kalerkantho

বুধবার । ১২ কার্তিক ১৪২৭। ২৮ অক্টোবর ২০২০। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

জোয়ারে বেড়িবাঁধে, ভাটায় ঘরে ফেরেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা

হায়াতুজ্জামান মিরাজ, আমতলী (বরগুনা)   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৪:৫৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জোয়ারে বেড়িবাঁধে, ভাটায় ঘরে ফেরেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা

বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের পূর্ব কৃষ্ণনগর গ্রামে খাস জমির ওপর নির্মিত হয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর।

প্রকল্পটির অবস্থান বেড়িবাঁধের বাইরে। আর পাশেই সুবন্দি নদী। দিনে দুইবার নদীর জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়  আশ্রয়ণ প্রকল্পের সাতটি ব্যারাক। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় জরাজীর্ণ হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন ব্যারাকগুলোতে বসবাসরত প্রায় তিন শতাধিক মানুষ। এঁদের মধ্যে রয়েছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরাও। এ অবস্থায় তাঁরা সরকারের কাছে ব্যারাকের ঘরগুলো মেরামত ও বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের পূর্ব কৃষ্ণনগর গ্রামের পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের বাইরে সুবন্দি নদীর তীরে সরকারি খাসজমি। ওই জমিতেই ২০০৪ সালে সরকারি অর্থায়নে নির্মিত হয় পূর্ব কৃষ্ণনগর আশ্রয়ণ প্রকল্পটি। প্রকল্পে কবরস্থান, খেলার মাঠে, সমবায় সমিতির কার্যালয়সহ ৭০টি পরিবারের জন্য সাতটি ব্যারাক রয়েছে। প্রতিটি ব্যারাকে রয়েছে ১০টি করে কক্ষ। জমিসহ প্রতিটি ভূমিহীন পরিবারকে একটি করে কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হয়। এছাড়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে ১০টি পরিবারের জন্য রয়েছে চারটি শৌচাগার ও দুটি গোসলখানা। প্রত্যেক ব্যারাকে একটি করে গভীর নলকূপও বসানো হয়। 

সরেজমিনে দেখা যায়, আশ্রয়ণ প্রকল্পর ব্যারাকগুলো সুবন্দি নদীর তীরবর্তী হওয়ায় এবং বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিদিন দুইবার জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় ব্যারাকগুলো। এ সময় প্রকল্পে বসবাসরতরা পার্শ্ববর্তী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উঁচু বেড়িবাঁধের ওপর পরিবারের নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে আশ্রয় নেন। জোয়ার শেষে ভাটি শুরু হলে আবার তাঁরা  ব্যারাকে ফিরে যান।

প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, নির্মাণের দীর্ঘ সময় পার হলেও আজ পর্যন্ত সংস্কার হয়নি প্রকল্পের ব্যারাকগুলো। অধিকাংশ ঘরই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ঘরের টিনে মরিচা পড়ে ছিদ্র হয়ে গেছে। ছিদ্রগুলো বন্ধ করতে ব্যারাকের টিনের চালে পলিথিন বিছিয়ে তার ওপর ইটচাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। দরজা, জানালাগুলোতে মরিচা পড়ে ভেঙে গেছে গ্রিল। অধিকাংশ টিওবয়েল নষ্ট। শৌচাগার ও গোসলখানার অবস্থাও শোচনীয়। অনেক শৌচাগার ভেঙে চুরমার হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী।

বর্তমানে সাতটি ব্যারাকের ৭০টি কক্ষ। এর মধ্যে জোড়াতালি দিয়ে ৫০টি পরিবারের প্রায় তিন শতাধিক অসহায় দুস্থ সহায় সম্বলহীন মানুষ বসবাস করছে। বাকি ২০টি কক্ষ একেবারে ভেঙে এখন পরিত্যক্ত। 

পূর্ব কৃষ্ণনগর আশ্রয়ণ প্রকল্পের সাধারণ সম্পাদক মোসা.  শাহিদা বেগম জানান, ঘরের মধ্যে থাকতে পারেন না তাঁরা। বৃষ্টি এলে টিনের চালা দিয়ে পানি পড়ে। চাল দিয়ে পানি পড়া ঠেকাতে হাঁড়ি, পাতিল পেতেও কোনো লাভ হয় না। প্রতিদিন দুইবার জোয়ারের সময় ছেলে মেয়ে নিয়ে রাস্তায় বসে থাকতে হয়। তিনি সরকারের কাছে আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো মেরামত ও প্রকল্পের পেছন দিয়ে নদীতীরবর্তী বেড়িবাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানান।   

আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতি মো. আনসার মিয়া জানান, সরকার ভূমিহীনদের পুনর্বাসন করতে এ আশ্রয়ণ প্রকল্পের ব্যারাক নির্মাণ করে দিয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের এই ব্যরাকগুলোর কোনো সংস্কার না করায় ঘরগুলো এখন বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষায় ঘরের ভেতর পানি পড়ে, শীতে অনেক ঠাণ্ডা লাগে। প্রতিদিন জোয়ারের পানিতে দুইবার ভাসতে হয়। তাঁরা নানা সমস্যার মধ্যে থাকলেও আজ পর্যন্ত সমাধানের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মুছা মিয়া বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্ধারা অসহায়ভাবে জীবনযাপন করছেন। ব্যারাকগুলো জরুরিভাবে মেরামত করা দরকার।

কুকুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. বোরহান উদ্দিন আহমেদ মাসুম তালুকদার বলেন, সহায়, সম্বল ও ভূমিহীন পরিবারের সদস্যদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে সরকার। কিন্তু নির্মাণের দীর্ঘদিন পার হলেও সংস্কার না করায় এখন এ ব্যারাকগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, জোয়ারের পানি থেকে রক্ষায় এখানে জরুরি ভিত্তিতে একটি রিং বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পটি পরিদর্শন করে ব্যারাকের যেসব সমস্যা আছে তা সমাধান ও ভাঙা জরাজীর্ণ ঘরের একটি তালিকা তৈরি করে খুব শিগগির তা সংস্কার করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা