kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ কার্তিক ১৪২৭। ২৯ অক্টোবর ২০২০। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

স্কুলছাত্রী নীলা হত্যা: প্রধান আসামি মিজান গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:৫৫ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



স্কুলছাত্রী নীলা হত্যা: প্রধান আসামি মিজান গ্রেপ্তার

সাভারে স্কুলছাত্রী নীলা রায় (১৪) হত্যা মামলার প্রধান আসামি মিজানুর রহমানকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সাভারের তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের রাজফুলবাড়িয়ার কর্নেল ব্রিকফিন্ডের পাশ থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত গভীর রাতে মিজানুরের মা ও বাবাকে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার চারিগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেন র‍্যাব-৪-এর সদস্যরা। ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে মানিকগঞ্জের আরিচা থেকে সেলিম পালোয়ান নামে অন্য এক সন্দেহভাজন যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে এই মামলায় এজাহারভুক্ত তিন আসামিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।  

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম বলেন, রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রযুক্তি ব্যবহার করে আলোচিত স্কুলছাত্রী নীলা রায়কে হত্যার ঘটনায় মূল আসামি মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে সাভার মডেল থানা পুলিশ। এ সময় পুলিশ তাঁর কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করেছে। মাদক সেবনরত অবস্থায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ শনিবার মিজানুরকে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি। 

এ হত্যা মামলায় মিজানুরের মা নাজমুন্নাহার সিদ্দিকা (৫৫) ও বাবা আবদুর রহমানও (৬০) আসামি। মিজানুরের পাশের বাসায় বসবাসরত সেলিম হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন বলে পুলিশের ধারণা। এরই মধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া সেলিম ও মিজানুরের মা-বাবার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে ভাইয়ের সঙ্গে রিকশায় করে হাসপাতালে যাওয়ার পথে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া নীলাকে টেনেহিঁচড়ে পালপাড়া মহল্লার একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে নিয়ে যান মিজানুর। সেখানে নীলাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে তিনি পালিয়ে যান। নীলার পরিবারের দাবি, প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় নীলাকে হত্যা করেন মিজানুর। এ ঘটনার পরের দিন রাতে নীলার বাবা নারায়ণ রায় হত্যা মামলা করেন। এতে মিজানুর ও তাঁর মা-বাবাসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো চারজনকে আসামি করা হয়েছে। 

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার জেরে সাভারে নিলা রায় (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বখাটে এক যুবকের বিরুদ্ধে। গতকাল রবিবার রাত ৯ টায় সাভার পৌর এলাকার পালপাড়া মহল্লায় গার্লস স্কুল রোডে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

নিহত নিলা মানিকগঞ্জ জেলার বালিরটেক এলাকার নারায়ন রায়ের মেয়ে। সে তার পরিবার নিয়ে পৌর এলাকার কাজী মোকমা পাড়ার একটি বাড়িতে ভাড়ায় থেকে স্থানীয় অ্যাসেড স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ালেখা করতো। জানা গেছে, অভিযুক্ত বখাটে ওই যুবকের নাম মিজানুর রহমান চৌধুরী (২৫)। সে একই এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ ও প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বখাটে মিজানুর প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল নীলাকে। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় রবিবার রাত ৮টার দিকে স্থানীয় একটি হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পথে নীলা ও তার ভাই অলকের গতিরোধ করে বখাটে ওই যুবক। পরে তার ভাইকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে কথা বলার বাহানায় নির্জন সড়কে নিয়ে নীলার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় মিজানুর।

এসময় স্থানীয়রা নিলাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এনাম মেডিক্যাল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নীলার শরীরে পাঁচ-ছয় জায়গায় ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তার মধ্যে ঘাড়ে, মুখে ও পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।

তবে নিহতের পরিবার বলছে, প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে সাড়া না পেয়ে হত্যা করল ওই যুবক। অভিযুক্তকে আটকের পর মূল ঘটনা জানা যাবে। তাকে আটকের জন্য অভিযান চলছে।

মানিকগঞ্জ জেলার বালিরটেক এলাকার নারায়ণ রায়ের মেয়ে নীলা। তার বাবা-মার সঙ্গে পৌর এলাকার কাজী মোকমা পাড়া একটি বাড়িতে ভাড়া থেকে স্থানীয় অ্যাসেড স্কুল নামে একটি বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে লেখাপড়া করত। অভিযুক্ত যুবক মিজানুর রহমান চৌধুরী একই এলাকার বাসিন্দা।

নীলার স্বজনরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বখাটে মিজানুর নীলাকে বিভিন্ন সময় প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। কিন্তু প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পরও ওই যুবক নীলাকে উত্ত্যক্ত করত। সবশেষ রবিবার রাতে শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় নীলাকে হাসপাতালে অক্সিজেন দিতে নিয়ে যায় তার ভাই অলক। পরে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফেরার পথে পালপাড়া এলাকায় তাদের গতিরোধ করে বখাটে যুবক মিজানুর। এ সময় নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে অলককে পাঠিয়ে দিয়ে নীলার বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় মিজানুর। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পুলিশের ভাষ্য, বছর দেড়েক ধরে নীলাকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন কাজিমুকমাপাড়ার পাশের এলাকা ব্যাংক কলোনির আবদুর রহমানের ছেলে কলেজছাত্র মিজান। নীলা রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে শ্বাসকষ্টে ভুগছিল। তাঁর ভাই অলক রায় তাকে রিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন। বাসা থেকে কিছু দূর যাওয়ার পর মিজান রিকশার গতিরোধ করেন। এরপর অস্ত্রের মুখে নীলাকে টেনে হিঁচড়ে রিকশা থেকে নামিয়ে পালপাড়া এলাকায় নিয়ে যান তিনি। সাভার বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের উল্টো দিকের একটি গলির ভেতরে নিয়ে নীলার গলায়, পেটে, মুখে ও ঘারে ছুরিকাঘাত করে মিজান পালিয়ে যান। মেয়েটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে থানা রোডের প্রাইম হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। রাত সাড়ে নয়টার দিকে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় নীলার মৃত্যু হয়।

নীলার বড় ভাই অলক রায় বলেন, বাসা থেকে নেমেই তাঁরা মিজানকে দেখতে পান। তখন মিজান তাঁদের কিছু বলেননি। রিকশা নিয়ে কিছু দূর যাওয়ার পর পেছন থেকে এসে মিজান গতিরোধ করেন। তাঁর হাতে দুটি বড় ছুরি ছিল। রিকশার গতিরোধ করে মিজান তাঁর বোনের সঙ্গে কথা আছে বলে রিকশা থেকে নামতে বলেন। তিনি বাধা দিলে মিজান তাঁকে হত্যার হুমকি দেন। একপর্যায়ে মিজান তাঁর বোনকে জোর করে রিকশা থেকে নামিয়ে নিয়ে যান। ভয়ে তিনি ও তাঁর বোন চিৎকার করার সাহস পাননি। এমনকি তিনি তাঁদের পিছুও নেননি। মিনিট বিশেক পরে তিনি জানতে পারেন, মিজান তাঁর বোনকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়েছেন।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। সেই সাথে সাভার থানায় একটি মামলারও প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরো বলেন, প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান হওয়ায় এ হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো বিষয় জড়িত আছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সব মাথায় রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা