kalerkantho

মঙ্গলবার । ১১ কার্তিক ১৪২৭। ২৭ অক্টোবর ২০২০। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পারভীনের হরেক রকম 'প্রতারণা'

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৯:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পারভীনের হরেক রকম 'প্রতারণা'

আনুমানিক ৫০ বছর বয়স্ক পারভীন আক্তার হরেক রকমের পরিচয়ে পরিচিত। একের ভেতরে তিন বা চার নয়, তিনি একের ভেতরে হরেক রকম। তিনি কখনো ম্যাজিস্ট্রেট, কখনো ভোক্তা অধিকারের সহকারী পরিচালক, কখনো ক্যাব সভাপতি, কখনো মানবাধিকার কর্মী, কখনো সাংবাদিক, পরিবেশবিদ বা আইন ও সালিস কেন্দ্রের আইনজীবী। এই তো তার পরিচিতি। এর বাইরেও আছে পরিচয়ের বিশাল বহর। তিনি এনজিও সংস্থার প্রধান, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান, দেশী বিদেশী একাধিক নিয়োগকারী সংস্থার মহা ব্যবস্থাপক।

বিপুল সংখ্যক পদের অধিকারী এই নারীকে র‌্যাব বলছে 'প্রতারক'। প্রতারণার অভিযোগে র‌্যাব-৭ তাকে গ্রেপ্তারের পর পাহাড়তলী থানায় সোপর্দ করেছে। গ্রেপ্তার অভিযানের সময় তার হেফাজত থেকে নানা ধরনের নথিপত্র জব্দ হয়েছে। যেগুলো সবই তার ব্যবহৃত পদের অনুকূলে ব্যবহৃত হয়। গত শনিবার পাহাড়তলী থানার ডিটি রোডের ঢাকা ভবনের ১০ম তলায় 'স্বীকৃতি' নামের একটি এনজিও সংস্থার কার্যালয়ে এই অভিযান চলে। স্বীকৃতি নামের এনজিও সংস্থার নেই সরকারি স্বীকৃতি বা অনুমোদন। শুধুই নামে 'স্বীকৃতি'।

অভিযানের একদিন পর রবিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে র‌্যাব এই তথ্য জানায়। র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, নিস্ন আয়ের মানুষের সঙ্গে মিষ্টভাষী পারভীন সুন্দর করে কথা বলেন। তারপর তাদের কাছ থেকে আমানত গ্রহণ করেন। কিন্তু সেই আমানত আর ফেরত দেন না। দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে আমানত গ্রহণের পর মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেন না। এমন অভিযোগ পেয়ে তদন্ত পর্যায়ে এই প্রতারকের সন্ধান পায় র‌্যাব।

র‌্যাবের অভিযানকারী দল পারভীনের কার্যালয় ও বাসা থেকে সঞ্চয় ও ঋণ পাসবই, পূরণ করা চেক, স্বাক্ষর করা ফাঁকা চেক, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই ও জমা বই, চুক্তিনামা, স্বাক্ষর করা ফাঁকা স্ট্যাম্প, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের জরিমানা আদায়ের রশিদ, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তার সিল, স্বীকৃতি নামক সংস্থার ডেবিট ও ক্রেডিট ভাউচার বই, ফিক্সড ডিপোজিট রশিদ বই, অনুদান আদায়ের রশিদ বই, ক্যাশ পজিশন বই, প্যাড, বিদেশগমনের লিফলেট, বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রাম সম্বলিত ভিজিটিং কার্ড, নিয়োগপত্র, লেজার বই, অঙ্গীকারনামা বই, মাসিক চাঁদা আদায়ের রশিদ, মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির বই, ভুয়া এনআইডি ও চারটি পাসপোর্ট জব্দ করেছে। 

র‌্যাব জানায়, আসামি ভুয়া ও অবাস্তব প্রকল্প দেখিয়ে একটি মন্ত্রণালয়ে ৬ কোটি ৩৫ লাখ ২৯ হাজার ৪০০ টাকার একটি প্রকল্প প্রস্তাব জমা দিয়েছে। এমন নথিও পাওয়া গেছে। ২০১৪ সালের পর থেকে তিনি প্রতারণায় যুক্ত আছেন। তিনি এনজিও নিবন্ধনের জন্য আবেদন করলেও সেটি সরকারি অনুমোদন পায়নি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে আমানত গ্রহণ, ভুয়া মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায়, আইনি সহায়তা দেওয়ার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায়, চাকরি দেওয়া কিংবা বিদেশে পাঠানোর নাম করে টাকা আদায়ের বিষয়ে স্বীকার করেছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা