kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ধুনটে ভাঙনের ঝুঁকিতে ৯ সেতু

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১০:০৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ধুনটে ভাঙনের ঝুঁকিতে ৯ সেতু

গ্রামীণ জনপদের সেতু। দুই পাশে পাকা সংযোগ সড়ক। বদলেছে গ্রামীণ মেঠো পথ। উন্নত হয়েছে যোগাযোগব্যবস্থা। কিন্তু সেই সড়কগুলো এখন মারণফাঁদ। কোনোটির এক পাশ, আবার কোনোটির দুই পাশই ধসে পড়েছে সেতুর সংযোগ সড়ক। ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে সেতু। দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে যাতায়াত করছে নানা ধরনের যানবাহন ও পথচারীরা। এমন চিত্র বগুড়ার ধুনট উপজেলায় গ্রামীণ জনপদের ৯টি সেতুর। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সদরের সঙ্গে ১০ ইউনিয়নে যোগাযোগের সবগুলো রাস্তা পাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাস্তাগুলোতে থাকা নদী, নালা ও খালে ছোট-বড় সেতু নির্মিত হয়েছে। এতে যোগাযোগব্যবস্থার অনেক উন্নতি হয়েছে। কিন্তু এসব সেতুর মধ্যে ৯টি সেতু বর্তমানে ভাঙনের ঝুঁকি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ঝুঁকিপূর্ণ সেতুগুলোর মধ্যে বিলচাপড়ি, এলাঙ্গী, বরইতলী, শাকদহ, সোনারগাঁ, বানিয়াগাতি, গোসাইবাড়ি, সাতটিকরি, রুদ্রবাড়িয়া। বিলচাপড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে সেতুটি ভয়াবহ ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। 

সরেজমিন দেখা যায়, সেতুর সংযোগ সড়কের দুই পাশে রাস্তা ধসে গেছে। এ ছাড়া কোথাও গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও আবার সড়ক ভেঙে পড়েছে। সব মিলে সেতুগুলোর ওপর দিয়ে চলাচল নিরাপদ নয়। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয়রা দুর্ঘটার ঝুঁকি এড়াতে সতর্কতা সংকেত হিসেবে সংযোগ সড়কের ভাঙা স্থানে লাল নিশান উড়িয়ে দিয়েছেন। 

স্থানীয়রা জানায়, সেতুগুলোর এমন অবস্থা কেন হয়েছে জানতে গিয়ে অনেক তথ্যই উঠে এসেছে। সেতুগুলো নির্মাণকালে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। সেতুর দুই পাশে যে পরিমাণ মজবুত করে মাটি ভরাটের কথা ছিল তা করা হয়নি। এতে সেতুর দুই পাশে মাটি দেবে গিয়ে পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি গড়ে ধসে পড়ছে। সেতুর ওপরের পানি গড়ার জন্য ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের ক্ষতি হয়েছে। এসব সেতুর ওপর দিয়ে দৈনিক শত শত যানবাহন চলাচল করে। সেতুগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বিকল্প কোনো পথ না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু ব্যবহার করতে হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ধুনট উপজেলা প্রকৌশলী জহুরুল ইসলাম বলেন, অতিবর্ষণে সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়কের ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত সেতুগুলোর তথ্যচিত্র সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে। এ বিষয়টি নিয়ে উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয়সভায় আলোচনা করা হয়েছে। সংস্কারের অর্থ বরাদ্দের বিষয়টি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা