kalerkantho

সোমবার । ১০ কার্তিক ১৪২৭। ২৬ অক্টোবর ২০২০। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

যমুনার ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে ধুনটের দুই বিদ্যালয়

ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি    

২০ সেপ্টেম্বর, ২০২০ ১০:০৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যমুনার ভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে ধুনটের দুই বিদ্যালয়

যমুনার ভাঙনে তিনবার বিলীন হয়েছে বিদ্যালয়টি। সর্বশেষ বিলীন হয়েছে ২০১৯ সালে। ধীরে ধীরে চলে গেছে শিক্ষার্থীরাও।

যে বিদ্যালয় প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীর কোলাহলে মুখরিত থাকত, সেখানে এখন আছে মাত্র ৫২ জন শিক্ষার্থী। চারজন শিক্ষক থাকলেও একজনকে পারিবারিক মামলার কারণে বরখাস্ত করা হয়েছে।

বার বার ঠিকানা ও শিক্ষার্থী হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে ১৩৫ বছরের পুরোনো বগুড়ার ধুনট উপজেলার ভাণ্ডারবাড়ি ইউনিয়নের বৈশাখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি। একই এলাকার ৫০ বছরের পুরানো বৈশাখী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টির চিত্র অভিন্ন।

জানা গেছে, বৈশাখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়েছে ১৮৮৫ সালে। এ উপজেলার প্রথম প্রাথমিক বিদ্যালয় এটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি কয়েক দফা যমুনায় বিলীন হয়েছে। বার বার ঠিকানা পরিবর্তন করে বিদ্যালয়টি।

প্রায় ২৬ বছর আগে যমুনার বুকে জেগে ওঠে বৈশাখী চর। বিদ্যালয়টি খুঁজে পায় হারানো ঠিকানা। ওই চরে ২০১১ সালে বিদ্যালয়টি স্থানান্তরিত হয়। ওই সময় ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত বৈশাখী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়টিও একই স্থানে নেওয়া হয়। সমস্য সংকটের মাঝে সেখানেই বিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলতে থাকে। কিন্ত সেখানেও বেশিদিন টিকতে পারেনি বিদ্যালয় দুটি।

নদীর এ কূল ভাঙে,ও কুল গড়ে-এই তো নদীর খেলা।  ভাঙনের সেই খেলায় আবারো যমুনায় বিলীন হয়  দুইটি  বিদ্যালয়। একইসঙ্গে বিলীন হয় জনবসতিও। এ অবস্থায় ২০১৯ সালের জুন মাসে বিদ্যালয় দুটি চর থেকে চার কিলোমিটার দূরে বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের পশ্চিম পাশে বানিয়াজান চল্লিশপাড়ায় স্থানান্তর করতে হয়েছে। সেখানে টিনের ঘর তুলে কোনোভাবে চালু রাখা হয় দুটি বিদ্যালয়ের কার্যক্রম।

সরকারি পৃষ্টপোষকতার অভাবে গ্রামের লোকজন কোনোভাবে কাদা-পানির ভেতর নিজস্ব উদ্যোগে বিদ্যালয়ের ঘর দাঁড় করে রেখেছেন। সেখানে পড়ালেখার কোনো পরিবেশ নেই। নেই যাতায়াতের পথ। কাদা-পানি পার হয়ে বিদ্যালয় দুটিতে যাওয়াও অসম্ভব। এমনই হাজারো সমস্যা সংকটের মাঝে পাঠদান শুরু হলেও দুটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কোথায় পড়ালেখা করবে এ নিয়ে অভিভাবকরা অনিশ্চয়তায় রয়েছে। 

বৈশাখী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম জানান, যে চরের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিদ্যালয়টি চলত, নদীভাঙনে তারা অন্যত্র চলে গেছে। ফলে শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। অন্য গ্রাম থেকে কিছু ছাত্র সংগ্রহ করে এতদিন বিদ্যালয়টি চালানো হয়েছে। কিন্তু এখন তারাও আর আসতে চাইছে না। বিদ্যালয়টির শিক্ষার পরিবেশ ফিরে পেতে সরকারি পৃষ্টপোষকতা দরকার।

বৈশাখী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হক বলেন, 'স্কুলটি যমুনার ভাঙনের সময় সরে নিয়ে বানিয়াজান চল্লিশ পাড়ায় আনা হয়েছে। শিক্ষকদের বেতন এবং সভাপতি ও এলাকাবাসীর অনুদানে টিনের তৈরি একটি ঘর তোলা  হয়েছে। বিদ্যালয় খোলার ঘোষণা হলে কীভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাব চিন্তায় আছি। এ জন্য সরকারি আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন।'

ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, 'যমুনা নদীর ভাঙন জনপদে অবস্থিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন বিষয়ে সরকার বেশকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। সরেজমিন পরিদর্শন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সংকটের নিরসন করা হবে।'

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা