kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

গাইবান্ধা

বাড়ছে নদ-নদীর পানি, করতোয়া বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার ওপরে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২০:০৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বাড়ছে নদ-নদীর পানি, করতোয়া বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার ওপরে

গত কয়েকদিনের ভারি বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির ঢলে গাইবান্ধায় করতোয়া, ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও ঘাঘটসহ জেলার সবগুলো নদীর পানি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। অন্য নদ-নদীর পানি এখনও বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও করতোয়া নদীর পানি গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালি পয়েন্টে সোমবার বিকাল ৩টার পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের রিপোর্ট অনুযায়ী বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। গত রবিবার সকাল ৬টায় করতোয়ার পানি বিপৎসীমার মাত্র ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। কিন্তু বিকাল ৩টায় ওই নদীর পানি কাটাখালি পয়েন্টে  বিপৎসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপরে ওঠে। ওই নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় সোমবার বিকাল ৩টায় ৩৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৬২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। 

এদিকে করতোয়া নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার ফলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দরবস্ত, শিবপুর, সাপমারা, নাকাই, কাটাবাড়ি, ফুলবাড়ি, হরিরামপুর, মহিমাগঞ্জ, রাখালবুরুজ ও তালুকানুপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। ডুবে গেছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি। এ ছাড়া পলাশবাড়ি উপজেলার কিশোরগাড়ি ও হোসেনপুর ইউনিয়নের বেশকিছু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলাতেও কিছু এলাকায় পানি উঠেছে। অসময়ে আকস্মিক এই বন্যায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় সংশ্লিষ্ট বাড়ির লোকজন চরম দুর্ভোগের মুখে পড়েছে। রাস্তাঘাট ডুবে গেছে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। এর মধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় ১ হাজার পরিবার তাদের পালিত পশু-পাখি নিয়ে বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। জেলা প্রশাসন এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য ৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দিয়েছে। 

গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মাকছুদুর রহমান জানান, টানা বৃষ্টি আর নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার ৭ উপজেলায় ১৭৫০ হেক্টর জমির আমন ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে ২৫ হেক্টর জমির শাক-সবজি পচে নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করে প্রণোদণা দেওয়া হবে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান জানান, করতোয়া নদীর পানি বিপৎসীমার বেশ  ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফলে বিশেষ করে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ, পলাশবাড়ী ও সাঘাটা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির প্রবণতাও লক্ষণীয়। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা