kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

পূর্ণাঙ্গ হচ্ছে কুলাউড়া আ. লীগের কমিটি, পদ পেতে নেতাকর্মীদের দৌড়ঝাপ

কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৫:১৭ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



পূর্ণাঙ্গ হচ্ছে কুলাউড়া আ. লীগের কমিটি, পদ পেতে নেতাকর্মীদের দৌড়ঝাপ

সিলেট বিভাগের আলোচিত সরকারি দলের (আওয়ামী লীগ) রাজনৈতিক সচেতন এলাকা হিসেবে অধিক পরিচিত মৌলভীবাজারের কুলাউড়া। দীর্ঘদিন পর আবারো নেতাকর্মীদের দৌড়ঝাপে সরগরম হয়েছে সরকারি দলের রাজনৈতিক ময়দান। সম্মেলনের দশ মাস পর কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি খুব শিগগিরই হচ্ছে।

কমিটির খসড়া তালিকায় স্থান পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগ ঘরানার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা। বিশেষ করে পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ নিজের স্থান করে নিতে অবসরপ্রাপ্ত সচিব থেকে শুরু করে ডাক্তার, ব্যবসায়ী, আইনজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষক, প্রবাসীরাও জোর লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন উপজেলা থেকে জেলা এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে। 
এছাড়া অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সাবেক অনেক নেতাকর্মীরাও জোরেসোরে লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন। রাজনৈতিক সচেতন হিসেবে এই কুলাউড়া দেশের মধ্যে আলোচিত একটি এলাকা। এখান থেকে যেমন এক সময় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় পদে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এক সময়ের ডাক সাইটের নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদ (বর্তমান সাংসদ, ঐক্যফ্রন্ট) আবার বর্তমানেও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদে নেতৃত্ব দিচ্ছেন শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল।

কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে দলীয় কোন্দলে বিগত সময়ে সংসদ, উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন নির্বাচনেও দলীয় প্রার্থীর চরম ভরাডুবির ইতিহাসও রয়েছে। তবে স্থানীয় ও তৃণমূল আওয়ামী লীগের শুভাকাঙ্খীরা মনে করছেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনে সৎ, ত্যাগী ও দলের জন্য নিবেদিত কর্মীরা কমিটিতে স্থান পেলে এবং অতীতের সকল বিভেদ ও গ্রুপিং দ্বন্দ্ব ভুলে গিয়ে একটি স্বচ্ছ ও আদর্শিক নেতৃত্বের কমিটি গঠন হলে কুলাউড়া তাঁর হারানো দিনের নৌকার ঐতিহ্য ও জৌলুস ফিরে পাবে। 

জানা যায়, ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সম্মেলনের পর অনেক নেতাকর্মী মৃত্যুবরণ করেন এবং অনেকে স্ত্রী-সন্তানসহ সপরিবারে প্রবাসে পাড়ি জমান। দীর্ঘদিন থেকে কমিটি না হওয়ায় এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে মতানৈক্য, গ্রুপিং ও অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে কুলাউড়া আওয়ামী লীগের ছন্দপতন হয় নেতৃত্বে। যার প্রভাব পড়েছে ১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনের পর। সেই নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী (সুলতান মনসুর) জয়ী হলেও ২০০১ সালের পর থেকে নৌকার ভরাডুবি ঘটে বিভিন্ন নির্বাচনে। কেন্দ্রের নির্দেশে প্রায় ১৫ বছর পরে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে ২০১৯ সালের ১০ নভেম্বর কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের বহুল প্রতীক্ষিত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। 

সম্মেলনে আওয়ামী লীগের তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেনের উপস্থিতিতে সম্মেলন এবং কাউন্সিল অধিবেশনে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেছার আহমদ এমপি ও সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিছবাউর রহমানের কাছে উপজেলার কাউন্সিলাররা কমিটি গঠনের দায়িত্ব দিলে জেলা নেতৃবৃন্দ কুলাউড়া আ. লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রেণুকে সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম সফি আহমদ সলমানকে সিনিয়র সহ-সভাপতি, যুব বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক, সাবেক এমপি ও সাবেক সভাপতি আব্দুল মতিনকে সদস্য ও সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মুক্তাদির তোফায়েলকে সদস্য করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করেন। তিন মাসের ভেতরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিলেও করোনা সংকটসহ বিভিন্ন কারণে গত দশ মাসে উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা সম্ভবপর হয়নি।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মোতাবেক সারা দেশে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটিগুলো পূর্ণাঙ্গ করতে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। যার প্রেক্ষিতে মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সম্পাদক চলতি মাসের ৩০ তারিখের ভেতরে কমিটি পূর্ণাঙ্গ করে তালিকা জমা দেবার নির্দেশনা প্রদান করেন।

এদিকে কুলাউড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি পূর্ণাঙ্গ করতে বর্তমান দায়িত্বশীলরা তৃণমূল থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের সাবেক নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও মতামতের ভিত্তিতে একটি আদর্শিক শক্তিশালী কমিটির খসড়া তালিকা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এই খসড়া কমিটির বিভিন্ন পদে স্থান পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন সম্ভাব্য পদপ্রত্যাশীরা। 

স্থানীয় এবং সাবেক একাধিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, ৭১ সদস্যবিশিষ্ট উপজেলা আওয়ামী লীগের অবশিষ্ট ৬৬ পদে ৮টি সহ-সভাপতি, ৩টি যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, ৩টি সাংগঠনিক সম্পাদক ও অন্যান্য সম্পাদকীয় পদ ও সদস্য পদে স্থান করে নিতে যারা আলোচনায় রয়েছেন তারা হলেন- অবসরপ্রাপ্ত সচিব মিকাইল শিপার, মো. আব্দুর রউফ, পৌর মেয়র শফি আলম ইউনুছ, সিনিয়র সাংবাদিক সুশীল সেনগুপ্ত, ডা. রুকন উদ্দীন আহমদ, মবশ্বির আলী, ফারুক আহমদ, অধ্যাপক মো. শাহজাহান, অরবিন্দু ঘোষ বিন্দু, গৌরা দে, শফিউল আলম শফি, অধ্যক্ষ মো. আব্দুল কাদির, ফজলুল হক ফজলু, মনসুর আহমদ চৌধুরী, অধ্যাপক সিএম জয়নাল আবেদীন, আব্দুর রব মাহবুব, আব্দুল মজিদ মনু, আলহাজ্ব মছদ্দর আলী, খোরশেদ আলী, আব্দুর রউফ তুতি, আব্দুল বারী, খালেদ পারভেজ বখ্স, আইয়ুব আলী, লুৎফুর রহমান চৌধুরী, মো. ইউনুছ আলী, কামাল হাসান, মো. আব্দুল মালিক, নুরুল ইসলাম খান বাচ্চু, খায়রুল ইসলাম সুন্দর, তফাজ্জল হোসেন চিনু, ফাতেহা ফেরদৌস চৌধুরী পপি, মো. মমদুদ হোসেন, বদরুল ইসলাম বদর, অধ্যক্ষ সিপার উদ্দিন আহমদ, আব্দুল মালিক, আকবর আলী সোহাগ, মনির আহমদ চৌধুরী, জাফর আহমদ গিলমান, এম এ রহমান আতিক, সেলিম আহমদ, আব্দুল আহাদ, সৈয়দ একেএম নজরুল ইসলাম, নছিমুর রহমান নসিম, নবাব আলী সাজ্জাদ খাঁন, ফয়জুর রহমান ফুল, আব্দুল আজিজ, তাজ খাঁন, মুহিবুল ইসলাম আজাদ, নজরুল ইসলাম, আব্দুস সহিদ, ময়নুল ইসলাম সবুজ, বিদ্যাসাগর গোয়ালা, সত্য নারায়ণ নাইড়–, সাইফুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান মান্না, মোস্তাক আহমদ, জামাল হোসেন, মোহাম্মদ আলী চৌধুরী তরিক, মো. জীবন রহমান, আহসান মিরাজ, সৈয়দ আশফাক হোসেন। 

উপজেলা আওয়া মীলীগের সাধারণ সম্পাদক আসম কামরুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় নির্দেশনা মোতাবেক অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দিয়ে দলের জন্য নিবেদিত ত্যাগী, প্রবীণ ও নবীনদের সমন্বয়ে উপজেলা পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। তৃণমূল এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতাদের মতামত নেয়া হচ্ছে নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি একেএম সফি আহমদ সলমান বলেন, দলের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করে যারা সৎ ও আদর্শবান থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে দলের দুর্দিনে রাজপথে থেকে দলের জন্য কাজ করেছেন তাদের এই কমিটিতে স্থান দেয়া হবে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের মতামতের ভিত্তিতে একটি স্বচ্ছ, সুন্দর ও আদর্শিক কমিটি গঠন করা হবে।  

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রেণু মঙ্গলবার বিকেলে মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে বলেন, পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া তালিকা তৈরির কাজ চলছে। দলীয় গঠনতন্ত্র মোতাবেক একটি স্বচ্ছ ও আদর্শিক কমিটি গঠন করা হবে। অনুপ্রবেশকারীদের বাদ দিয়ে যারা দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন এবং যারা সৎ ও নীতিবান থেকে রাজনীতি করেছেন সেই সকল নেতাকর্মীদের এই কমিটিতে রাখা হবে। এছাড়া যারা দলকে ব্যবহার করে সুবিধা নিতে চায় তাদেরকে কোনো অবস্থাতেই কমিটিতে স্থান দেওয়া হবে না। 

মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নেছার আহমদ এমপি মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ১৭ মিনিটে মুঠোফোনে কালের কণ্ঠকে জানান, কুলাউড়া আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির খসড়া তালিকা চলতি মাসের ৩০ তারিখের ভেতরে জেলায় পাঠানোর জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিটির পদ-পদবি পূরণের ক্ষেত্রে দলের জন্য নিবেদত সৎ ও ত্যাগী আদর্শবান কর্মীদের মূল্যায়নের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে উপজেলা কমিটির নেতাদের। কবে নাগাদ কুলাউড়া আ. লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উপজেলা কমিটি থেকে খসড়া তালিকা পাওয়ার পর আশা করছি এক মাসের ভেতরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা