kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

অনলাইন ডেস্ক   

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১০:০৬ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপরে, কয়েকটি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত

অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে ফের দেশের কয়েকটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। এর ফলে নিম্নাঞ্চল পানিতে প্লাবিত হয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, তাদের পর্যবেক্ষণে থাকা ১০১টি স্টেশনের মধ্যে পানি বেড়েছে ৪৮টির। কমেছে ৫৩টির।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য বলছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার এবং আপার মেঘনা অববাহিকার সব নদ-নদীর পানি সমতল থেকে বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া  অফিসের তথ্য বলছে, লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় গতকালের ধারাবাহিকতায় আজও সারা দেশে বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও মাঝারি, কোথাও ভারি বর্ষণ হতে পারে।

এদিকে নীলফামারীতে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে গতকাল সকাল থেকে ডালিয়ায় তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বাড়তে শুরু করলে সন্ধ্যা ৬টায় বিপৎসীমা অতিক্রম করে। তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় ডিমলার নদীবেষ্টিত পূর্বছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ী, খালিসাচাপানী, ঝুনাগাছচাপানী ও পশ্চিমছাতনাই ইউনিয়নের ১৫ গ্রামের পাঁচ হাজার পরিবার বন্যার ঝুঁকিতে পড়েছে।

ডিমলার টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ময়নুল হক জানান, 'তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় আমার ইউনিয়নের আট গ্রাম বন্যার ঝুঁকিতে পড়েছে। এসব গ্রামের পরিবারগুলো সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।' ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, 'পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারাজের সব কটি গেট খুলে রাখা হয়েছে।'

রংপুরে গতকালও ভারি বর্ষণে নগরীর অলিগলিসহ বিভিন্ন সড়কে ও পাড়া-মহল্লায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। গতকাল রংপুরে ১১২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অফিস। বৃষ্টির পানিতে নগরীর শ্যামাসুন্দরী ও কেডি ক্যানেলে পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটুপানিতে নিমজ্জিত হয়ে আছে নগরীর বেশ কিছু ব্যস্ততম সড়ক ও নিম্নাঞ্চল।

রংপুর নগরীর স্টেশন রোডসংলগ্ন পীরপুর রোড আজাদ গ্যারেজের সামনে এবং আলমনগর খামারপাড়া, বাবুখাঁ, মুলাটোল থানা রোড, লালবাগ কেডিসি রোড, লালবাগ হাটসংলগ্ন গলি ও ধাপ এলাকার বেশির ভাগ নিচু রাস্তায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে পাড়া-মহল্লার সড়কে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় দুর্ভোগে পড়ে সাধারণ মানুষ।

এদিকে প্রবল বর্ষণ আর উজান থেকে আসা ঢলে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তার চরাঞ্চলে ফের বন্যা দেখা দিয়েছে। ডুবে গেছে নতুন করে রোপণ করা আমনের ক্ষেত। এ ছাড়া ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় গত এক সপ্তাহে শতাধিক ঘরবাড়িসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে ঈদগাহ মাঠ, মন্দির ও একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি এখন ভারতের ছত্তিশগড় ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল থেকে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

মৌসুমি বায়ুও বাংলাদেশের ওপর সক্রিয়। গত সোমবার সাগরে তৈরি হওয়া লঘুচাপের প্রভাবে ওই দিন থেকেই সারা দেশে বৃষ্টি হচ্ছে। গতকাল বুধবার পঞ্চগড়ে সর্বোচ্চ ২২০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস বলছে, লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত বহাল থাকবে।

এদিকে সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে ঝালকাঠির সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি বেড়েছে। গতকাল সকাল থেকে নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। এতে নিম্নাঞ্চলের কমপক্ষে ২০ গ্রামের বসতঘর ও বিভিন্ন স্থাপনায় পানি ঢুকেছে। এদিকে সকাল থেকে টানা বৃষ্টির কারণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। একদিকে বৃষ্টির পানি, অন্যদিকে জোয়ারের পানিতে শহর ও গ্রামের রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় পানি ভেঙে যাতায়াত করছে স্থানীয় বাসিন্দারা।

গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণে পঞ্চগড়ের নদ-নদীর পানি ফের বেড়েছে। পঞ্চগড়ের নিম্নাঞ্চল এরই মধ্যে প্লাবিত হতে শুরু করেছে। ডুবে গেছে রাস্তাঘাট। স্থানীয়রা বলছে, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার পথ না থাকায় এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পঞ্চগড়ের ইসলামবাগ, কায়েতপাড়া, রামেরডাঙ্গা, রাজনগর, খালপাড়াসহ নিচু এলাকাগুলোতে এখন হাঁটুপানি। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

সুনামগঞ্জে পর পর তিনটি বন্যা শেষে টানা বৃষ্টির কারণে এ বছর প্রায় এক মাস বিলম্বিত হয়েছে আমন চাষ। এখনো টানা বৃষ্টিতে পানি বাড়তে থাকায় বিভিন্ন এলাকায় নিমজ্জিত হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে আমনের ক্ষেত। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চতুর্থবারের মতো পানি বাড়তে থাকায় সুনামগঞ্জের তাহিরপুর, দোয়ারাবাজার ও বিশ্বম্ভরপুরের বেশির ভাগ আমনক্ষেত ডুবে যাচ্ছে।

এদিকে নওগাঁর আত্রাইয়ে পাঁচ মিনিটের টর্নেডোতে দুই গ্রামের ছয় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার পাঁচুপুর ইউনিয়নের জগদাশ গ্রাম ও পাশের বিশা ইউনিয়নের ইসলামগাতী গ্রামের ওপর দিয়ে এই টর্নেডো বয়ে যায়। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মাত্র পাঁচ মিনিটের টর্নেডোতে নাটোরের সিংড়ার ২ নম্বর ডাহিয়া ইউনিয়নের লালুয়া পাঁচপাকিয়া গ্রামের প্রায় ৩০টি বাড়ি লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা