kalerkantho

বুধবার । ৫ কার্তিক ১৪২৭। ২১ অক্টোবর ২০২০। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

শুভাঢ্যা ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২৩:৫৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শুভাঢ্যা ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

বাংলাদেশ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড শিপইয়ার্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবাদে কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বাংলাদেশ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড শিপইয়ার্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ।  বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় কেরানীগঞ্জ প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড শিপইয়ার্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এই সংবাদ সম্মেলন।

লিখিত বক্তব্যে ডকইয়ার্ড ও শিপইয়ার্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং শুভাঢ্যা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন বলেন, মিরেরবাগে ভাড়াটিয়া একজন মহিলা স্থানীয় কয়েকজনকে নানা ধরনের মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করছে বলে তাদের কাছে অভিযোগ আসছে। বিষয়টি তখন খুব একটা গুরুত্ব না দিয়ে তাদেরকে মীমাংসা করতে বলি। কিন্তু ওই নারীর বিরুদ্ধে অভিযোগের পাল্লাটা দিনের পর দিন ভারী হতে থাকে। প্রতারণাকারী ওই নারীর নাম আমি জানতাম না। কিন্তু নির্যাতিত একজন নারী যখন সরাসরি আমার কাছে ওই নারীর বিরুদ্ধে ব্ল্যাকমেলিংয়ের অভিযোগে বিচার দাবি করেন। তখন জানতে পারি ওই নারীর নাম মাহমুদা।

তিনি আরো বলেন, মাহমুদা এরই মধ্যে আমার ইউনিয়নের খেজুরবাগ এসপি মসজিদের পাশে একজনকে ব্ল্যাকমেইল করে ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন এবং একই এলাকায় শিল্পী নামে পরিচয় দিয়ে রাসেল, রমজান ও জয়নাল নামের তিন যুবকের কাছ থেকে ব্ল্যাকমেইল করে আরো ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন। মাহমুদার এ ধরনের কর্মকাণ্ডের কারণে খেজুরবাগ কানাপট্টির বাসিন্দারা তাকে ওই এলাকা থেকে বিতাড়িত করেন। এরপর তিনি আমার ইউনরয়নেরই মিরেরবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় উঠে। সেখানকার মানুষদের সাথেও তিনি প্রতারণা শুরু করে। তার কর্মকাণ্ড দেখে বাড়ির মালিক বাসা ছেড়ে দিতে বললে মাহমুদা ওই বাড়িওলাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। 

ইকবাল চেয়ারম্যান লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগ আমার কাছে আসতে থাকলে আমি বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদকে অবহিত করি। আমি পরবর্তিতে প্রতারণাকারী মাহমুদাকে আমার অফিসে আসতে বলি। মাহমুদা আমার অফিসে আসলে আমি তার সাথে এ সব প্রতারণা নিয়ে আলোচনা করে একপর্যায়ে তার কাছে জানতে চাই যে আপনি ফার্স্ট ফাইন্যান্স ব্যাংকের এমডি তুহিন রেজার নামে যে মামলা দিয়েছেন। আপনি তাকে চেনেন? মাহমুদা বলেন আমি দেখলে চিনতে পারবো। পরে মাহমুদাকে তুহিন রেজার কাছে নিয়ে গেলে তিনি তাকে চিনতে পারেননি। তাহলে কেন এমন মিথ্যা মামলা দিয়েছে জানতে চাইলে মাহমুদা জানান, স্থানীয় সোহেল ও সেলিমের প্ররোচণায় তিনি এসব করছেন। পরে আমরা এই মহিলার সম্পর্কে জানতে গিয়ে দেখতে পাই তাদের সাথে আরও রয়েছে সুজন, নুরুল ইসলাম, সোহেল, সাথী, রেখা,নাজমা, পারুল, মেহেদী, রিপন, মোহনা ও বিলকিসসহ আরো অনেকে। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকা ও কেরানীগঞ্জসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তখন বিষয়টি ভালোভাবে তদন্ত করার জন্য আমি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সাহেবকে জানাই। ওসি সাহেব বিষয়টি ইকুরিয়া ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক শাহাদাতকে দায়িত্ব দেন। এরপর প্রতারণাকারী মাহমুদা পরিদর্শক শাহাদাতের সাথে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আদালতে উপস্তিত হয়ে ২২ ধারায়  জবানবন্দি দেন। এ ঘটনার প্রায় এক মাস পর আমি জানতে পারি ওই প্রতারণাকারী নারী আমার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযোগ করেছেন আমি নাকি তাকে অপহরণ করেছি যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট একটি গল্প। আসন্ন উপনির্বাচনকে সামনে রেখে একটি মহল আমার জনপ্রিয়তায় হেয় করার জন্য ওই নারীকে ব্যবহার করছে। তারা জনগণের কাছে আমাকে ছোট করতে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, আমি এ ইউনিরয়নের দু’দুবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। আমি গণমাধ্যম বন্ধুদের কাছে এই মিথ্যা মামলার সুষ্ঠু বিচারের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি। 

সংবাদ সম্মেলনে জিনজিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাকুর হোসেন সাকু সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড শিপইয়ার্ড ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ হোসেন পলাশ, আওলাদ ডকইয়ার্ডের মালিক প্রিন্স আওলাদ, ব্রাদার ডকইয়ার্ড এর মালিক শাহ আলম বাহাদুর, মদিনা ডকইয়ার্ড এর মালিক মো. বাসারসহ বাংলাদেশ ডকইয়ার্ড অ্যান্ড শিপইয়ার্ড ওনার্সের অন্যান্যা মালিকগণ।

চলতি মাসের ৯ তারিখে নারী ও শিশু ট্রাইবুনাল আদালত-৪ এ মাহমুদা বাদী হয়ে শুভাঢ্যা ইউপি চেয়ারম্যানসহ সাত জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেনে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা