kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৩ কার্তিক ১৪২৭। ২৯ অক্টোবর ২০২০। ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

কচি হাতে সংসারের হাল

ফিরোজ গাজী, যশোর   

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১৪:০৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কচি হাতে সংসারের হাল

১৪ বছর বয়সী মুহিম বিল্লাহর চাহনিতে নেই কৈশোরের উচ্ছ্বলতা, পরিবর্তে ভর করে আছে একরাশ ক্লান্তি আর বিষাদ। সাধারণ আর দশটা কিশোরের মতো তার জীবন নয়।

মাত্র ১২ বছর বয়সে সে শক্ত হাতে আঁকড়ে ধরেছে সংসারের হাল। ব্যাটারিচালিত অটোভ্যান চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের মুখে তুলে দিচ্ছে খাবার। অসুস্থ মা-বাবা, ছোট দুই ভাই-বোনের দায়িত্ব তুলে নিয়েছে ছোট্ট কাঁধে। যে বয়সে পড়াশোনা, খেলাধুলা কিংবা ছোটাছুটি করার কথা সে বয়সেই মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণির ক্লাস ছেড়ে উপার্জনের আশায় রাস্তায় নামতে হয়েছে তাকে। সংসারের দায়িত্ব পালন করতে তখন থেকেই যাত্রী, মালপত্র নিয়ে এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে ছুটতে হচ্ছে অবিরত।

যশোর সদর উপজেলার রাজারহাটে কথা হয় মুহিম বিল্লাহর সঙ্গে। তখন যাত্রী নিয়ে সে গন্তব্যে যাচ্ছিল। মুহিম জানায়, তার বাবা অসুস্থ। কোনো কাজ করতে পারে না। এ কারণেই অটোভ্যান চালায় সে।

পড়াশোনা করার ইচ্ছা হয় কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে বলে, 'আব্বা অসুস্থ, ছোট ছোট ভাই-বুন আছে। সংসারের খরচ চালাতি হয়। তাই ইচ্ছা থাকলিও উপায় নেই'।

ভ্যান চালিয়ে দিনে ১০০ থেকে ২০০ টাকা আয় করে মুহিম। বলে, 'আরো বেশি আয় করতি পারতাম। কিন্তুক ব্যাটারি নষ্ট। অল্প ভাড়া খাটলিই চার্জ ফুরোয় যায়। এই জন্যি বেশি ভাড়া খাটতি পারিনে। আবার নতুন ব্যাটারি লাগানোর টাকাও নেই'।

যশোর সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের পুকুরকুল গ্রামে ভাড়াবাসায় বসবাস করে মুহিম। সেখানে গিয়ে কথা হয় তার মা হোসনে আরা বেগমের সঙ্গে।

কিশোর মুহিমের ভ্যান চালিয়ে উপার্জনের বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, 'উপায় যদি থাকইত তালি দুধির বাচ্চারে কি আয় করতি পাঠাতাম? টাকার কষ্ট না থাকলি কি এইটুক ছেলেরে কেউ ভ্যান চালাতি পাঠায়?'

তিনি জানান, তাঁর তিন ছেলে-মেয়ে। তাদের মধ্যে মুহিম বিল্লাহ বড়। তার বয়স এখন ১৪। মেজো ছেলে তামিম (৮) একটি মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। ছোট মেয়ে ফারিহার বয়স সাত বছর। মুহিমের বাবা আনোয়ার হুসাইন ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালাতেন। দুই বছর আগে তিনি হার্টের সমস্যা ও ডায়াবেটিসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন ইজিবাইক বিক্রি করে তাঁর চিকিৎসা করা হয়। কিছুটা সুস্থ হলেও এখন তেমন কোনো কাজ করতে পারেন না। তবে তিনি ডিমের ব্যবসা করেন। ছেলের উপার্জন আর ডিম বিক্রির টাকায় মুহিমের অসুস্থ বাবার ওষুধ কেনা, ঘর ভাড়া দেওয়াসহ সংসারের যাবতীয় খরচ চলে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা