kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

হাকালুকির জলে সূর্যের ডুবসাঁতার, মুগ্ধ পর্যটক

মো. মোস্তাফিজুর রহমান, হাকালুকি থেকে ফিরে   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ২০:৩৯ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



হাকালুকির জলে সূর্যের ডুবসাঁতার, মুগ্ধ পর্যটক

দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ হাওর হাকালুকির বিস্তীর্ণ স্বচ্ছ জলরাশি পর্যটকদের মুগ্ধতা বাড়িয়ে দিয়েছে। হাওরের খোলা বাতাসে  আর পড়ন্ত বিকেলের সোনালি সূর্যের আভা-নিমিষেই গড়িয়ে নামছে জলের বুকে- মুগ্ধতা ছড়িয়েছে। হাওরের মধ্যখানে নির্মিত ওয়াচ টাওয়ারকে ঘিরে ছোট-বড় ডিঙি নাও হাওরের মায়াবি সৌন্দর্যের দৃশ্যপট- একনজর দেখতে পর্যটকরা ভিড় জমিয়েছেন- এশিয়ার বৃহত্তর হাওর হাকালুকির বুকে।

করোনার দমবন্ধ পরিবেশ মানুষের জীবনকে একরকম দুর্বিষহ করে তুলছে। টানা ৬টি মাস ঘরবন্দি জীবন, কেমন যেন অশান্তি-অস্বস্তিকর। সব কিছু ধরাছোঁয়ার বাইরে। করোনা সংক্রমণের ভয়ে গেল ঈদুল ফিতর প্রত্যেকেই ঘরবন্দি সময় কাটিয়েছেন। কেউ কোথাও বেরোনোর সাহস পায়নি। তবে করোনার সব ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে মৌলভীবাজারে এশিয়ার বৃহত্তম হাওর হাকালুকির নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগে প্রতিদিন শত শত পর্যটক ভিড় করছেন জিরো পয়েন্ট।

বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পর্যটকদের উপস্থিতিতে মুখরিত হাকালুকি হাওর পাড়। বিশাল আকৃতির জলমগ্ন, জীববৈচিত্র্যে ভরপুর এই হাওর মৌলভীবাজারের কুলাউড়া, বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলায় তার শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত রয়েছে। এ সব উপজেলার সবক'টি স্থানই হাওরের নৈসর্গিক বিশালতার সৌন্দর্যে মুগ্ধতা এনে দিয়েছে। ঘিলাছড়ায় প্রতিবছর বর্ষা ও শীত মৌসুমে শতশত পর্যটকের আনাগোনায় মুখরিত হয়ে ওঠে।

বিস্তীর্ণ হাওরজলের মায়াবি আলিঙ্গন, নীরব জলের বুকে সূর্যের ডুবসাঁতার এসব দেখতেই মূলত পর্যটকদের এখানে আসা।

বিকাল। হাওরের মধ্যখানে বন বিভাগের পর্যবেক্ষণ চৌকি বা ওয়াচ টাওয়ারে উপচে পড়া ভিড়। অনেকে পর্যবেক্ষণ চৌকি থেকে লাফিয়ে পড়ছেন জলে। কেউ-বা আবার জল ছুঁয়ে কাটছেন সাঁতার। যাদের লাফালাফি-দাপাদাপি পছন্দ নয়- তারা চুপিসারে নৌকায় ঘুরে বেড়িয়েছেন জলের বুকে।

সন্ধ্যার আবছায়ায় দূরপারে যখন সূর্য নামে। বর্ষাভরা হাওর বুক তখন অন্যরকম মায়াবি সাজে একটু একটু করে বদলাতে থাকে। তখন সূর্যের লাল আভায় দূরের গাছ-গাছালি, দূর গ্রাম অস্পষ্ট রেখায় চিহ্নিত হয়ে পড়ে।

হাকালুকির বুকে সন্ধ্যা নামে। তখন হালকা অন্ধকার ভেদ করে মাঝিবাড়ির ডিঙি নৌকাগুলো সারাদিনের ক্লান্তি নিয়ে একে এক পাড়ে ভিড়তে থাকে। আগামীর কর্মের প্রত্যাশা নিয়ে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা