kalerkantho

রবিবার । ৯ কার্তিক ১৪২৭। ২৫ অক্টোবর ২০২০। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

চেয়ারম্যানের প্যাড জালিয়াতি করে আ. লীগ নেতার প্রতারণা

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ০১:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চেয়ারম্যানের প্যাড জালিয়াতি করে আ. লীগ নেতার প্রতারণা

কেরানীগঞ্জে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবু সিদ্দিক কর্তৃক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের প্যাড জালিয়াতি করে নানা ধরনের প্রতারণা করার অপরাধে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন তারানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ফারুক। পক্ষান্তরে ঘটনাটি মিথ্যা অপবাদ দিয়ে আ. লীগ নেতার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অপরাধে আবু সিদ্দিক কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় পাল্টা আরেকটি সাধারণ ডায়েরি করেন। থানা পুলিশ জিডি ও অভিযোগ সত্যতা যাচাইয়ের জন্য তদন্ত করে দেখছেন।

কেরানীগঞ্জের ৩নং তারানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ফারুক জানান, কেরানীগঞ্জের আটি বাজারের ছোট ভাওয়াল গ্রামের বিএনপি নেতা দেলোয়ার হোসেন (৬০) আমার ইউনিয়ন পরিষদের প্যাড অসৎ উদ্দেশ্যে জালিয়াতি করে গরিব কৃষক ও দিনমজুরকে বীজ ও ত্রাণ দেওয়ার কথা বলে গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করছিলেন।

স্থানীয়রা বিষয়টি জানার পর তারা আমাকে খবর দেন। প্রথমে আমি আমার ওই ওয়ার্ডের মেম্বার মো. সাদেককে ঘটনাস্থলে পাঠাই। সেখানে গিয়ে মেম্বার ঘটনার সত্যতা পান। এরপর আমি থানা পুলিশকে বিষয়টি জানাই। পরে আমরা ঘটনাস্থলে গেলে দেলোয়ার হোসেন জানান, গণস্বাক্ষর সম্পাদিত প্যাডটি স্থানীয় বির্তকিত আওয়ামী লীগ নেতা হাজী আবু সিদ্দিকের নিকট হস্তান্তর করেছেন। আবু সিদ্দিকই প্যাডটি অবৈধভাবে তৈরি করে দেলোয়ার হোসেনকে দিয়েছিলেন।

তিনি আরো জানান, সরকারি সহায়তা দেওয়ার কথা বলে প্রায় ৩০০ মানুষের কাছ থেকে তারানগর ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডে স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে। কাউকে বলা হয়েছে করোনার জন্য সরকারি ত্রাণ দেওয়ার কথা কাউকে বলেছেন কৃষি কাজে ভর্তুকির কথা।

এ ব্যাপারে মুঠোফোনে কথা হয় আ. লীগ নেতা আবু সিদ্দিকের সঙ্গে তিনি জানান, ছোট ভাওয়ার এলাকায় সাফা হাউজিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান এলাকার স্থানীয় মসজিদের সাত পাখি জমিসহ কৃষি জমি ভরাট করে ফেলছে। ওই এলাকার কৃষকরা এর প্রতিবাদে ঢাকা জেলা প্রশাসকের নিকট একটি স্মারকলিপি পেশ করার জন্য সাদা কাগজে গণস্বাক্ষর নিচ্ছিলেন। 

এখানে আমার কোনো জমি নাই আর ইউনিয়ন পরিষদের প্যাডও ব্যবহার হয় নাই। আমি শনিবার পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পর জানতে পারলাম ইউপি চেয়ারম্যান আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন। তখন আমি ওই গণস্বাক্ষরের কাগজের একটি ফটোকপি উদ্ধার করি। এরপর আমি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে গণস্বাক্ষরের কাগজ জমা দিয়ে এসেছি। এখানে আমার বিরুদ্ধে যা বলা হয়েছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজি মাইনুল ইসলাম পিপিএম-এর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তারানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। এরপর আ. লীগ নেতা আবু সিদ্দিক একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আমরা দুইটি অভিযোগই আমলে নিয়ে তদন্ত করে দেখছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা