kalerkantho

মঙ্গলবার । ৪ কার্তিক ১৪২৭। ২০ অক্টোবর ২০২০। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

সাভারে স্কুলছাত্রীসহ দুইজনকে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০৯:৫৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সাভারে স্কুলছাত্রীসহ দুইজনকে হত্যা

প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার জেরে সাভারে নিলা রায় (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে বখাটে এক যুবকের বিরুদ্ধে।

গতকাল রবিবার রাতে সাভার পৌর এলাকার পালপাড়া মহল্লায় গার্লস স্কুল রোডে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।

নিহত নিলা মানিকগঞ্জ জেলার বালিরটেক এলাকার নারায়ন রায়ের মেয়ে। সে তার পরিবার নিয়ে পৌর এলাকার কাজী মোকমা পাড়ার একটি বাড়িতে ভাড়ায় থেকে স্থানীয় অ্যাসেড স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ালেখা করতো।

জানা গেছে, অভিযুক্ত বখাটে ওই যুবকের নাম মিজানুর রহমান চৌধুরী (২৫)। সে একই এলাকার বাসিন্দা।

পুলিশ ও প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বখাটে মিজানুর প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল নীলাকে। প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় রবিবার রাত ৮টার দিকে স্থানীয় একটি হাসপাতাল থেকে বাসায় ফেরার পথে নীলা ও তার ভাই অলকের গতিরোধ করে বখাটে ওই যুবক। পরে তার ভাইকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দিয়ে কথা বলার বাহানায় নির্জন সড়কে নিয়ে নীলার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় মিজানুর। 

এসময় স্থানীয়রা নিলাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এনাম মেডিক্যাল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নীলার শরীরে পাঁচ-ছয় জায়গায় ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। তার মধ্যে ঘাড়ে, মুখে ও পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। সেই সাথে সাভার থানায় একটি মামলারও প্রক্রিয়া চলছে। 

তিনি আরো বলেন, প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখান হওয়ায় এ হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো বিষয় জড়িত আছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সব মাথায় রেখে তদন্ত করা হচ্ছে। 

তবে নিহতের পরিবার বলছে, প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে সাড়া না পেয়ে হত্যা করল ওই যুবক। অভিযুক্তকে আটকের পর মূল ঘটনা জানা যাবে। তাকে আটকের জন্য অভিযান চলছে।

এদিকে, সাভারে অপর এক ঘটনায় স্ত্রী রেবেকা বেগমকে হত্যার অভিযোগে তার স্বামী মহিদুলকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে গাজীপুরের কোনাবাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুুলিশ সাভার পৌর এলাকার উলাইল মহল্লার রাস্তার পাশ থেকে গত বৃহস্পতিবার সকালে রেবেকার (৪০) মরদেহ উদ্ধার করে। তার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে রেবেকার কাছে পাওয়া মুঠোফোনের সূত্র ধরে মহিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়ার পর মহিদুল পুলিশের কাছে সব খুলে বলেছেন।

পুলিশ জানায়, রেবেকা বেগমের বাড়ি সাভার পৌর এলাকার চাঁপাইন মহল্লায়। বছর দুয়েক আগে মহিদুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এটা তার দ্বিতীয় বিয়ে। মহিদুল গাজীপুরের কোনাবাড়িতে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। তিনি সেখানেই থাকতেন। তার বাড়ি ফরিদপুরের মধুখালী। বিয়ের কয়েক মাস পর মহিদুল জানতে পারেন তার স্ত্রী বিভিন্ন অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত। বিষয়টি জানার পর থেকে মহিদুল তার স্ত্রীকে সতর্ক করে আসছিলেন। এর পরেও রেবেকা তার মতো চলতে থাকেন। 

গত বুধবার রাতে বাড়ি ফেরার পথে মহিদুল তার স্ত্রীর মুঠোফোনে কল করে তার অবস্থান জানতে চান। রেবেকা তখন উলাইলে ছিলেন। মুঠোফোনে অবস্থান নিশ্চিত হয়ে মহিদুল সেখানে গিয়ে তার স্ত্রীকে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখতে পান। এসময় তিনি (মহিদুল) উত্তেজিত হয়ে রেবেকাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে কোনাবাড়ি চলে যান।

সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে রেবেকার কাছে পাওয়া মুঠোফোনের সূত্র ধরে রবিবার রাত ১০টার দিকে মহিদুলকে কোনাবাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি রেবেকাকে হতা করার কথা স্বীকার করেছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা