kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

দূর্গাপুরে আতঙ্কে দিন কাটছে নদী পাড়ে বসবাসকারীদের

নেত্রকোনা প্রতিনিধি   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৬:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দূর্গাপুরে আতঙ্কে দিন কাটছে নদী পাড়ে বসবাসকারীদের

নেত্রকোনা জেলার দূর্গাপুর উপজেলায় সোমেশ্বরী নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ না থাকায় কাকৈরগড়া ইউনিয়নের রামবাড়ী-লক্ষীপুর, কুল্লাগড়া ইউনিয়নের বিজয়পুর, রানীখং, কামারখালী, বড়ইকান্দি, ভুলিপাড়া, দুর্গাপুর পৌরসভা এলাকার কুল্লাগড়া, ডাকুমারা, শিবগঞ্জ, দক্ষিণ ভবানিপুরসহ কয়েক গ্রামের চলাচলের প্রধান সড়কটি বন্যার প্রবল স্রোতের কারণে ভেঙে গিয়ে ডোবায় পরিণত হয়েছে।

এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত এ সব এলাকার সাধারণ মানুষ অনেকেই এখন ভিটেমাটি হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাদরাসায়। এ ছাড়াও নদী ভাঙণের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে এলাকার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদরাসা, হাট-বাজারসহ চলাচলের রাস্তা-ঘাট এবং ব্যক্তি মালিকানাধীন বিভিন্ন স্থাপনা। এ নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটছে এসব ক্ষতিগ্রস্ত ও নদী পাড়ে বসবাসকারী সাধারণ মানুষের।

ওমাবাড়ি লক্ষিপুর গ্রামের মাদরাসায় আশ্রয় নেওয়া আ. হামিদ বলেন, আমার সারা জীবনের কষ্টের সঞ্চিত টাকা দিয়ে মাত্র ২ বছর আগে থাকার জন্য ঘরটি তৈরি করে ছিলাম,বন্যার স্রোতের করণে সেটিও হারিয়েছি। আমার ছোট ভাইও আমার মতো বেহাল অবস্থা। আমরা এখন আমাদের পরিবার নিয়ে অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছি। সরকারিভাবে সহযোগিতা না পেলে ভিক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই।

একই গ্রামের কছিম উদ্দিন বলেন, ৬টি গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রধান সড়কটি ভেঙে যাওয়ায় এলাকাবাসী ভীষণ ভোগান্তিতে পড়েছে। এমন ভাঙন রোধে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তার।

স্থানীয় আব্দুর রহমান জানান, সোমেশ্বরী নদীতে বেড়িবাঁধ না থাকায় বন্যার সময় প্রচণ্ড স্রোতে এখানকার বিভিন্ন কাঁচা রাস্তা প্রতি বছর ভঙে যায় এবং অনেক জায়গায় ডোবায় পরিণত হয়। বন্যায় প্লাবিত হওয়ার কারণে হাজার হাজার কৃষকের ফসল নষ্ট হয়। বন্যায় এ বছরও হাজার হাজার একর আমন ধানের ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে গরিব কৃষকেরা ব্যাপকভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

এলাকাবাসীর দাবি, স্থায়ীভাবে নদীর বেড়িবাঁধ দিয়ে এবং এখানকার ভাঙা রাস্তাগুলো মেরামত করে তাদেরকে ভয়াভহ বন্যার হাত থেকে রক্ষা করা। তা নাহলে, প্রতি বছর কৃষক আ. হামিদ এর মতো অনেকেই বসত ভিটা হারাতে পারেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নেত্রকোনা জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান প্রতিবেদককে বলেন, পরপর কয়েকদফা বন্যা হওয়ায় পানির প্রবল স্রোতে বেশ কিছু এলাকার বাড়িঘর ভেঙে গেছে। ইতিমধ্যে ভাঙন এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনাও পাঠানো হয়েছে এবং অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক কাজী আব্দুর রহমান বলেন, সোমেশ্বরী নদী ভাঙন ঠেকাতে ইতোমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য, উপজেলা পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসক মহোদয় ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পরিদর্শন করেছেন। স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মণের বড় প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলেই বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা