kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

নষ্ট হচ্ছে বশেমুরবিপ্রবির কোটি টাকার আসবাব, নেই সংরক্ষণের উদ্যোগ

বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৫:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নষ্ট হচ্ছে বশেমুরবিপ্রবির কোটি টাকার আসবাব, নেই সংরক্ষণের উদ্যোগ

গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে হলের জন্য ক্রয়কৃত ৮০০ বেড খোলা আকাশের নিচে পড়ে আছে।

সোমবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনের অংশে প্রায় ৫০০টি এবং পেছনের অংশে প্রায় ৩০০টি স্টিল নির্মিত বেড ফেলে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন অযত্ন অবহেলায় পড়ে থেকে রোদ, বৃষ্টি এবং ধুলোবালির কারণে এসকল বেডের অধিকাংশতেই মরিচা পড়ে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও এ সকল বেডকে ঘিরে এতটাই ঘন ঝোপঝাড় তৈরি হয়েছে যে বেডগুলোর অবস্থান নির্ণয় করাই কঠিন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ এর জানুয়ারি থেকে ২০১৯ এর জুলাই পর্যন্ত পূর্বনির্মিত হলগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র স্বাধীনতা দিবস হল থেকে ২০টি বেডের চাহিদা জানানো হয়েছিল। সব মিলিয়ে কাগজ-পত্রে মাত্র ৮২০টি বেডের চাহিদা পাওয়া গেলেও প্রয়োজনের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে ক্রয় করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও ওয়ার্কস দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সাবেক উপাচার্য খন্দকার নাসিরউদ্দিন থাকাকালীন ২০১৭ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত দু'বছরে অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে নারায়ণগঞ্জ ডকইয়ার্ড থেকে ১টি ও খুলনা শিপইয়ার্ড থেকে ১০টি ওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে ২৬৭০টি হোস্টেল বেড ক্রয় করা হয়েছিল। যার মোট মূল্য ৪৪,৮২৭,৬২৫ টাকা। এতে দেখে যায় প্রতিটি বেডের গড় মূল্য প্রায় ১৬,৭৮৯ টাকা। এর মধ্যে ২০১৯ এর ২৮ মে এবং ২৬ জুন দু’দিনেই ১৯৪৫টি বেড ক্রয় করা হয়েছে। তবে এই সময়ে নতুনভাবে ৪০০ আসনবিশিষ্ট মাত্র দুটি হল নির্মাণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক প্রফেসর ড. এম. এ. সাত্তার বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। তৎকালীন উপাচার্য প্রফেসর ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন আমাকে যেখানে স্বাক্ষর করতে বলেছেন আমি সেখানে স্বাক্ষর করেছি। তবে তিনি যখন আমাকে অগ্রিম অর্থ প্রদানেরও নির্দেশ দেন তখন আমি প্রকল্প পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করি।

আসবাবপত্র সংরক্ষণের দায়িত্বে থাকা স্টোর কিপার মো. সাইফুলাহ রাজু বলেন, ইতিমধ্যে আমরা কাঠের বেঞ্চ, চেয়ার, টেবিলগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। তবে এখনও স্টোরের জায়গা পর্যাপ্ত নয়। স্টোরের জায়গা বৃদ্ধির জন্য প্রশাসনকে গত দু’বছরে বেশ কয়েকবার চিঠি প্রদান করেছি। স্টোরের জায়গা বৃদ্ধি পেলেই অবশিষ্ট আসবাবপত্র সঠিকভাবে সংরক্ষণ সম্ভব হবে।

প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বেড ক্রয় ও সংরক্ষণের ব্যাবস্থা না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ সংশিষ্টরা।

এই সকল আসবাবপত্রের প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. এ কিউ এম মাহবুব বলেন, এগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোপার্টি, জনগণের প্রোপার্টি, দেশের প্রোপার্টি। এগুলো এভাবে নষ্ট হতে দেখে আমি অত্যন্ত মনোক্ষুণ্ণ। রিজেন্ট বোর্ডের মিটিং এর মাধ্যমে এ সকল আসবাবপত্রের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা