kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৬ কার্তিক ১৪২৭। ২২ অক্টোবর ২০২০। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ইন্দুরকানীতে মাল্টা চাষে সম্ভবনার হাতছানি

ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৯:২২ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইন্দুরকানীতে মাল্টা চাষে সম্ভবনার হাতছানি

বাগানে ঢুকতেই যেন চারিদিকে সবুজের হাতছানি। সবুজ পাতায় বৃষ্টির ফোঁটা কখনো কখনো বাতাসে দোল খাচ্ছে তরতাজা গাছগুলো। সবুজ পাতা আর মাল্টার ভারে নুয়ে পড়েছে ডালগুলো। এ দৃশ্য দেখলে যে কারো চোখ জুড়িয়ে যাবে। সঠিকভাবে পরিচর্যা আর জৈবসার ব্যবহারের ফলে গাছগুলো দ্রুত বেড়ে উঠেছে মায়াবী ঢংয়ে। পতিত জমিতে বাগান করার পর জৈব সার ব্যবহার করে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত মিস্টি আর রসালো মাল্টার বাম্পার ফলন ঘটিয়ে এলাকায় সবার নজর কেড়েছেন তারা। পিরোজপুরের অবসরপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দুই যুবককে নিয়ে র যৌথ প্রচেষ্টায় দক্ষিণ ইন্দুরকানী গ্রামে করেছেন এই মাল্টার বাগান।

যাদের প্রচেষ্টায় এই মাল্টার বাগান তারা হলেন- ইন্দুরকানী উপজেলার অবসরপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি অফিসার গাজী আব্দুল জব্বার এবং তার বেকার দুই ভাতিজা শাহিন গাজী এবং সাংবাদিক শাহাদাত বাবু।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের পিছনে ৫০ শতাংশ পতিত জমিতে চাচা ভাতিজা মিলে ২০১৭ সালে শুরু করেন মাল্টার চাষ। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রদর্শনীর জন্য প্রথমে তাদেরকে ১০০টি বারি-১ জাতের চারা দেওয়া হয়। এরপর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আরো ১৫০টি বারি-১ জাতের চারা তারা সংগ্রহ করেন। বাগান তৈরি করতে প্রথমে লাখ টাকার মত খরচ হয় তাদের। তবে এখন প্রতি বছর বাগান রক্ষণাবেক্ষণসহ আনুসঙ্গিক ২০ হাজার টাকার মত খরচ পড়ে তাদের। এ বাগানে মাল্টার পাশাপাশি রয়েছে সাথী ফসল। সাথী ফসল হিসেবে পেপে, লাউ, চাল কুমড়া, ঝিঙ্গা ও করল্লার চাষ করেছেন তারা। এ ছাড়া এর সাথে করা হয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের চাষ। 

মাল্টার প্রদর্শনী বাগান এবং টিভিতে কৃষি ভিত্তিক অনুষ্ঠানে মাল্টার উপর প্রামান্য চিত্র দেখে বাগান তৈরির ব্যাপারে আগ্রহ জন্মায় তাদের। এরপর উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে তারা বাগান করেন। চারা রোপণের মাত্র দুই বছরের মাথায় গাছে ফলন ধরে। প্রথম বছর তারা প্রায় অর্ধলাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেন। এবছর এখন পর্যন্ত ১০ মণ মাল্টা বিক্রি করতে পেরেছেন। তবে ফলন কয়েকগুন বেশি হওয়ায় দেড় লাখ টাকার মত আয় হবে বলে জানান বাগান মালিকরা।

প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মাল্টার বাগান দেখতে আসেন বেকার যুবকরা। তাদের সফলতা দেখে এলাকার অনেকেই মাল্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, মাল্টা বারি-১ উচ্চ ফলনশীল সুস্বাধু ফল। মাল্টা গাছে সাধারণত ফেব্রুয়ারি মাসে ফল ধরে। এটি পরিপক্ব হয়ে সেপ্টেম্বরের দিকে। ফুল আসা থেকে শুরু করে ফল পাকতে সময় লাগে প্রায় মাস ছয়েকের মতো। ফলন ভালো হলে প্রতিটি গাছ থেকে বছরে প্রায় ৩০০টির মতো মাল্টা পাওয়া যায়।

বাগান মালিক অবসরপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি অফিসার গাজী আব্দুল জব্বার প্রতিবেদককে জানান, দেশি জাতের এ মাল্টা বেশ বড় এবং খেতে রসালো ও মিষ্টি। প্রতি বছর ভাদ্র থেকে আশ্বিন মাসের মধ্যে ফল বিক্রি করা হয়। ক্রেতা-দোকানির কাছে আমদানি করা হলদে রঙের চেয়ে এখানকার সবুজ মাল্টার কদর বেশি। আগামীতে এর ফলন আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশাবাদি তারা।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়রা সিদ্দিকা জানান, এ অঞ্চলের মাটি মাল্টা চাষের জন্য যথেষ্ঠ উপযোগী। ফলন ভালো হওয়ায় এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবছর মাল্টার বাগান বৃদ্ধি পাচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা