kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ কার্তিক ১৪২৭। ২৯ অক্টোবর ২০২০। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নির্মাণ শেষ না হতেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে খানাখন্দ

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৮:১৯ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নির্মাণ শেষ না হতেই ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে খানাখন্দ

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চার লেন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে মহাসড়কে যানবাহন, যাত্রী ও পথচারীদের চলাচল ঝুকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে। কর্তৃপক্ষ সংস্কারের  উদ্যোগ না নেওয়ায় যে কোনো সময় এসব স্থানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন মহাসড়কে চলাচলকারী যানবাহনের শ্রমিক, পথচারী ও যাত্রীরা। 

টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, জনসাধারণের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মাণ করে। এরপর থেকে এ মহাসড়কে টাঙ্গাইল জেলাসহ প্রায় ২৬ টি জেলার যানবাহন চলাচল শুরু হয়। যানবাহনের চাপ প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাওয়ায় মাহাসড়টি যানজটের সড়কে পরিণত হয়। যাত্রীদের দুর্ভোগ লাঘবে  জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা পর্যন্ত ৭০  কিলোমিটার দীর্ঘ এ মহাসড়কটি প্রথমে চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্প ২০১৩ সালে একনেক সভায় অনুমোদিত হয়ে কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে।
 
সড়কটি প্রথমে চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ শুরু হলেও পরবর্তীতে ছয় লেনের কাজের অনুমোদন দেওয়া হয়। মহাসড়কটিতে ১৩টি আন্ডারপাস ও  সাতটি ফ্লাইওভার রয়েছে। এর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ হাজার নয়শ কোটি টাকা।

ভূমি অধিগ্রহণসহ প্রতি কিলোমিটারের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৪ কোটি টাকারও বেশি। মহাসড়কটি চার প্যাকেজে উন্নীত করার কাজ চলছে। প্রতিটি প্যাকেজের জন্য আলাদা আলাদা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্যাকেজ-১ জয়দেবপুর থেকে কালিয়াকৈর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার। এ অংশের নির্মাণ কাজ করছেন স্প্রেকট্রা নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্যাকেজ-২ কালিয়াকৈর থেকে মির্জাপুরের  কুরণী পর্যন্ত ১৮কিলোমিটার। এ অংশের নির্মাণ কাজ করছেন আব্দুল মোমেন লি. ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

প্যাকেজ-৩ কুরণী থেকে টাঙ্গাইল পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার। এ অংশের কাজ করছেন দক্ষিণ কোরিয়ার সামহোয়ান ও বাংলাদেশের মীর আকতার লি. ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

প্যাকেজ-৪ টাঙ্গাইল থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার। এ অংশের কাজ করছেন ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডিয়েনকো লিমিটেড। বর্তমানে ৮৩ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

অন্যদিকে ভূমি জটিলতার কারণে গোড়াই ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ  রয়েছে। এতে যানবাহন চলাচলের সময় গোড়াই বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় চারশ গজ  সড়ক খানাখন্দকের সৃষ্টি হযেছে।
 
এ বছর এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে বৃষ্টি।  অতিবৃষ্টির কারণে নির্মাণাধীন মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। গত শনিবার মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই শিল্পাঞ্চলের সোহাগপাড়া ও নাজিরপাড়া এলাকায় গিয়ে এই খানাখন্দক দেখা গেছে। এসব খানাখন্দকের মধ্যদিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন নিয়মিত চলাচল করছে। 

এসব  গর্তের পানি ও পাথরকুচি যানবাহনের চাকার  ঘর্ষণে ছিটকে এসে পথচারীরা আঘাতপ্রাপ্ত হচ্ছেন। এছাড়া যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার  আশঙ্কা করছেন যানবাহনের  শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীরা।

স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কের পাশ দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করতে হয়। বৃষ্টির পানিতে মহাসড়কে গর্তগুলো ভরে যায়। যার ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সহজেই দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। 

সোহাগপাড়া গ্রামের  ব্যবসায়ী বাবুল  শিকদার, ইমরান শিকদার বলেন, মহাসড়কটি হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। কিন্তু নির্মাণের কিছুদিনের মধ্যেই বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হওয়ায় ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করতে হয়। এছাড়া গর্তে জমে থাকা বৃষ্টির পানি চলাচলের সময় গাড়ির চাকা পড়ে ছিটকে এসে কাপড় নষ্ট হয়।

মোটরসাইকেল চালক মামুন মিয়া, জুয়েল মিয়া বলেন, মহাসড়কে যেসব গর্ত হয়েছে, ওই  গর্তের পাথরকুচি রাস্তার ওপর পড়ে থাকায় মোটরসাইকেল চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বালু ভর্তি ট্রাকের চালক হালিম মিয়া, মাইক্রোবাসের চালক নুরনবী ও পিকআপের চালক রাজন মিয়া বলেন, সুন্দর রাস্তায় আরামদায়ক চলাচলের পরিবর্তে চলছে ভোগান্তি এবং ঝুঁকি। মহাসড়কের ওই স্থানে এসে যানবাহনের পাতি ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটার ঝুঁকি হয়েছে। তারা নিত্যদিনের এই ভোগান্তি  থেকে রক্ষা পেতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
 
বাসের যাত্রী কুমকুম ও রাজ্জাক মিয়া জানান, উত্তরাঞ্চল থেকে দীর্ঘ পথ আসতে বাসের মধ্যে ঘুমিয়ে যান। হঠাৎ চালক খানাখন্দকের ওই স্থানে দ্রুতগতির গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে ব্রেকে চাপ দেন।  এতে প্রচন্ড ঝাঁকুনি লাগে। এসময় লাফিয়ে মাথায় আঘাত পেতে হয় বলেও তারা জানান।

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চার লেন প্রকল্পের  সেকশন ২   প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. খোরশেদ  আলম বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন  স্থানে খানাখন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। এসব ছোটখাট গর্ত সাথেই সাথেই সংস্কার করা হয়ে থাকে। তাছাড়া সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে অবহিত করে ওইসব এলাকায় দ্রুত সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা