kalerkantho

শুক্রবার । ১৪ কার্তিক ১৪২৭। ৩০ অক্টোবর ২০২০। ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

বোচাগঞ্জে অসময়ে তরমুজ চাষে সাফল্য

মো. রাসেল ইসলাম, বোচাগঞ্জ (দিনাজপুর)   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২০:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বোচাগঞ্জে অসময়ে তরমুজ চাষে সাফল্য

অসময়ে তরমুজ চাষ করেছেন দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার নাফানগর টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের এক প্রভাষকসহ চার ব্যক্তি। ইউটিউবে তরমুজের চাষাবাদ দেখে তরমুজ আবাদ শুরু করেন মো. হুমায়ুন জলিল নামে ওই শিক্ষক। দুই মাসে ব্ল্যাকবেবি তরমুজ চাষাবাদে ভালো ফলন হয় এবং বিক্রি করা যায়। এই তরমুজ বারো মাস আবাদ করা যায়।

জানা যায়, ব্ল্যাকবেবি তরমুজের জাতটি ভারতের। বাংলাদেশে প্রথম চুয়াডাঙ্গায় এর চাষ হয়। এরপর জয়পুরহাট, মেহেরপুর ও ঢাকার ধামরাইয়ের চাষিরাও এই তরমুজ চাষ করেন। এটি আগে থেকেই 'ব্ল্যাকবেবি’ নামে পরিচিত।

মো. হুমায়ুন জলিল জানান, শিক্ষকতার পাশাপাশি অবসর সময়ে বসে না থেকে ইউটিউব দেখে তরমুজ আবাদ করার পরিকল্পনা করি। আমরা চার জন মিলে এই তরমুজ আবাদের পরিকল্পনা করি। চলিত বছরের ফেব্রুয়ারির দিকে উপজেলার ২ নম্বর ইশানিয়া ইউনিয়ের বকুতলায় ৩ একর জমি লিজ নেই। পরে আমরা তরমুজ চাষা আবাদ শুরু করি। তরমুজ চাষাবাদ শুরুর পর আমাদের এখানে প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ জন নারী-পুরুষ কাজ করছেন।

তিনি বলেন, তরমুজ চাষাবাদে প্রথম ধাপে খরচ হয় প্রায় ৭ লাখ টাকা। বিক্রি করা হয় প্রায় ৮ লাখ টাকা। প্রথম ধাপে খরচ একটু বেশি হয়। কারণ মাচা করতে হয়। আমরা মাঠ থেকে প্রতি কেজি ৫০ টাকা দরে বিক্রি করি। ব্ল্যাকবেবি তরমুজগুলো সাধারণত ৩ থেকে ৪ কেজি ওজনের হয়। তরমুজ চাষাবাদ দেখাশোনার জন্য চুয়াডাঙ্গা থেকে একজন দক্ষ লোক আনা হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা থেকে আগত তরমুজ গাছের পরিচর্যাকারী ছামাদ আলী বলেন, আমি দীর্ঘ ১৮ বছর যাবত আমাদের এলাকায় তরমুজ চাষাবাদের কাজ করছি। আমাদের এলাকায় এই সব তরমুজ চাষাবাদ ব্যাপক হয়। তবে বোচাগঞ্জ উপজেলায় আমি প্রথম এসেছি। এখানে এই তরমুজ চাষা আবাদ কম দেখছি।

রাজু ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাসের সময় কলেজ বন্ধ থাকায় বাড়িতে বসে না থেকে তরমুজ আবাদের কাজ করছি। এখানে প্রতি মাসে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা আয় করতে পারছি। যাতে আমার পরিবারের জন্য অনেক উপকার হচ্ছে।

বোচাগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা আরিফ আফজাল জানান, বোচাগঞ্জ উপজেলায় সাড়ে ১৩ হেক্টর জমিতে ব্ল্যাকবেবি তরমুজের আবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে উপজেলার বকুলতলা, ডোহরা, নাফানগর এলাকার কৃষকেরা ব্ল্যাকবেবি তরমুজটি আবাদ করছে। ব্ল্যাকবেবি তরমুজের বীজ ভারত থেকে আসে।

তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো তরমুজ চাষি আমাদের সাথে যোগাযোগ করেনি। তাদের সমস্যার কথা আমাদেরকে বললে অব্যশই উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সকল ধরনের সহযোগিতা থাকবে।

বোচাগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ছন্দা পাল বলেন, উপজেলায় তরমুজ চাষে সফলতা দেখা দিয়েছে। যেহেতু এই অঞ্চলের জলবায়ু, মাটি তরমুজ চাষের উপযোগী সেহেতেু অন্যরাও তরমুজ চাষাবাদে এগিয়ে আসবে বলে আমি মনে করি। এতে কিছু নারী-পুরুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা