাচ্ছেন। ভূমি আইনে এসব মামলা সংক্রান্ত রায় হয় দীর্ঘসময়ে। কেউ কেউ স্থানীয়ভাবে মীমাংসা হলেও বর্তমান সময়ে থানা পুলিশের প্রতি আস্থা বাড়ায় প্রতিমাসে ১৫-২০ জন ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করছেন। পুলিশ এ বিষয়ে জমির দলিল সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করে প্রকৃত মালিকের কাছে দলিল হস্তান্তর করছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জমি সংক্রান্ত মামলা নিয়ে পুলিশের এ কাজে ব্যপক সাড়া মিলছে। পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামে প্রায়ই জমি সংক্রান্ত বিরোধ লেগেই আছে। এসব বিরোধ অধিকাংশ ক্রয়কৃত জমি দখল, পৈত্রিক জমি নিজেদের মাঝে বণ্টনের সময় হয়ে থাকে।

জানা যায়, জমির মূল্যে কয়েকগুণ বাড়ায় বিক্রি করা জমি দখল নিতে বিক্রেতারা বিভিন্ন আইনি অযুহাত দেখান। ফলে ক্রয় করা জমি দখল নিতে ব্যাপক ভোগান্তিতে পড়তে হয় ক্রেতাদের। আবার পৈতৃক সম্পত্তি বণ্টনের সময় ভাইবোনদের মাঝে কলহ হয়। দাদার সম্পক্তি নিয়ে চাচা ও চাচাতো ভাইদের মাঝেও চলে নানা কলহ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার রহিমগঞ্জ, রামভদ্রপুর, সিংহেশ্বর, ভাইটকান্দি এসব চরাঞ্চলে গত কয়েক বছরে জমি সংক্রান্ত জেরে বেশ কয়েকজন খুন হন। যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় প্রতিনিয়ত এসব বিবাধ কলহ লেগেই থাকতো। বর্তমানে রাস্তা-ঘাট কিছুটা উন্নত হওয়া পুলিশের ঘন-ঘন টইল থাকায় হতাহতের ঘটনা অনেকটাই কম। এ ছাড়া এ সংক্রান্ত জেরে প্রতিবেশীদের মাঝে চুরির ঘটনাও ব্যাপক ছিল। বিষয়টি নিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে। এসব ইউনিয়নের লোকজন নিয়ে চলে পুলিশের ব্যাপক বৈঠক। গত কয়েক দিন ধরে বেশ কিছু জমি সংক্রান্ত বিরোধ মেটানো হয় ফুলপুর থানা বৈঠক ঘরে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফুলপুর থানার ওসি ইমারত হোসেন গাজী জানান, জমির দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়াতে ক্রয় করা জমি দখল করতে ভোগান্তিতে পড়ছেন অনেকেই। বর্তমানে জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে থানা-প্রঙ্গণে ভুক্তভোগীরা আসায় ফুলপুর থানা পুলিশ জমির দলিল ও কাগজপত্র দেখে আইনগতভাবে সহায়তা করছে।

তিনি জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধের খবর আসার সাথে সাথে থানা পুলিশ পাঠানোর ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নত হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা