kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ১৪ সদস্যের পদত্যাগ

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২০:৪৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির ১৪ সদস্যের পদত্যাগ

অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি গঠনের ৭ মাস পর কমিটি গঠনে অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি থেকে সচিবসহ ১৪ সদস্য পদত্যাগ করেছেন। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জেলা বিএনপি সভাপতি বরাবর লিখিতভাবে এ পদত্যাগ পত্র জমা দেন তারা। এতে আবারও বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে রূপ নিল। ১৪ জন সদস্য পদ ত্যাগে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রীয়া দেখা দিয়েছে।

জানা যায়, চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। আহ্বায়ক কমিটি উপজেলার ৮টি ইউনিয়নে কমিটি গঠন করে। আহ্বায়ক কমিটি ও ইউনিয়ন কমিটিতে দুই বলয়ের নেতারা তাদের পছন্দ মতো লোকজন স্থান দেওয়া নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। বিরোধ মীমাংসায় গত ২০ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি এম নাসের রহমানের বাসভবনে বৈঠকে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুজিবুর রাহমান চৌধুরী, জেলা কমিটির সিনিয়র সভাপতি ফজলুল করিম মুহিত, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্ধের উপস্থিতিতে পুণরায় জেলা বিএনপির সহ সভাপতি এম এ মুকিতকে আহ্বায়ক, গোলাম কিবরিয়া শফিকে যুগ্ম আহ্বায়ক ও অলি আহমদ খানকে সদস্য সচিব করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়।

আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণার দু’দিন পরই অধিকাংশ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থান পাওয়ার অভিযোগ তুলে কমিটি ঘোষণার ২ দিন পরই ২৩ সেপ্টেম্বর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অলি আহমদ খান সদস্য মো. দুরুদ আহমদ, মো. সিরাজুল ইসলাম, মো. আবুল হোসেন, তোয়াবুর রহমান, আহমুদুর রহমান খোকন, আব্দুল মন্নান, লক্ষ্মী মোহন সিংহ, সফিকুল ইসলাম সুফি, মো. আব্দুল মন্নাফ, চান মিয়া, নজরুল ইসলাম মনির, সবুজ রহমান ও বীর বলসহ ১৪ জন সদস্য এক সাথে পদত্যাগ করেন।

এতে কমলগঞ্জসহ জেলা বিএনপিতে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। বিএনপির নেতাকর্মীরা হতাশা ব্যক্ত করেন। ১৪ জনের পদত্যাগে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আবারও চাঙ্গা হয়ে উঠলো বলে বিএনপির তৃণমূল কর্মীরা মনে করছেন।

নাম প্রকাশে এক বিএনপি নেতা বলেন, মূলত হাজী মুজিব ও নাসের রহমান এর বলয়ের নেতাকর্মীরা দুইভাবে বিভক্ত ছিল। দীর্ঘ চার বছর পর দুই নেতার বলয়দের নিয়ে আহ্বায়ক কমিটির গঠিত হলেও ২৩ সেপ্টেম্বর হাজী মুজিবুর রহমান গ্রুপ এর ১৪ জন পদত্যাগ করেছেন।

পদত্যাগকারী আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অলি আহমদ খান পদত্যাগ পত্রের কথা স্বীকার করেন বলেন, জেলা কমিটি যাদের নিয়ে আহ্বায়ক কমিটি করেছেন তাদের বেশীর ভাগই গত সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাই তাদের নিয়ে কমিটি গঠন মেনে নিতে পারি না। তাই পদত্যাগ করেছি।

পদত্যাগকারী আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক সদস্য সচিব দুরুদ আহমদ বলেন, গঠিত আহ্বায়ক কমিটির অনেকেই আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে সখ্যতা রেখে চলেন। তার সাথে বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাই আগামী নির্বাচনে তাদের নিয়ে কাজ করা যাবে না। তাই পদত্যাগ করেছি। পদত্যাগে দলের ক্ষতি হবে কিনা দলই ভালো বুঝবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গোলাম কিবরিয়া শফির সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, জেলা কমিটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে দিয়েছে। কয়েক জন ছাড়া করোরই রাজনৈতিক পরিচয় নাই।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পদত্যাগকারীদের অনেকেই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে দল থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন। তাই তাদের পদত্যাগে ব্যক্তিগত স্বার্থছাড়া দলে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা