kalerkantho

সোমবার । ৩ কার্তিক ১৪২৭। ১৯ অক্টোবর ২০২০। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

দুর্গাসাগ‌রে শোল-গুলশা অবমুক্ত

নিজস্ব প্র‌তি‌বেদক, ব‌রিশাল   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২০:৪৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুর্গাসাগ‌রে শোল-গুলশা অবমুক্ত

কয়েক বছর আগেও বিভিন্ন বাজারে গেলে কৈ, খলিসা, পুঁটি, ট্যাংরা, চেলা, দারকিনা, গুতুম, রাণী, চান্দা, বাঁশপাতা, পাবদা, রিটা, মেনি, বাইম, কাকিলা চ্যাঙের মতো দেশি মাছের দেখা মিলত। কিন্তু সে দিন গিয়েছে। এখন সাতসকালে বাজারে ঢুঁ মারলেও সে সব দেশি মাছ চোখে পড়ে না বললেই চলে। খাল-বিল-পুকুরে খেলে বেড়ানো বহু মাছের প্রজাতির ইদানীং প্রায় দেখাই মেলে না। মাছে-ভাতে বাঙালি তাই সেই স্বাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। অথচ অনেকেরই এখনও জিভে সেই স্বাদ লেগে। বাজারে গিয়ে তাঁরা এখনও খোঁজেন এই সব মাছ। যেদিন মিলে যায়, গিন্নির হেঁসেলে পৌঁছে ক্রিকেট ম্যাচ জয়ের হাসি লেগে থাকে কর্তার মুখে। আঁচানোর পরেও সে গল্প করেন পাড়ার রোয়াকে বসে।

নানা কারণে দেশি প্রজাতির অনেক মাছের উৎপাদন কমেছে। মৎস্য বিশেষজ্ঞেরা জানালেন, ওই সব দেশিয় মাছ মূলত প্রাকৃতিকভাবেই প্রজনন করে থাকে, কৃত্রিমভাবে প্রজনন ও চাষ খুব একটা প্রচলিত না। মূলত বর্ষাকালে প্রাকৃতিক উপায়েই উৎপাদন হয়। কিন্তু মৎসজীবীদের সচেতনতার অভাবে ওই সব মাছ ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে। জনসাধারণকে উৎসাহিত কর‌তে দুর্গাসাগ‌রে দেশি মাছ অবমুক্ত ক‌রা হ‌য়ে‌ছে। 

মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণাল‌য়ের স‌চিব রওনক মাহমুদ আজ র‌বিবার দুর্গাসাগর ও ডি‌সি লে‌কে দেশি মাছ অবমুক্ত ক‌রে‌ন। স‌চিব তার বক্ত‌ব্যে ব‌লেন, দেশি মা‌ছের উৎপাদন বৃ‌দ্ধির জন্য সরকার বি‌ভিন্ন কর্মসূচি হা‌তে নি‌য়ে‌ছে। সেগু‌লো বাস্তবা‌য়িত হ‌লে মা‌ছের উৎপাদন আরো বৃ‌দ্ধি পা‌বে। এ সময় জেলা প্রশাসক এস এম অ‌জিয়র রহমান, অতি‌রিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শহীদুল ইসলাম উপ‌স্থিত ছি‌লেন। 

দুর্গাসাগরে দেশি মাছ ছাড়ার খবরে খুশি সাধারণ মানুষ। এলাকার কয়েকজন প্রবীণ মানুষের কথায়, আগে শোল, বোয়াল, সরপুঁটির মতো কত রকমের মাছ পাওয়া যেত দুর্গাসাগ‌রে। সে সব মাছের স্বাদ ছিল আলাদা। আবার যদি নতুন করে সেই সব মাছের স্বাদ পাওয়া যায় তার থেকে ভালো কিছু হয় না।

‌কেন সব দেশি মাছ বিলুপ্ত হতে চলেছে?
নদীর গতিপথে ছোটখাট বাঁধ থেকে বড় বড় বাঁধ দেওয়ার ফেলেও নদীপথ বেয়ে মাছেদের স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। ফ‌লে দেশি সাছ হা‌রি‌য়ে যা‌চ্ছে। দেশীয় মাছ হারিয়ে গেলে নষ্ট হয়ে যাবে জলের বাস্তুতন্ত্র। এরা যে সব ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ বা নদীর বর্জ্য খেয়ে নদী ও তার পার্শ্ববর্তী পরিবেশ রক্ষা করে, তা নষ্ট হবে। নদীর জল দূষিত হবে। পরিবেশের স্বার্থে অবিলম্বে এই সব হারিয়ে যেতে বসা মাছেদের সংরক্ষণ জরুরি।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, আকোয়াকালচার অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের শি‌ক্ষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, মৎস্যজীবীরা বিভিন্ন সময়ে ছোট ফাঁসের অবৈধ জাল, মশারি জাল বা নেটজাল ব্যবহার করেন। যাতে দেশি মাছের ডিম ও বাচ্চাসহ উঠে আসে। দেশি মাছ সংরক্ষণ করতে তিনি মৎস্যজীবীদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।

মূলত আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে বেশিরভাগ দেশি মাছ ডিম পাড়ে। এ সময় অবৈধ জাল ব্যবহার বন্ধে কঠোর হতে হবে। তা ছাড়া, মৎস্যজীবীরা যখন জাল দিয়ে মাছ ধরে, তাদের জালে প্রচুর দেশি মাছের বাচ্চা ওঠে। তারা এগুলো খাল-বিল-নদীর পাড়ে ফেলে দেন, যেগুলো মারা যায়। তারা যদি সচেতনভাবে এ ডিম ও বাচ্চাগুলো জলে ছেড়ে দেন, তাহলে মাছগুলো বেঁচে যাবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা