kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

চতুর্থ দফা বন্যার মুখে সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৫:১২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



চতুর্থ দফা বন্যার মুখে সুনামগঞ্জ

দুই মাসের ব্যবধানে চতুর্থ দফা বন্যার মুখে সুনামগঞ্জ। গত তিন দিনের পাহাড়ি ঢল ও বর্ষণে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। বৃষ্টি ও ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে সব আমনক্ষেত। শুক্রবার ভোর থেকে সুনামগঞ্জ-বিশ্বম্ভরপুর-তাহিরপুর উপজেলা সড়ক পাহাড়ি ঢলে তলিয়ে গেছে। এতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ৪৮ ঘণ্টায় চেরাপুঞ্জিতে প্রায় সাড়ে ৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এই পানি এসে নামছে ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জে। ফলে পানিও বাড়ছে। শুক্রবার সকালে সুরমার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে এক সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই প্রথম দফা বন্যা হয় সুনামগঞ্জে। দ্বিতীয় দফা বন্যা হয় জুনের ৯ তারিখে। তৃতীয় দফা বন্যা হয় ১৯ জুনে। এবার প্রায় দুই মাস পর আবারও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এই জেলায়। পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার সকালে সদর উপজেলার গৌরারং ইউনিয়নে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, আমনক্ষেতে এখন কোমরপানি। এখানে আমনক্ষেত ছিল দেখে বোঝার উপায় নেই। ক্ষেতের পাশে অসহায়ভাবে তাকিয়ে আছেন অনেক কৃষক। তাঁরা বিশ্বাস করতে পারছেন না, এক রাতের ব্যবধানে তাদের ক্ষেত এভাবে ডুবে যাবে।

বড়ঘাট গ্রামের কৃষক সাজ্জাদুর রহমান বলেন, 'আমার ৭০ বছরের জীবনে ইলা চাইরবার পাইচবার বন্যা দেখছি না। গিরস্থি খরছিলাম টাইন্যাটুইন্যা। এখন পানি আইয়া বুরাইয়া নষ্ট খইরা গেছেগি।

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাহউদ্দিন কায়সার টিপু বলেন, তিনবারের বন্যার কারণে এ বছর সুনামগঞ্জে আমন চাষ এক মাস বিলম্বিত হয়েছে। এখন চতুর্থ দফা পানি এসে ক্ষেত ভাসিয়ে নিয়েছে। এখন ঢল ও বর্ষণে আমানক্ষেত তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকরা বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। পানি না নামলে এবার আমন উৎপাদন ব্যাহত হবে বলে জানান তিনি।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, চেরাপুঞ্জিতে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে আমাদের এখানে ঢলের পানি নেমে পানি বাড়ছে। সকালে সুরমার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার অবস্থায় আছে। এভাবে চললে চতুর্থ দফা বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা