kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ কার্তিক ১৪২৭। ২৯ অক্টোবর ২০২০। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

'বিষ্টিতে মরিচগাছের সব্বনাশ হয়া গ্যাছে'

নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি    

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১১:০৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



'বিষ্টিতে মরিচগাছের সব্বনাশ হয়া গ্যাছে'

'এবছর হাটে মরিচের দাম বেশি। এতে আমরাও খুশি। কিন্তু বিষ্টিতে মরিচগাছের সব্বনাশ হয়া গ্যাছে। এখন এক কেজি মরিচই ব্যাচবার পারি নাই। জমিতে গাছ থাকলিউ তাতে মরিচ নাই।'

কথাগুলো বলছিলেন বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়নের গুলিয়া গ্রামের মরিচচাষি দেলোয়ার হোসেন। নিজের মরিচক্ষেত দেখিয়ে কথাগুলো বলছিলেন তিনি। 

একই গ্রামের শামছুর রহমান বলেন, 'দুই বিঘ্যা জমিতে মরিচের আবাদ করছিল্যাম। বৃষ্টিতে আমার গাছ মইর্যা য্যাচ্ছে। এবার দুই হাজার টেকার মরিচও বেচব্যার পারি নাই।'

কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার বেশিরভাগ মরিচক্ষেত এবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিপর্যয় দেখা দিয়েছে এর ফলনে। তাই বাজারে মরিচের দাম বেশি হলেও এ উপজেলায়  ব্যাপক লোকসান দিতে হচ্ছে চাষিদের।

বাজারে পাইকারি ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে। এমন দামে উপজেলার মরিচ চাষিদের খুশি হওয়ার কথা হলেও তাঁদের মুখে হাসি নেই।

মরিচচাষিরা জানান, কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টি হওয়ায় বেশিরভাগ মরিচক্ষেতে পানি জমে যায়। এ অবস্থায় মরিচের জমিতে শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে সেচ দেওয়া হয়। তারপরও বৃষ্টির পানি ও আশপাশের জমির পানি চুয়ে আসছে। এতে অনেক ক্ষেতের মরিচগাছ মরে যাচ্ছে। কিছু জমিতে মরিচ গাছ বেঁচে থাকলেও তাতে মরিচ নেই বললেই চলে। আবার কিছু ক্ষেতের গাছ বেঁচে গেলেও সেগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে এ উপজেলায় কাঁচা মরিচের ফলনে বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

উপজেলার বাদলাশন গ্রামের মরিচচাষি দুলাল হোসেন জানান, তিনি ১২ বিঘা জমিতে মরিচের আবাদ করেছিলেন। এরমধ্যে বৃষ্টিতে তিন বিঘা জমির মরিচ গাছ নষ্ট হয়েছে। প্রতিবিঘায় তাঁর মরিচ গাছ লাগানো থেকে শুরু করে তোলা পর্যন্ত ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। বাজারে দাম বেশি হলেও জমিতে মরিচ গাছ নষ্ট হওয়ায় হাসি নেই তাঁর মতো অনেক মরিচ চাষির।

নন্দীগ্রাম উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আদনান বাবু বলেন, 'এবার উপজেলায় ২৫০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। বৃষ্টিতে মরিচের ক্ষেত নিমজ্জিত হয়েছিল। তবে সঙ্গে সঙ্গে মরিচচাষিরা শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে সেচ দেওয়ায় মরিচগাছ পুরোপুরি নষ্ট হয়নি। এরইমধ্যে অনেক মরিচগাছে ফুল আসতে শুরু করেছে।' 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা