kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সাইনবোর্ড-বগী মহাসড়ক : দুর্ভোগের ১৪ কিলোমিটার

মহিদুল ইসলাম, শরণখোলা (বাগেরহাট)   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৯:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সাইনবোর্ড-বগী মহাসড়ক : দুর্ভোগের ১৪ কিলোমিটার

বাগেরহাটের সাইনবোর্ড-বগী আঞ্চলিক মহাসড়কের শরণখোলা অংশের আমড়াগাছিয়া কাঠেরপুল থেকে তাফালবাড়ী শাম ব্যাপারীর ব্রিজ পর্যন্ত ১৪ কিলোমিটারের বেশিরভাগ স্থানেই সড়কের চিহ্ন নেই। দেখলে মনে হবে যেন ডোবা-নালা। তাছাড়া, সড়কের এই অংশের পুরোটাই দুইপাশ থেকে ধসে সরু হয়ে গেছে। এতে চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে যান চলাচল। পাশাপাশি দুটি যান অতিক্রম করার সময় প্রাণ ওষ্ঠাগত হয় চালক ও যাত্রীদের।

মাস দুয়েক আগে সড়ক ও জনপথ বিভাগ প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে প্রশস্তকরণের নামে সড়কের দুই পাশে নামমাত্র হেরিং বোন বন্ড (এইচবিবি) নির্মাণ করলেও তা কোনো কাজে আসেনি। বরঞ্চ ঝুঁকি আরো বেড়েছে। এখন দুর্ভোগের সড়কে পরিণত হয়েছে শরণখোলার এই অংশটি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাইনবোর্ড-বগী আঞ্চলিক মহাসড়রে ৫৬ কিলোমিটারের মধ্যে ৪২ কিলোমিটার ১৮ ফুট প্রশস্ত করে নির্মাণ করা হয় ২০১৬ সালে। কিন্তু একই সড়কের শরণখোলা অংশের আমড়াগাছিয়া কাঠের পুল থেকে তাফালবাড়ী শাম ব্যাপারীর ব্রিজ পর্যন্ত এই ১৪ কিলোমিটার মাত্র ১২ ফুট প্রশস্তের সেই পুরনো মাপেই রয়ে যায়। যা নিয়মিত যানবাহন চলাচলের ফলে ধীরে ধীরে সড়কের দুই পাশ ভেঙে আরো সরু হয়ে গেছে। ভাঙতে ভাঙতে বর্তমানে সড়কের কোনো কোনো স্থানে মাত্র পাঁচ-ছয় ফুট অবশিষ্ট রয়েছে।

শরণখোলা থেকে প্রতিদিন দিবা ও রাত্রিকালীন ঢাকা-চট্টগ্রাম-খুলনাসহ দুরপাল্লার প্রায় অর্ধশত যাত্রীবাহী পরিবহন চলাচল করে। এ ছাড়া পণ্যবাহীসহ স্থানীয় রুটের শত শত যানবাহন আশা যাওয়া করে এই সড়ক থেকে। এসব যানবাহন সারা পথ পাড়ি দিয়ে এখানে এসে পড়ে দুর্ভোগে। অনেক সময় ভারী যানগুলো সড়কের গর্তে আটকে যায়। পাশাপাশি অতিক্রম করার সময় খাদে পড়ে দুর্ঘটনারও শিকার হয়। 

শরণখোলা থেকে ছেড়ে যাওয়া দুরপাল্লার ফালগুণী পরিবহনের কাউন্টার পরিচালক গুলজার হাওলাদার, পর্যটকের হুমায়ুন কবির, মেঘনার আবু তালেব জানান, চার-পাঁচ বছর ধরে এই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের। শরণখোলার সড়কের নাম শুনলে ভালো কোনো পরিবহন এই রুটে দিতে চায় না মালিকরা। সড়কটি দ্রুত প্রশস্ত করার দাবি জানান তারা।

শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ-মোংলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি শামীম আহসান পলাশ জানান, সড়কের যা অবস্থা তাতে আঞ্চলিক মহাসড়ক বলতেও লজ্জা হয়। কর্তৃপক্ষকে বহুবার বলার পর সম্প্রতি সড়কের দুই পাশ তিন ফুট করে ছয় ফুট হেরিং বোন বন্ড দিয়ে প্রশস্ত করলেও তা কোনো কাজে আসেনি। আগের চেয়ে আরো খারাপ অবস্থা হয়েছে। সড়কটি ১৮ ফুট চওড়া না করলে ঝুঁকি থেকেই যাবে।

ধানসাগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম টিপু ও খোন্তাকাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। সড়কটি এখন এমন হয়েছে, একটি বাস বা ট্রাক চললে পাশ থেকে একটি ভ্যান চলারও জায়গা থাকে না। প্রতি বছর মেরামতের নামে সরকারের কোটি কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে। অথচ জনগণের দর্ভোগ কমছে না। এই যন্ত্রনা থেকে মুক্তি চান তারা।

বাগেরহাটের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, সড়কটি মেরামতের জন্য ইতিমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। আপাতত দুর্ভোগ লাঘবে দুই পাশ প্রশস্ত করণের জন্য ছয় ফুট হেরিং বোন বন্ড এবং মূল সড়কে সিল কোট করা হবে। অক্টোবরের মাঝামাঝি কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা