kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কুষ্টিয়ার জয়ভোগা গ্রাম যেন মাদকের অভয়ারণ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১২:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কুষ্টিয়ার জয়ভোগা গ্রাম যেন মাদকের অভয়ারণ্য

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার জয়ভোগা গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে অবাধে মাদক ব্যবসা চলার অভিযোগ রয়েছে। আর এসব চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের প্রকাশ্য অবাধ বিচরণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে এলাকাবাসী। কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছে না। আর প্রশাসনও এ ব্যাপারে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, উপজেলার আল্লারদর্গা বাজার সংলগ্ন জয়ভোগা গ্রামে অবাধে মাদক ব্যবসা চলে আসছে। গ্রামটি মাদকসেবীদের নিরাপদ স্থান হওয়ায় এখানে নির্বিঘ্নে তারা প্রতিদিন বিকেল থেকে মধ্যরাত অবধি গ্রামের বিভিন্ন সড়কে ফেনসিডিল, ইয়াবা, টাফেনটা, গাঁজা ও হেরোইনসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবন করে চলেছে। তবে রাত বাড়তে থাকলে জয়ভোগা গ্রাম  মাদকের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসী জানায়, জয়ভোগ গ্রামের মৃত কালার ছেলে টগর আলী, আছান আলী, কাদের আলীর ছেলে আতের আলী, আছান আলীর ছেলে সোহাগ,  সাদু মন্ডলের ছেলে সাঈদ, মাথু মণ্ডলের ছেলে মস্তো মণ্ডল ওরফে মস্ত, খোদা বকসের ছেলে রফিকুল ও রফিকুলের ছেলে রুহুল দীর্ঘদিন ধরে জয়ভোগা গ্রামের স্কুলপাড়া, জামে মসজিদপাড়া ও আনিকুলের মাছের খামার এলাকায় প্রকাশ্যে বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করছে। যা এলাকায় মাদকের হাট নামে পরিচিতি রয়েছে। 

ওই এলাকার তালেবের দোকানসহ বেশ কিছু দোকানপাটেও চলছে মাদকের ব্যবসা। আর ওইসব দোকান থেকে মাদকসেবীরা ইয়াবা, ফেনসিডিল ও হেরোইন ক্রয় ও সেবন করছে। মাদক বিক্রেতা বা ব্যবসায়ীরা ইদানীং জয়ভোগা গ্রামের বাবলু কশাইয়ের বাড়ির ছাদে ও কামালের বাড়ির ভেতরে মাদক বিক্রির নিরাপদ আস্তানা গড়ে তুলেছে। 

এলাকাবাসী আরো জানায়, করোনাভাইরাসের কারণে ওই এলাকার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় সেখানকার কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতেও ইয়াবা তুলে দিচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা। জয়ভোগা গ্রামের সরকারি দলের প্রভাবশালী এক স্কুলশিক্ষক মাদক ব্যবসায়ীদের আশ্রয় দেওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষ তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস পায় না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী সচেতন গ্রামবাসীরা বলেন, এসব মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে  গোপনে বিভিন্ন দপ্তরে বলা হলেও অজ্ঞাত কারণে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। দৌলতপুর থানার এসআই সুব্রত ওই এলাকায় অভিযোগ তদন্তে গিয়ে ওইসব মাদক ব্যবসায়ীদের দ্বারা অপমানিত হয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 এ ব্যাপারে দৌলতপুর থানার ওসি নিশিকান্ত সরকার বলেন, এমন কোনো অভিযোগ পাইনি এবং জানাও ছিল না। এখন জানলাম, অভিযান চালানো হবে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা