kalerkantho

শনিবার । ৮ কার্তিক ১৪২৭। ২৪ অক্টোবর ২০২০। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

খোয়াই নদী থেকে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে বাঁধ-বাড়িঘর

জাহাঙ্গীর আলম, চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ)   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৬:০৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



খোয়াই নদী থেকে বালু উত্তোলন, হুমকির মুখে বাঁধ-বাড়িঘর

উচ্চ আদালত ও সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কড়া নির্দেশনার পরও থামছে না অবৈধভাবে বালু উত্তোলন। কোনো ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই হবিগঞ্জের চুনারুঘাট এলাকার খোয়াই নদীগর্ভ থেকে শ্যালো মেশিনের সাহায্যে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী বালু কারবারিরা। নদীর পাড়ে বালু ফেলার ফলে নষ্ট হচ্ছে পাড়ের ফসলি জমির উর্বরতা। এমনকি ট্রাক, ট্রাক্টর, এস্কেবেটর মেশিন নদীর তীরে নেওয়ার জন্য নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্বিচারে কাটছে তারা। সেতুর এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ থাকলেও সেতুর আশপাশেই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। অবৈধ এই কারবার বন্ধে স্থানীয় প্রশাসন মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বারবার জরিমানা করলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। প্রভাবশালী এই বালু কারবারিদের ভয়ে স্থানীয় লোকজন কিছু বলতে সাহস পাচ্ছেন না।

সরজমিন ঘুরে দেখা গেছে, কাজিরখিল খোয়াই সেতু, পাকুড়িয়া খোয়াই সেতু, রাজার বাজার খোয়াই সেতু এলাকাসহ আমকান্দি ঝুঁকিপূর্ণ খোয়াই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ সংলগ্ন এলাকায় খোয়াই নদীর গর্ভে শতাধিক শ্যালো মেশিন বসিয়ে বালু তোলা হচ্ছে। উপজেলার খোয়াই নদীর সীমানায় ৩০টি পয়েন্ট দিয়ে নদীর পাড়ে ডুকছে ট্রাক্ট, ট্রাক্টর, এস্কেবেটর মেশিন। প্রতিদিন ট্রাক, ট্রাক্টর দিয়ে বালু নেওয়ায় খোয়াই নদীর দু’পাড়ের প্রতিরক্ষা বাঁধ রয়েছে হুমকির মুখে।

চুনারুঘাট উপজেলার খোয়াই নদীর বিভিন্ন অংশে ইজারা নেওয়া তিনজন ইজারাদারই সরকারি নিয়মবর্হিভূতভাবে বালু উত্তোলন করছেন। তারা বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুসরণ না করে বালু ও মাটি উত্তোলন করছেন। ফলে পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার বাঁধ, সেতু ও বাড়িঘর হুমকির মুখে পড়েছে।

এদিকে কাজিরখিল বাজার, পাকুড়িয়া, কাঁচুয়া ও রাজার বাজারে রাস্তার পাশে বালুর ডিপু করায় রাস্তায় সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। ২৫ টন বালু ভর্তি শতাধিক ড্রাম ট্রাক দিয়ে প্রতিদিন বালু পরিবহন করায় এলকার সড়ক-মহাসড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইজারাদারদের ক্ষুদ্র সার্থ রক্ষা করতে প্রতি বছর সড়ক মেরামত করতে সরকারের কোটি কোটি টাকার অপচয় হচ্ছে।

ভারতের খোয়াই এলাকা থেকে খরস্রোতা খোয়াই নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করে চুনারুঘাট উপজেলার বাল্লা সীমান্তের টেকেরঘাট কুলিবাড়ী এলাকা দিয়ে। কুলিবাড়ী থেকে শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ খোয়াই নদী পর্যন্ত ৩৬ কিলোমিটার নদীর দু-পাড়ের বাঁধ রক্ষা করতে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড খরচ করছে। অথচ প্রতিদিন প্রকাশ্যে এর ওপর দিয়ে চলাচল করছে মাটি বোঝাই ট্রাক, ট্রাক্টর। এলাকাবসীর অভিযোগ, হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তারা বালু ব্যবসায়ীদের সাথে জড়িত।

এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন পরিবেশবাদীরা। তবে দায় নিতে নারাজ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, অগোচরে কাঁটা হচ্ছে বাঁধ। তারা প্রভাবশালী তাই তাদের কিছু করা যাচ্ছে না।

চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সত্যজিত রায় দাশ কালের কণ্ঠকে বলেছেন, অবৈধভাবে যারা খোয়াই নদীর দু-পাড়ের বাঁধ কাঁটছে তাদের বিরোদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চুনারুঘাট সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিলটন চন্দ্র পাল বলেন, যারা বৈধ ইজারা নিয়ে ইজারার শর্ত ভেঙে নিয়মবহির্ভূতভাবে বালু উত্তোলন করছে তাদের বিরোদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অবৈধ বালু পাচারকারীদের বিরোদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

খোয়াই নদীর উভয় পাড়ের বাঁধে ট্রাক, ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ, খোয়াই নদী থেকে অবৈধভাবে শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু ও মাটি উত্তোলন বন্ধসহ রাস্তার পাশে অবৈধ বালুর ডিপোগুলো বন্ধ করতে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের দৃষ্টি কামনা করছেন এলাকার স্থানীয় ভুক্তভোগী জনগণ।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান কালের কণ্ঠকে বলেন, খোয়াই নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে নদী মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। সরকারের কঠোর নির্দেশনার পরেও বালু উত্তোলন বন্ধ করা যাচ্ছে না। স্থানীয় প্রসাশন ও জন প্রতিনিধি যৌথভাবে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে এগিয়ে আসতে হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা