kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

গৃহকর্মী মনিকে নির্যাতন : গৃহকর্ত্রী জবা গ্রেপ্তার, স্বামীকে খুঁজছে পুলিশ

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৯:০৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



গৃহকর্মী মনিকে নির্যাতন : গৃহকর্ত্রী জবা গ্রেপ্তার, স্বামীকে খুঁজছে পুলিশ

ঢাকার উত্তরার একটি বাসায় শিশু গৃহকর্মীকে বর্বর নির্যাতনের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি তাসলিমা ইয়াসমিন জবাকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল রবিবার দিবাগত গভীর রাতে ঢাকাস্থ উত্তরার ১২ নম্বর সেক্টরের ১৯ নম্বর রোডের ২ নম্বর বাসার ৬ তলা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। তবে তার স্বামী মো. মাসুদ ওরফে রয়েলকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

এ ঘটনায় আজ সোমবার সকালে গৃহকর্ত্রী তাসলিমা ইয়াসমিন জবা ও তার স্বামী মো. মাসুদ ওরফে রয়েলকে অভিযুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গৃহকর্মী মনির বাবা আ. মোতালিব বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মনির বাড়ি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের খামা গ্রামে।

এ নিয়ে রবিবার কালের কণ্ঠে ‘গৃহকর্ত্রীর নির্যাতনের ক্ষত শিশুর শরীর জুড়ে’ একটি সচিত্র প্রতিবেদন বের হয়। প্রতিবেদনটি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে এলে উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্রী তপন চন্দ্র সাহার নিদের্শে এ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকুন্দিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া।

পাকুন্দিয়া থানা সূত্রে জানা যায়, এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানার উপ পরিদর্শক আমিনুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পাকুন্দিয়া থানায় আসে। পরে পাকুন্দিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে গিয়ে নির্যাতিতা গৃহকর্মী মনি ও তার মা নিলুফার সঙ্গে আলাপ করে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে মনির মা নিলুফাকে সঙ্গে নিয়ে গৃহকর্মী সরবরাহকারী মরিয়মের বাড়িতে গিয়ে তাকে আটক করে উত্তরা পশ্চিম থানায় নিয়ে যায়। সেখান থেকে মরিয়মকে সঙ্গে নিয়ে উত্তরার ওই গৃহকত্রীর বাসায় গিয়ে জবাকে গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানায় নিয়ে আসে। তার স্বামী রয়েলকে বাসায় না পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১ ডিসেম্বর পার্শ্ববর্তী তালদশী গ্রামের ইউনুছ আলীর মেয়ে মরিয়মের মাধ্যমে উত্তরার রয়েল-জবা দম্পতির বাসায় মাসিক তিন হাজার টাকা বেতনে গৃহকর্মীর কাজ দেন শিশু মনিকে (১১)। এর এক মাস পর থেকেই নানা বিষয় নিয়ে গৃহকর্ত্রী জবা মনিকে বকাঝকা ও নির্যাতন শুরু করে। তাকে দিয়ে দিনরাত বাসার সব কাজ করাত। ঘাম ঝড়ানো খাটুনি শেষে খাবার চাইলে সেটিও দিত না। মাঝে মধ্যে পঁচা বাসি খাবার দিত। তা সে খেতে পারত না। ক্ষুধার জ্বালায় ছটফট করত। এসব নিয়ে গৃহকর্তা রয়েলের কাছে বিচার দিলে তিনিও তাকে লাঠি দিয়ে মারধর করতেন। কোনো কাজ শেষ করতে একটু দেরি হলেই স্বামী-স্ত্রী মিলে গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো তার শরীরে। এ ছাড়া লাঠি ও রুটি বানানোর বেলন দিয়ে বেধড়ক পেটাত। খুন্তির ছ্যাঁকা আর লাঠি ও বেলনের পিটুনিতে তার মাথা ও হাত-পায়ের আঙ্গুলসহ পুরো শরীর ক্ষত-বিক্ষত হয়ে গেছে। সে এখন হাঁটতে ও চলতে পারে না।

মরিয়মের মাধ্যমে মেয়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে তার মা নিলুফা ২১ সেপ্টম্বর ওই বাসা থেকে মেয়েকে উদ্ধার করে ২৩ সেপ্টেম্বর পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করান। মনি বর্তমানে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে।

পাকুন্দিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শ্যামল মিয়া বলেন, এ বিষয়ে কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিদের্শে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ রবিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি জবাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এ ঘটনায় গৃহকর্মী মনির বাবা আ. মোতালিব গৃহকর্ত্রী তাসলিমা ইয়াসমিন জবা ও তার স্বামী মো. মাসুদ ওরফে রয়েলকে আসামি করে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা